ঢাকা ০৮:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
লক্ষ্মীপুরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ লক্ষ্মীপুরে পুকুরে ডুবে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু লক্ষ্মীপুরে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ১ কোটি ১ লাখ টাকার অনুদান তরুণ সমাজকে মোবাইল ও মাদকের ভয়াবহ আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী সেবার মান বাড়াতে ৫০ শয্যায় হাসপাতালকে ১০১ করতে খুব শিগগির দরপত্র আহ্বান করা হবে:স্বাস্থ্যমন্ত্রী লক্ষ্মীপুর ক্লাব লিমিটেডের তিন যুগ পুর্তি উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও গুণীজন সন্মাননা নেতৃত্বের কারণে আমরা অনেক পিছিয়ে গিয়েছি: পানিসম্পদ মন্ত্রী জিয়াউর রহমানের মতো সৎ ব্যক্তি বাংলাদেশের ইতিহাসে আর সৃষ্টি হয়নি: জেলা যুবদল সভাপতি ২০২৭ সালে ৩১ কোটি নতুন বই বিতরণ ও ইতিহাস বিকৃতি রোধের ঘোষণা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী মেয়েটি নিজেই এমপি গাজী নজরুলকে সেবা করতে চেয়েছিল: দাবি জামায়াতের এমপির

রামগঞ্জে শিক্ষার্থী হত্যা মামলায় এখনো গ্রেফতার হয়নি কেউ, একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ পরিবার

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ০৫:১৫:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
  • 40

স্টাফ রিপোর্টার: লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের ফরিদ আহমদ একাডেমীর ৮ম শ্রেনীর ছাত্র মেহেদী হাসান হত্যা মামলার ৭দিন পার হলেও আসামীরা কেউ গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। ঘটনার পর থেকে জড়িতদের বিচারের দাবীতে থানা ঘেরাও,সড়ক অবরোধসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসুচি পালন করে আসছে সহপাঠি ও স্বজনরা। তবে একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন নিহত মেহেদীর বাবা-মা। তাদের দাবী,ডাক্তার বানাবো বলে দামি স্কুলে দিয়েছিলাম, সেই স্কুলেই কেড়ে নিলো আমাদের কলিজার প্রাণ। ঘাতকরা গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষুদ্ধ তারা। ঘটনার এতো দিন পার হলেও কেন আসামীরা গ্রেফতার হচ্ছেনা? প্রশ্ন সবার। তবে পুলিশ বলছে, শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান হত্যা মামলায় ইতিমধ্যে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামীদের গ্রেফতার অভিযান চলছে। পাশাপাশি মামলার তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত গতিতে চলছে।

জানাযায়, রামগঞ্জ উপজেলার রাঘবপুর এ্লাকার জিয়া উদ্দিন ও শারমিন আক্তার দম্পতির একমাত্র সন্তান মেহেদী হাসান। উচ্চ শিক্ষা ও ডাক্তার বানানোর আশায় ফরিদ উদ্দিন একাডেমীতে ৮ম শ্রেনীতে মেহেদী হাসানকে ভর্তি করিয়েছিলেন তারা। পাশাপাশি হোস্টেলে রেখে পড়ালেখা করাতেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মোবাইলফোন চুরির অপবাদ দিয়ে মেহেদী হাসানের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনের এক পর্যায়ে অসুস্থ হয়ে তার মৃত্যু ঘটে। ঘটনাটি কে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়। তবে প্রতিষ্ঠানের লোকজন প্রচারনায় চালায় মেহেদী আত্নহত্যা করেছে। এহত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে ফুঁসে উঠে স্থানীয় জনতা। ওই রাতেই উত্তেজিত জনতা স্কুল ক্যাম্পাসে চড়াও হয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হয় আইনশৃংখলা বাহিনীকে। এরপর মামলা নিতে ও বিচারের দাবীতে আন্দোলনে নামে মেহেদীর সহপাঠি,অভিভাবক ও স্থানীয়রা। ঘটনার দুইদিন পর মেহেদির বাবা জিয়াউদ্দিন বাদী হয়ে রামগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় একাডেমির অধ্যক্ষ আবদুল মান্নান ও ৭ শিক্ষার্থীসহ ৮জনের নাম উল্লেখ করে আরো ১০জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়। ঘটনার ৭দিন পার হলেও অভিযুক্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। পাশাপাশি বিচারের দাবীতে নানা কর্মসুচি অব্যাহত রয়েছে।

একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন নিহত মেহেদীর বাবা জিয়া উদ্দিন-মা শারমিন আক্তার। তাদের দাবী,ডাক্তার বানাবো বলে দামি স্কুলে দিয়েছিলাম, সেই স্কুলেই কেড়ে নিলো আমাদের কলিজার প্রাণ। ঘাতকরা গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষুদ্ধ তারা। ঘটনার এতো দিন পার হলেও কেন আসামীরা গ্রেফতার হচ্ছেনা। একটি ফোন চুরির অপবাদ দিয়ে মেহেদীকে হত্যা করা হয়েছে। এটার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান তারা।

শিক্ষার্থী ও অভিভাকরা অভিযোগ করে বলেন- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষক ও সিনিয়র শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের শিকার হয়ে মেহেদী হাসানকে প্রাণ হারাতে হয়েছে। তারা এ ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেছে। সহপাঠী মেহেদী হত্যার দ্রুত বিচার চাই। এ ঘটনায় জড়িত শিক্ষক ও সিনিয়র শিক্ষার্থীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যাথায় আরো কঠোর কর্মসুচির হুশিয়ারী দেন তারা। যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শিক্ষার্থী এ ধরনের নির্মম ঘটনার শিকার না হয়। সেটাই তাদের প্রত্যশা।

রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী আতিকুর রহমান বলেন, মেহেদী মৃত্যু কোনভাবে মেনে নেয়ার মতো নয়। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।পাশাপাশি মামলার আসামীদের গ্রেফতার ও শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, কেউ আইনের উর্দ্ধে নয়। ইতিমধ্যে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামীদের গ্রেফতার অভিযান চলছে। পাশাপাশি মামলার তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত গতিতে চলছে। আসামীরা ছাড় পাবেনা। ময়নাতদন্ত রিপোর্টে প্রকৃত ঘটনা বের হয়ে আসবে বলে আশা করেন তিনি।।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

লক্ষ্মীপুরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

রামগঞ্জে শিক্ষার্থী হত্যা মামলায় এখনো গ্রেফতার হয়নি কেউ, একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ পরিবার

আডেট সময় ০৫:১৫:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের ফরিদ আহমদ একাডেমীর ৮ম শ্রেনীর ছাত্র মেহেদী হাসান হত্যা মামলার ৭দিন পার হলেও আসামীরা কেউ গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। ঘটনার পর থেকে জড়িতদের বিচারের দাবীতে থানা ঘেরাও,সড়ক অবরোধসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসুচি পালন করে আসছে সহপাঠি ও স্বজনরা। তবে একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন নিহত মেহেদীর বাবা-মা। তাদের দাবী,ডাক্তার বানাবো বলে দামি স্কুলে দিয়েছিলাম, সেই স্কুলেই কেড়ে নিলো আমাদের কলিজার প্রাণ। ঘাতকরা গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষুদ্ধ তারা। ঘটনার এতো দিন পার হলেও কেন আসামীরা গ্রেফতার হচ্ছেনা? প্রশ্ন সবার। তবে পুলিশ বলছে, শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান হত্যা মামলায় ইতিমধ্যে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামীদের গ্রেফতার অভিযান চলছে। পাশাপাশি মামলার তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত গতিতে চলছে।

জানাযায়, রামগঞ্জ উপজেলার রাঘবপুর এ্লাকার জিয়া উদ্দিন ও শারমিন আক্তার দম্পতির একমাত্র সন্তান মেহেদী হাসান। উচ্চ শিক্ষা ও ডাক্তার বানানোর আশায় ফরিদ উদ্দিন একাডেমীতে ৮ম শ্রেনীতে মেহেদী হাসানকে ভর্তি করিয়েছিলেন তারা। পাশাপাশি হোস্টেলে রেখে পড়ালেখা করাতেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মোবাইলফোন চুরির অপবাদ দিয়ে মেহেদী হাসানের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনের এক পর্যায়ে অসুস্থ হয়ে তার মৃত্যু ঘটে। ঘটনাটি কে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়। তবে প্রতিষ্ঠানের লোকজন প্রচারনায় চালায় মেহেদী আত্নহত্যা করেছে। এহত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে ফুঁসে উঠে স্থানীয় জনতা। ওই রাতেই উত্তেজিত জনতা স্কুল ক্যাম্পাসে চড়াও হয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হয় আইনশৃংখলা বাহিনীকে। এরপর মামলা নিতে ও বিচারের দাবীতে আন্দোলনে নামে মেহেদীর সহপাঠি,অভিভাবক ও স্থানীয়রা। ঘটনার দুইদিন পর মেহেদির বাবা জিয়াউদ্দিন বাদী হয়ে রামগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় একাডেমির অধ্যক্ষ আবদুল মান্নান ও ৭ শিক্ষার্থীসহ ৮জনের নাম উল্লেখ করে আরো ১০জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়। ঘটনার ৭দিন পার হলেও অভিযুক্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। পাশাপাশি বিচারের দাবীতে নানা কর্মসুচি অব্যাহত রয়েছে।

একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন নিহত মেহেদীর বাবা জিয়া উদ্দিন-মা শারমিন আক্তার। তাদের দাবী,ডাক্তার বানাবো বলে দামি স্কুলে দিয়েছিলাম, সেই স্কুলেই কেড়ে নিলো আমাদের কলিজার প্রাণ। ঘাতকরা গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষুদ্ধ তারা। ঘটনার এতো দিন পার হলেও কেন আসামীরা গ্রেফতার হচ্ছেনা। একটি ফোন চুরির অপবাদ দিয়ে মেহেদীকে হত্যা করা হয়েছে। এটার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান তারা।

শিক্ষার্থী ও অভিভাকরা অভিযোগ করে বলেন- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষক ও সিনিয়র শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের শিকার হয়ে মেহেদী হাসানকে প্রাণ হারাতে হয়েছে। তারা এ ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেছে। সহপাঠী মেহেদী হত্যার দ্রুত বিচার চাই। এ ঘটনায় জড়িত শিক্ষক ও সিনিয়র শিক্ষার্থীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যাথায় আরো কঠোর কর্মসুচির হুশিয়ারী দেন তারা। যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শিক্ষার্থী এ ধরনের নির্মম ঘটনার শিকার না হয়। সেটাই তাদের প্রত্যশা।

রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী আতিকুর রহমান বলেন, মেহেদী মৃত্যু কোনভাবে মেনে নেয়ার মতো নয়। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।পাশাপাশি মামলার আসামীদের গ্রেফতার ও শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, কেউ আইনের উর্দ্ধে নয়। ইতিমধ্যে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামীদের গ্রেফতার অভিযান চলছে। পাশাপাশি মামলার তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত গতিতে চলছে। আসামীরা ছাড় পাবেনা। ময়নাতদন্ত রিপোর্টে প্রকৃত ঘটনা বের হয়ে আসবে বলে আশা করেন তিনি।।