ঢাকা ০৯:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে নবীন আইনজীবীদের সংবর্ধনা দিলো আইনজীবী ফোরাম বাগেরহাটের আইনজীবী নিজাম শান্ত হত্যার প্রতিবাদে লক্ষ্মীপুরে মানববন্ধন তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী: দুই চিকিৎসক ও এক নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা যারা ইনসাফের কথা বলে,তাদের অপকর্মের শেষ নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ লক্ষ্মীপুরে পুকুরে ডুবে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু লক্ষ্মীপুরে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ১ কোটি ১ লাখ টাকার অনুদান তরুণ সমাজকে মোবাইল ও মাদকের ভয়াবহ আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী সেবার মান বাড়াতে ৫০ শয্যায় হাসপাতালকে ১০১ করতে খুব শিগগির দরপত্র আহ্বান করা হবে:স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শেষ মুহূর্তের গোলে নেপালকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

মেঘনার তীর ডেস্ক: মারগাওয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে ম্যাচ তখন গড়িয়েছে যোগ করা সময়ে। তা পেরিয়ে খেলা অতিরিক্ত সময়ে নেওয়া হবে বলেই মনে হচ্ছিল। কারণ, দুই দল ছিল ১-১ সমতায়। ঠিক সেই মুহূর্তেই বদলি ফরোয়ার্ড মোসাম্মৎ সাগরিকার গোল বাংলাদেশকে পৌঁছে দিল শিরোপার মঞ্চে। সেমিফাইনালে নেপালকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো নারী সাফের ফাইনালে উঠল বাংলাদেশ।

তবে ম্যাচের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। প্রথম মিনিট থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে চাপে রাখে নেপাল। ৩ মিনিটে রাশমি কুমারী ও ৯ মিনিটে রেখা পৌডেলের শট কোনোমতে ঠেকান গোলরক্ষক মিলি আক্তার। ২৩ মিনিটে অবশ্য আর রক্ষা হয়নি। দীপা শাহীর কর্নার থেকে বক্সে বল পেয়ে ডিফেন্ডার গীতা রানা আলতো ছোঁয়ায় নেপালকে এগিয়ে দেন। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর ৩৬ মিনিটে আরও একবার বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। প্রীতি রাইয়ের দূরপাল্লার শট মিলি আক্তার আঙুলের ছোঁয়ায় ক্রসবারে লাগিয়ে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন।

ম্যাচের মোড় ঘোরাতে ৪০ মিনিটে দুটি পরিবর্তন আনেন বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার। উমেহলা মারমা ও সৌরভী আকন্দ প্রীতির জায়গায় মাঠে নামেন শামসুন্নাহার জুনিয়র ও তহুরা খাতুন। এই পরিবর্তনের পরই আক্রমণে গতি পায় বাংলাদেশ। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে কর্নার থেকে সরাসরি গোল করে দলকে সমতায় ফেরান ঋতুপর্ণা চাকমা। ফুটবল পরিভাষায় যা ‘অলিম্পিক গোল’ নামে পরিচিত। বিরতির ঠিক আগে তাঁর আরেকটি জোরালো শট কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান নেপালের গোলরক্ষক আঞ্জিলা সুব্বা।

দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। বিরতির পর মনিকা চাকমাকে মাঠে নামায় বাংলাদেশ। তবে ৪৭ মিনিটে আবারও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল নেপাল। বাংলাদেশের ডিফেন্ডারদের ভুলে বল পেয়ে যান রেখা পৌডেল, কিন্তু তাঁর শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। অন্যদিকে ৬৪ মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়রের ক্রস থেকে মনিকা চাকমার হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যে রাখতে পারেননি।৭২ মিনিটে আনিকার পরিবর্তে মাঠে নামেন সাগরিকা। বদলি হিসেবে নেমেই নেপালের রক্ষণভাগে চাপ তৈরি করেন তিনি। ৭৮ মিনিটে তাঁর জোরালো শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন আঞ্জিলা সুব্বা। ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই আসে নির্ধারক মুহূর্ত। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে নেপালের রক্ষণভাগের ফাঁক কাজে লাগিয়ে গোল করেন সাগরিকা। ডান প্রান্ত দিয়ে পাসটি আসে শামসুন্নাহারের পা থেকে। সাগরিকার সেই গোলেই টানা তৃতীয় শিরোপার আশা বাঁচিয়ে রাখল বাংলাদেশ।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী

শেষ মুহূর্তের গোলে নেপালকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

আডেট সময় ০৭:১০:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

মেঘনার তীর ডেস্ক: মারগাওয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে ম্যাচ তখন গড়িয়েছে যোগ করা সময়ে। তা পেরিয়ে খেলা অতিরিক্ত সময়ে নেওয়া হবে বলেই মনে হচ্ছিল। কারণ, দুই দল ছিল ১-১ সমতায়। ঠিক সেই মুহূর্তেই বদলি ফরোয়ার্ড মোসাম্মৎ সাগরিকার গোল বাংলাদেশকে পৌঁছে দিল শিরোপার মঞ্চে। সেমিফাইনালে নেপালকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো নারী সাফের ফাইনালে উঠল বাংলাদেশ।

তবে ম্যাচের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। প্রথম মিনিট থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে চাপে রাখে নেপাল। ৩ মিনিটে রাশমি কুমারী ও ৯ মিনিটে রেখা পৌডেলের শট কোনোমতে ঠেকান গোলরক্ষক মিলি আক্তার। ২৩ মিনিটে অবশ্য আর রক্ষা হয়নি। দীপা শাহীর কর্নার থেকে বক্সে বল পেয়ে ডিফেন্ডার গীতা রানা আলতো ছোঁয়ায় নেপালকে এগিয়ে দেন। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর ৩৬ মিনিটে আরও একবার বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। প্রীতি রাইয়ের দূরপাল্লার শট মিলি আক্তার আঙুলের ছোঁয়ায় ক্রসবারে লাগিয়ে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন।

ম্যাচের মোড় ঘোরাতে ৪০ মিনিটে দুটি পরিবর্তন আনেন বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার। উমেহলা মারমা ও সৌরভী আকন্দ প্রীতির জায়গায় মাঠে নামেন শামসুন্নাহার জুনিয়র ও তহুরা খাতুন। এই পরিবর্তনের পরই আক্রমণে গতি পায় বাংলাদেশ। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে কর্নার থেকে সরাসরি গোল করে দলকে সমতায় ফেরান ঋতুপর্ণা চাকমা। ফুটবল পরিভাষায় যা ‘অলিম্পিক গোল’ নামে পরিচিত। বিরতির ঠিক আগে তাঁর আরেকটি জোরালো শট কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান নেপালের গোলরক্ষক আঞ্জিলা সুব্বা।

দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। বিরতির পর মনিকা চাকমাকে মাঠে নামায় বাংলাদেশ। তবে ৪৭ মিনিটে আবারও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল নেপাল। বাংলাদেশের ডিফেন্ডারদের ভুলে বল পেয়ে যান রেখা পৌডেল, কিন্তু তাঁর শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। অন্যদিকে ৬৪ মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়রের ক্রস থেকে মনিকা চাকমার হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যে রাখতে পারেননি।৭২ মিনিটে আনিকার পরিবর্তে মাঠে নামেন সাগরিকা। বদলি হিসেবে নেমেই নেপালের রক্ষণভাগে চাপ তৈরি করেন তিনি। ৭৮ মিনিটে তাঁর জোরালো শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন আঞ্জিলা সুব্বা। ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই আসে নির্ধারক মুহূর্ত। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে নেপালের রক্ষণভাগের ফাঁক কাজে লাগিয়ে গোল করেন সাগরিকা। ডান প্রান্ত দিয়ে পাসটি আসে শামসুন্নাহারের পা থেকে। সাগরিকার সেই গোলেই টানা তৃতীয় শিরোপার আশা বাঁচিয়ে রাখল বাংলাদেশ।