স্টাফ রিপোর্টার:সপ্তাহে মাত্র দুই দিন অফিস করার অভিযোগ উঠেছে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার ধীমান সেনের বিরুদ্ধে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সেবা প্রত্যাশিরা।
দলিল লেখক ও সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, সাবরেজিস্ট্রারের অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে দলিল সম্পাদনা ও নিবন্ধনের কাজে দীর্ঘ সূত্রতা তৈরি হচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষ কর্মকর্তা কখন অফিসে থাকবেন এবং কখন দলিল সম্পাদন হবে—এ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ছেন। এতে সময় ও অর্থ দুটিই অপচয় হচ্ছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, সাবরেজিস্ট্রার ধীমান সেন অফিসে নেই। তার পাশের কক্ষে বসে আছেন মোহরার (নথি রক্ষক) জল্পনা রানী দাস ও রুনু প্রভা দাস। ধীমান সেন অফিসে আছেন কিনা এমন প্রশ্ন করলে তারা জানান, সাবরেজিস্ট্রার সপ্তাহে দুই দিন অফিস করেন। প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার কার্যালয়ে আসেন তিনি। বাকি সময় কখনো লক্ষ্মীপুর, আবার কখনো চট্টগ্রামে থাকেন।
কার্যালয়ের বাইরে অপেক্ষমাণ সেবাপ্রত্যাশী ইলিয়াস ও আতর জামান জানান, জমি কেনাবেচার দলিল সম্পাদনের জন্য অনেক আগেই প্রস্তুতি নিয়ে সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ে এসেছেন তারা। কিন্তু কর্মকর্তা অফিসে না থাকায় পুরো প্রক্রিয়া আটকে যাচ্ছে। বিশেষ করে নির্ধারিত তারিখে দলিল সম্পাদন করতে না পারায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে বিরোধ এবং আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। তারা জানান, তিন দিন ধরে অফিসে এসে ফিরে যেতে হয় তাদের।
আরেক সেবাপ্রার্থী ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘অফিসে এলে শুনি সাবরেজিস্ট্রার নেই, দলিল নিবন্ধন হবে না।মানুষের এই ভোগান্তি দেখার কেউ নেই? এভাবে আর কত দিন আসব?’
কয়েকজন দলিল লেখক জানান, সাবরেজিস্ট্রারের অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে কার্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। একদিকে সরকারি সেবা নিতে আসা মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে, অন্যদিকে দলিল নিবন্ধন-সংক্রান্ত কাজেও জট তৈরি হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুজন দলিল লেখক অভিযোগ করেন, সাবরেজিস্ট্রার তার ইচ্ছামতো অফিস করেন। মন চাইলে আসেন, না চাইলে আসেন না। তাদের দাবি, সপ্তাহে যে দুই দিন তিনি অফিস করেন, ওই দুই দিনে প্রায় দুই শতাধিক দলিল নিবন্ধন করা হয়। প্রতিটি দলিলের জন্য তিনি দুই হাজার টাকা করে নেন বলেও অভিযোগ করেন তারা। কোনো দলিলে জটিলতা থাকলে টাকার অঙ্ক আরো বেড়ে যায় বলে দাবি করেন তারা।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে সপ্তাহে দুই দিন অফিস করার কথা স্বীকার করে ধীমান সেন। তিনি জানান, বাকি তিন দিন অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকেন তিনি। তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন সাবরেজিস্ট্রার ধীমান।
রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, ‘সাবরেজিস্ট্রার ধীমান সেন সপ্তাহে দুই দিন অফিস করেন বলে জেনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’
লক্ষ্মীপুর জেলা সাবরেজিস্ট্রার নীরোদ বরণ বিশ্বাস বলেন, ‘প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত অফিস করা বাধ্যতামূলক। তিনি কেন অনিয়মিত অফিস করছেন, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মেঘনার তীর 











