ঢাকা ১২:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে : রাষ্ট্রপতি প্রথম ফ্লাইট দেশে ফিরলেন ৪৪৫ জন হাজী লক্ষ্মীপুরে চামড়া বিক্রি করতে না পেরে মাটিতে পুঁতে ফেলেছে কর্তৃপক্ষ সমাজ পুর্নগঠনে সাংবাদিকদের সহযোগীতা চাইলেন সমাজকল্যানমন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী শনিবার ৭৪ দিন পর দেশে ফিরল ইরাকে নিহত প্রবাসী হবি মিয়ার মরদেহ, আহাজারি লাউয়াছড়ায় তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত, সিলেটের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ লক্ষ্মীপুরে মেঘনার পাড় যেন ‘মিনি কক্সবাজার’ জনসমুদ্র কমলনগরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঈদ পুনর্মিলনী ও মশাল মিছিলের ভিডিও ভাইরাল সমঝোতায় পৌঁছেছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র, অপেক্ষা ট্রাম্পের

রায়পুরের মেঘনায় ইলিশ নেই , হতাশ জেলে পরিবার

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ০৬:১৩:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • 36

তাবারক হোসেন আজাদ, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর): লক্ষ্মীপুরে বিভিন্ন নদ-নদীতে মাছের পরিমাণ কমে যাওয়ায় চরম হতাশায় পড়েছে জেলেরা। বিশেষ করে মৌসুমের এই সময়ে আশানুরূপ ইলিশ না পাওয়ায় শূন্যহাতে ঘাটে ফিরছেন তা।

জেলার মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীতে দিন-রাত জাল ফেলেও কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ায় জেলে পরিবারগুলোতে ( প্রায়৭ হাজার জেলে) দেখা দিয়েছে আর্থিক অনিশ্চয়তা। এতে একদিকে যেমন কমে গেছে জেলেদের আয়, অন্যদিকে স্থানীয় মাছঘাটগুলোতেও দেখা দিয়েছে ক্রেতা ও মাছের সংকট। মাছঘাটগুলো এখন মাছশূন্য শুনশাননীরবতা বিরাজ করছে।

জেলেরা জানান, এখন আর আগের মতো নদীতে মাছ নেই। আগে যে পরিমাণ ইলিশ পাওয়া যেতো, পাশাপাশি একই পরিমাণ অন্যান্য মাছও পাওয়া যেতো। এবার সব ধরনের মাছ ধরা পরছে কম।

জেলেদের ভাষ্যমতে, মার্চ-এপ্রিল দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে নদীতে নেমে যেই পরিমাণ মাছ পাওয়ার আশা করেছিলেন, তা না পেয়ে হতাশ। সমুদ্র থেকে এখনো নদীতে তেমন মাছ আসেনি। যার কারণে জেলে নৌকাগুলো নদী থেকে আশানুরূপ মাছ পাচ্ছে না। এক একটি নৌকা ৩-৪ জন জেলে নিয়ে নদীতে রাতভর কাটিয়ে, ডিজেল পুড়িয়ে ২-৩টি ইলিশ নিয়ে ফিরতে হয় এবং কোনো দিন আরও কম পান।

অন্যদিকে মেঘনা নদীতে কিছু জেলে নির্বিচারে জাটকা ও পোনা নিধন করছে। প্রশাসন থেকে নজরদারি করা হলেও ফাঁকফোঁকর দিয়ে জাটকা নিধন হচ্ছেই। সম্প্রতি অভিযান চালিয়ে কয়েকজন জেলেকে অর্থদণ্ড দেয়া হয় এবং জাল পুড়িয়ে দেয় প্রশাসন। এসব জাটকা প্রকাশ্যে বাজারেও বিক্রি হয়। জাটকা নিধনের কারণে বড় ইলিশের পরিমাণ নদীতে কমে যাওয়ার মূল কারণ বলে মনে করেন ক্রেতারা।

বর্তমানে নদীতে মাছের উপস্থিতি অনেক কম থাকায় প্রতিদিন তেল, বরফ ও শ্রমিক খরচ বহন করেও ট্রলারগুলো লোকসানের মুখে পড়ছে। কেউ কেউ ধারদেনা করে নদীতে গেলেও মাছ না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন।

রায়পুরের চরবংশীর চান্দারখাল এলাকার নদীর জেলে পরান মাঝি, শওকত মাঝি ও মিলন মাঝি জানান, নদীতে এখন ছোট ছোট মাছও আগের মতো মিলছে না। ইলিশের আশায় গভীর নদীতে গেলেও জালে উঠছে খুবই কম মাছ। এতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিবার নিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।

হায়দরগন্জ মৎস্য আড়তদার মো. ইউসুফ আলী জানান, নদীতে স্রোত ও পানির অবস্থার পরিবর্তনের কারণে মাছের চলাচল আগের তুলনায় কমে গেছে। অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণেও মাছ গভীর সাগরের দিকে চলে যাচ্ছে। এই মেঘনার পাড়ে সাজু মোল্লার মাছ ঘাট, চান্দারখাল, হাজিমারা ও মাষ্টার ঘাটসহ ৭টি ইলিশের আড়ত আছে। সবাই এখন গড়ে ৫-৭ হাজার টাকার বেশি ইলিশ পান না।

মেঘনা নদীর সাজু মোল্লার ঘাটের আড়তদার মো. সোহেল জানান, ঘাটে ইলিশ কম আসায় বাজারেও দাম বেড়েছে। মাঝারি আকারের ইলিশও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। ৬শ থেকে ৭শ গ্রামের ইলিশ ২ হাজার ৩শ-২ হাজার ২শ টাকা কেজি, ৮শ-৪শ গ্রামের ইলিশ প্রায় ৩ হাজার টাকা কেজি এবং ১ কেজির ইলিশ ৩ হাজার টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ ক্রেতারা বাজার থেকে ফিরে যাচ্ছেন মাছ না কিনেই।

স্থানীয় মৎস্য সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ পরিবর্তন, নাব্য সংকট এবং আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবের কারণেও মাছের পরিমাণ কমে যেতে পারে। নদীতে মাছের উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজন নিয়মিত অভিযান, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জেলেদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা।

রায়পুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার মোঃ মাহফুজুল হাসনাইন জানান, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীতে প্রাকৃতিকভাবে এখন মাছ কম। এসব নদীতে এখন বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় লবণাক্ততা কাটেনি। অধিক বৃষ্টি হলে নদীর লবণাক্ততা কমে যাবে। ইলিশ মাছের সঙ্গে মিঠাপানির একটা সম্পর্ক থাকে। আশ্বিন-কার্তিক মাসের দিকে বৃষ্টিপাত বাড়লে ইলিশ বাড়ার সম্ভাবনা আছে।

Tag :
লেখকের তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে : রাষ্ট্রপতি

রায়পুরের মেঘনায় ইলিশ নেই , হতাশ জেলে পরিবার

আডেট সময় ০৬:১৩:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

তাবারক হোসেন আজাদ, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর): লক্ষ্মীপুরে বিভিন্ন নদ-নদীতে মাছের পরিমাণ কমে যাওয়ায় চরম হতাশায় পড়েছে জেলেরা। বিশেষ করে মৌসুমের এই সময়ে আশানুরূপ ইলিশ না পাওয়ায় শূন্যহাতে ঘাটে ফিরছেন তা।

জেলার মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীতে দিন-রাত জাল ফেলেও কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ায় জেলে পরিবারগুলোতে ( প্রায়৭ হাজার জেলে) দেখা দিয়েছে আর্থিক অনিশ্চয়তা। এতে একদিকে যেমন কমে গেছে জেলেদের আয়, অন্যদিকে স্থানীয় মাছঘাটগুলোতেও দেখা দিয়েছে ক্রেতা ও মাছের সংকট। মাছঘাটগুলো এখন মাছশূন্য শুনশাননীরবতা বিরাজ করছে।

জেলেরা জানান, এখন আর আগের মতো নদীতে মাছ নেই। আগে যে পরিমাণ ইলিশ পাওয়া যেতো, পাশাপাশি একই পরিমাণ অন্যান্য মাছও পাওয়া যেতো। এবার সব ধরনের মাছ ধরা পরছে কম।

জেলেদের ভাষ্যমতে, মার্চ-এপ্রিল দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে নদীতে নেমে যেই পরিমাণ মাছ পাওয়ার আশা করেছিলেন, তা না পেয়ে হতাশ। সমুদ্র থেকে এখনো নদীতে তেমন মাছ আসেনি। যার কারণে জেলে নৌকাগুলো নদী থেকে আশানুরূপ মাছ পাচ্ছে না। এক একটি নৌকা ৩-৪ জন জেলে নিয়ে নদীতে রাতভর কাটিয়ে, ডিজেল পুড়িয়ে ২-৩টি ইলিশ নিয়ে ফিরতে হয় এবং কোনো দিন আরও কম পান।

অন্যদিকে মেঘনা নদীতে কিছু জেলে নির্বিচারে জাটকা ও পোনা নিধন করছে। প্রশাসন থেকে নজরদারি করা হলেও ফাঁকফোঁকর দিয়ে জাটকা নিধন হচ্ছেই। সম্প্রতি অভিযান চালিয়ে কয়েকজন জেলেকে অর্থদণ্ড দেয়া হয় এবং জাল পুড়িয়ে দেয় প্রশাসন। এসব জাটকা প্রকাশ্যে বাজারেও বিক্রি হয়। জাটকা নিধনের কারণে বড় ইলিশের পরিমাণ নদীতে কমে যাওয়ার মূল কারণ বলে মনে করেন ক্রেতারা।

বর্তমানে নদীতে মাছের উপস্থিতি অনেক কম থাকায় প্রতিদিন তেল, বরফ ও শ্রমিক খরচ বহন করেও ট্রলারগুলো লোকসানের মুখে পড়ছে। কেউ কেউ ধারদেনা করে নদীতে গেলেও মাছ না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন।

রায়পুরের চরবংশীর চান্দারখাল এলাকার নদীর জেলে পরান মাঝি, শওকত মাঝি ও মিলন মাঝি জানান, নদীতে এখন ছোট ছোট মাছও আগের মতো মিলছে না। ইলিশের আশায় গভীর নদীতে গেলেও জালে উঠছে খুবই কম মাছ। এতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিবার নিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।

হায়দরগন্জ মৎস্য আড়তদার মো. ইউসুফ আলী জানান, নদীতে স্রোত ও পানির অবস্থার পরিবর্তনের কারণে মাছের চলাচল আগের তুলনায় কমে গেছে। অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণেও মাছ গভীর সাগরের দিকে চলে যাচ্ছে। এই মেঘনার পাড়ে সাজু মোল্লার মাছ ঘাট, চান্দারখাল, হাজিমারা ও মাষ্টার ঘাটসহ ৭টি ইলিশের আড়ত আছে। সবাই এখন গড়ে ৫-৭ হাজার টাকার বেশি ইলিশ পান না।

মেঘনা নদীর সাজু মোল্লার ঘাটের আড়তদার মো. সোহেল জানান, ঘাটে ইলিশ কম আসায় বাজারেও দাম বেড়েছে। মাঝারি আকারের ইলিশও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। ৬শ থেকে ৭শ গ্রামের ইলিশ ২ হাজার ৩শ-২ হাজার ২শ টাকা কেজি, ৮শ-৪শ গ্রামের ইলিশ প্রায় ৩ হাজার টাকা কেজি এবং ১ কেজির ইলিশ ৩ হাজার টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ ক্রেতারা বাজার থেকে ফিরে যাচ্ছেন মাছ না কিনেই।

স্থানীয় মৎস্য সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ পরিবর্তন, নাব্য সংকট এবং আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবের কারণেও মাছের পরিমাণ কমে যেতে পারে। নদীতে মাছের উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজন নিয়মিত অভিযান, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জেলেদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা।

রায়পুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার মোঃ মাহফুজুল হাসনাইন জানান, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীতে প্রাকৃতিকভাবে এখন মাছ কম। এসব নদীতে এখন বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় লবণাক্ততা কাটেনি। অধিক বৃষ্টি হলে নদীর লবণাক্ততা কমে যাবে। ইলিশ মাছের সঙ্গে মিঠাপানির একটা সম্পর্ক থাকে। আশ্বিন-কার্তিক মাসের দিকে বৃষ্টিপাত বাড়লে ইলিশ বাড়ার সম্ভাবনা আছে।