স্টাফ রিপোটার: লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ঘরে ডুকে একই পরিবারের তিনজনকে কুপিয়ে হত্যা,গনপিটুনিতে হত্যাকারী অন্তর মজুমদার নিহত। আরো একজনের অবস্থায় আশংকাজনক। নিহতরা হচ্ছে, নিহতরা হলেন শাহীনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার (১৮) এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন শাহীনুরের মেজে মেয়ে কলেজ শিক্ষার্থী ইকরা আক্তার (১৭)। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অপরদিকে গনপিটুনিতে নিহত হচ্ছে অন্তর মজুমদার। উভয় বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলার মৃত কামাল হোসেনের স্ত্রী ও দুই মেয়ে। এছাড়া অন্তর মজুমদারের বাড়িও একই উপজেলা। বৃহস্পতিবার সকালে পৌরসভার ধানহাটা ডাকাতিয়া নদীর পাড় এলাকায় এঘটনা ঘটে।তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রেম সংক্রান্ত ও টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারনা করছে পুলিশ ও স্থানীয়রা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে শাহীনুর বেগমের স্বামী মো. কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর থেকে তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে তিনি ওই বাসায় বসবাস করছিলেন। ওই বাসার নিচ তলায় থাকতেন অন্তর মজুমদার। সকালে বাসায় ডুকে এলোপাতাড়ি শাহীনুর ও তার তিন মেয়েকে কোপোতে থাকে। এতে ঘটনাস্থলে শাহীনুর বেগম ও বড় মেয়ে সায়মা আক্তার মারা যান। গুরুতর আহত ইকরা আক্তারকে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ঘাতক অন্তর মজুমদারকে আটক করে গনধোলাই দেয় স্থানীয়রা। পরে তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান অন্তর। এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতার ছোড়া ইটপাটকেলে পুলিশের ৭জন আহত হয়।
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম বলেন, হাসপাতালে পাঁচজনকে আহত অবস্থায় আনা হয়। তাদের মধ্যে মা ও দুই মেয়ে মারা গেছেন। আরেক মেয়েকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া গণপিটুনিতে আহত একজন যুবককেও চিকিৎসা দিয়ে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে মারা যান তিনি।
রায়পুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, “ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। সন্দেহভাজন এক যুবককে জনতা গণপিটুনি দিয়েছে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কি কারনে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেটে সেটা নিশ্চিত হওয়ায় যায়নি।
মেঘনার তীর 



















