ঢাকা ০৯:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে নবীন আইনজীবীদের সংবর্ধনা দিলো আইনজীবী ফোরাম বাগেরহাটের আইনজীবী নিজাম শান্ত হত্যার প্রতিবাদে লক্ষ্মীপুরে মানববন্ধন তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী: দুই চিকিৎসক ও এক নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা যারা ইনসাফের কথা বলে,তাদের অপকর্মের শেষ নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ লক্ষ্মীপুরে পুকুরে ডুবে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু লক্ষ্মীপুরে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ১ কোটি ১ লাখ টাকার অনুদান তরুণ সমাজকে মোবাইল ও মাদকের ভয়াবহ আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী সেবার মান বাড়াতে ৫০ শয্যায় হাসপাতালকে ১০১ করতে খুব শিগগির দরপত্র আহ্বান করা হবে:স্বাস্থ্যমন্ত্রী

গাজীপুরে ৫ খুনের মূল হোতা ফোরকান আত্মহত্যা করে থাকতে পারে. পুলিশ সুপার

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ০৬:২৫:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • 57

স্টাফ রিপোর্টার: গাজীপুরের কাপাসিয়ায় আলোচিত স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালক হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছে পুলিশ। এর আগে পদ্মা সেতুর ওপর থেকে ফোরকানের ব্যাগ ও জামাকাপড় উদ্ধার করেছিল পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
বৃহস্পতিবার বিকেলে গাজীপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. শরীফ উদ্দীন।
পুলিশ সুপার বলেন, নৃশংসভাবে ৫ হত্যাকাণ্ডের পর আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তিনটি টিম কাজ শুরু করে। এক পর্যায়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মেহেরপুর থেকে এক বাসের হেলপারের কাছ থেকে অভিযুক্ত ফোরকানের মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করে।
হেলপাযকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি জানান, মোবাইল ফোনটি তিনি পদ্মা সেতু থেকে পেয়েছেন। পরে পদ্মাসেতুর সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এক ব্যক্তি প্রাইভেটকার থেকে নেমে মোবাইল ও ব্যাগ ফুটপাতে রেখে নদীতে ঝাঁপ দেয়। তবে তিনি ফোরকান কী না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি মৃত নাকি জীবিত সেটিও নিশ্চিত করা যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ব্যাগ ও মোবাইল ফোন ফোরকানের বলে উল্লেখ করেন এসপি।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ খুনের ঘটনার পর থেকেই ফোরকান পলাতক ছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক দল কাজ করছিল। এরই মধ্যে পদ্মা সেতুর ওপর একটি ব্যাগ ও কিছু কাপড় পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে সিআইডি।

এর আগে, গত শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে ফোরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়ার রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।গোপালগঞ্জ সদরের মেরী গোপীনাথপুর গ্রামের আতিয়ার রহমান মোল্লার ছেলে পেশায় প্রাইভেটকার চালক ফোরকান মিয়া প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়ির নিচতলা ভাড়া নেন। হত্যাকাণ্ডের পরদিন শনিবার (৯ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফোরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে ফোন করে জানান, তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। এরপর প্রতিবেশীরা ওই বাড়িতে গিয়ে বীভৎস দৃশ্য দেখতে পান।

ঘরের মেঝেতে তিন শিশুকন্যার মরদেহ পাশাপাশি পড়ে ছিল। মা শারমিনের মরদেহ জানালার গ্রিলে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় ঝুলছিল এবং শ্যালক রসুল মিয়ার মরদেহ পড়ে ছিল বিছানার ওপর। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন নিহতদের স্বজনরা। ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় মদের খালি বোতল, রান্না করা পায়েশ ও কোকাকোলার বোতল উদ্ধার করা হয়েছিল।
ঘটনার দিন মরদেহের পাশে বেশ কিছু প্রিন্ট করা কাগজ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ওই কাগজের সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পারে, ফোরকান হোসেন এর আগে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের একটি অভিযোগ করেছিলেন। একই সঙ্গে ওই অভিযোগপত্রে স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেছিলেন তিনি।
প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা , পারিবারিক কলহ ও পরকীয়ার জেরেই ফোরকান এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করেছিল গোয়েন্দা পুলিশ।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী

গাজীপুরে ৫ খুনের মূল হোতা ফোরকান আত্মহত্যা করে থাকতে পারে. পুলিশ সুপার

আডেট সময় ০৬:২৫:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: গাজীপুরের কাপাসিয়ায় আলোচিত স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালক হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছে পুলিশ। এর আগে পদ্মা সেতুর ওপর থেকে ফোরকানের ব্যাগ ও জামাকাপড় উদ্ধার করেছিল পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
বৃহস্পতিবার বিকেলে গাজীপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. শরীফ উদ্দীন।
পুলিশ সুপার বলেন, নৃশংসভাবে ৫ হত্যাকাণ্ডের পর আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তিনটি টিম কাজ শুরু করে। এক পর্যায়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মেহেরপুর থেকে এক বাসের হেলপারের কাছ থেকে অভিযুক্ত ফোরকানের মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করে।
হেলপাযকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি জানান, মোবাইল ফোনটি তিনি পদ্মা সেতু থেকে পেয়েছেন। পরে পদ্মাসেতুর সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এক ব্যক্তি প্রাইভেটকার থেকে নেমে মোবাইল ও ব্যাগ ফুটপাতে রেখে নদীতে ঝাঁপ দেয়। তবে তিনি ফোরকান কী না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি মৃত নাকি জীবিত সেটিও নিশ্চিত করা যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ব্যাগ ও মোবাইল ফোন ফোরকানের বলে উল্লেখ করেন এসপি।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ খুনের ঘটনার পর থেকেই ফোরকান পলাতক ছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক দল কাজ করছিল। এরই মধ্যে পদ্মা সেতুর ওপর একটি ব্যাগ ও কিছু কাপড় পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে সিআইডি।

এর আগে, গত শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে ফোরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়ার রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।গোপালগঞ্জ সদরের মেরী গোপীনাথপুর গ্রামের আতিয়ার রহমান মোল্লার ছেলে পেশায় প্রাইভেটকার চালক ফোরকান মিয়া প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়ির নিচতলা ভাড়া নেন। হত্যাকাণ্ডের পরদিন শনিবার (৯ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফোরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে ফোন করে জানান, তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। এরপর প্রতিবেশীরা ওই বাড়িতে গিয়ে বীভৎস দৃশ্য দেখতে পান।

ঘরের মেঝেতে তিন শিশুকন্যার মরদেহ পাশাপাশি পড়ে ছিল। মা শারমিনের মরদেহ জানালার গ্রিলে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় ঝুলছিল এবং শ্যালক রসুল মিয়ার মরদেহ পড়ে ছিল বিছানার ওপর। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন নিহতদের স্বজনরা। ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় মদের খালি বোতল, রান্না করা পায়েশ ও কোকাকোলার বোতল উদ্ধার করা হয়েছিল।
ঘটনার দিন মরদেহের পাশে বেশ কিছু প্রিন্ট করা কাগজ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ওই কাগজের সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পারে, ফোরকান হোসেন এর আগে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের একটি অভিযোগ করেছিলেন। একই সঙ্গে ওই অভিযোগপত্রে স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেছিলেন তিনি।
প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা , পারিবারিক কলহ ও পরকীয়ার জেরেই ফোরকান এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করেছিল গোয়েন্দা পুলিশ।