ঢাকা ১০:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে নবীন আইনজীবীদের সংবর্ধনা দিলো আইনজীবী ফোরাম বাগেরহাটের আইনজীবী নিজাম শান্ত হত্যার প্রতিবাদে লক্ষ্মীপুরে মানববন্ধন তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী: দুই চিকিৎসক ও এক নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা যারা ইনসাফের কথা বলে,তাদের অপকর্মের শেষ নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ লক্ষ্মীপুরে পুকুরে ডুবে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু লক্ষ্মীপুরে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ১ কোটি ১ লাখ টাকার অনুদান তরুণ সমাজকে মোবাইল ও মাদকের ভয়াবহ আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী সেবার মান বাড়াতে ৫০ শয্যায় হাসপাতালকে ১০১ করতে খুব শিগগির দরপত্র আহ্বান করা হবে:স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রায়পুরে মা-তিন বোনকে কুপিয়ে হত্যা, ঘাতকের পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ০৬:১৪:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
  • 46

স্টাফ রিপোর্টার: লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরশহরে মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার নিজেকে কল ও পাইপলাইনের মিস্ত্রি পরিচয় দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশী আফরোজা বেগম। তবে তার আচরণে সন্দেহ হওয়ায় আফরোজা তৎপরতায় পালাতে পারেননি। সে নিজেকে জহির নামে মুসলিম পরিচয় দিয়ে এক নারীকে নিয়ে ওই ভবনে এক বছর বসবাস করেছিলেন।
আফরোজা বেগম বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনার সময় তিনি অন্তরের হাতে প্যান্ট নিয়ে ঘরের ভেতরে দেখতে পান। জানালা দিয়ে সেখানে থাকার কারণ জানতে চাইলে নিজেকে কল ও পাইপলাইন মেরামতের মিস্ত্রি বলে পরিচয় দেন। এ প্রসঙ্গে আফরোজার ভাষ্য, ‘তার (অন্তর) হাতে প্যান্ট ছিল। বিষয়টি আমার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়। আমি ভাবলাম, হয়তো শাহিনুর বাসায় নেই। কলের মিস্ত্রি পরিচয়ে এসে মেয়েদের সঙ্গে খারাপ কিছু করেছে। তখনই আমার সন্দেহ হয়।’ এর কিছুক্ষণ আগে ওই ঘরের ভেতর থেকে ‘বাঁচাও, বাঁচাও’ চিৎকার শুনে জানালার পাশে দৌড়ে গিয়েছিলেন আফরোজা। জানালার পাশে দাঁড়িয়ে শাহিনুর বেগমকে ডাকতে থাকেন, কিন্তু তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
ওই প্রতিবেশী বলেন, ‘প্রথমে চিৎকার শুনছিলাম। পরে হঠাৎ সব চুপ হয়ে যায়। অনেকক্ষণ পর জানালা দিয়ে দেখি একজন রান্নাঘরের দিকে যাচ্ছে। আমি ভেবেছিলাম, ওটা হয়তো শাহিনুরের ছেলে সিফাত। আমি সিফাত বলে ডাকলাম, কিন্তু তারও কোনো উত্তর পাইনি। কিছুক্ষণ পর আড়াল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জানালা বন্ধ করার শব্দ শুনি। তখন আমার সন্দেহ আরও বেড়ে যায়।’

পরিস্থিতি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় আফরোজা বাইরে থেকে বাসার দরজা আটকে দেন এবং আশপাশের লোকজনকে খবর দেন। পরে প্রতিবেশীরা একসঙ্গে ঘরে ঢুকে মেঝে জুড়ে রক্ত এবং মা ও তিন মেয়েকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এসময় অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার পালানোর জন্য ভবনের ছাদে উঠে যান। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে গণপিটুনি দেন। গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। সেখানে চিকিৎসাধীন বেলা আড়াইটার দিকে তার মৃত্যু হয়।
রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা এলাকার নদীর পাড়ের স্কুল শিক্ষকের ভাড়া বাসায় এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হন শাহিনুর বেগম (৩৮) এবং তার তিন মেয়ে সাইমা আক্তার (২০), ইকরা বেগম (১৭) ও সিপা (৯)। নিহত সায়মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ইকরা রায়পুর কাজী ফারুকী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। তাদের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলায়। গত ২৫-২৬ বছর ধরে তারা রায়পুরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। তাদের পিতা কামাল হোসেন ২০১৯ সালে কেরোয়া গ্রামে রাস্তায় পড়ে থাকা তারে বিদ্যুৎস্পর্শে মারা যান।

আর অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার (২৮) নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার দাসেরহাট বাসিন্দা। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্তর রায়পুরে ভাসমান ফল বিক্রেতা হিসেবে কাজ করতেন। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘাতক অন্তর মজুমদারের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে স্বজনরা তার মরদেহ নিতে রাজি হয়নি। একপর্যায়ে বাধ্য করে দূর সম্পর্কের চাচাতো ভাই টিটু মজুমদারের কাছে তার মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। শনিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়াকুব। এর আগে একইদিন দুপুরে সদর হাসপাতালে মা ও তিন মেয়ের মরদহ ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে বুজিয়ে দেয়া হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রায়পুর গোডাউন রোডে জানাজা শেষে কুমিল্লার হোমনায় নিজ গ্রামে রাত সাড়ে ১০টায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। দুইটি স্থানে একমাত্র ছেলে শিফাত মা ও বোনদের হত্যাকান্ডের বিচার চেয়েছেন। পাশাপাশি এই হত্যকান্ডের সাথে আরো কেউ জড়িত থাকতে পারেন বলে আশংকা করছেন।

এদিকে শনিবার সকালে লক্ষ্মীপুর-২ রায়পুর আসনের এমপি আবুল খায়ের ভুঁইয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। প্রকৃত খুনি কে- তা তদন্ত করে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চট্রগ্রাম বিভাগীয় পুলিশের ডিআইজি মনিরুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। নির্মম হত্যাকাণ্ডটি পুলিশ, সিআইডি ও র‌্যাব তদন্ত করছে। এ ঘটনায় নিহতদের ছেলে জিহাদুল ইসলাম শিফাত বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্তকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা। এসময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে ৭ পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনায় এসআই আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে আরো একটি মামলা হয় রায়পুর থানায়। এ দুটি হত্যা মামলাই তদন্ত করছেন ওসি (তদন্ত) মো. আবদুল মান্নান।
সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অরুপ পাল বলেন, সুরুতহালের পর নিহত অন্তরের মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। পরে মরদেহ আমরা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছি।
রায়পুর থানার ওসি শাহীন মিয়া বলেন, ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি দা আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একজনই এ হত্যাকাণ্ড ঘটান। হত্যার মূল কারণ এখনো উদঘাটন করা যায়নি। প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা নদীর পাড় এলাকার আমির হোসেন মাস্টারের পাঁচতলা ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাটে ঢুকে শাহিনুর বেগম ও তার তিন মেয়েকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন অন্তর মজুমদার। এতে ঘটনাস্থলেই শাহিনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেঝো মেয়ে নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭) ও ফাতেমা আক্তার শিফা (৯) মারা যায়। ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা অন্তরকে ধরে গণপিটুনি দেয়। এতে তারও মৃত্যু হয়।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী

রায়পুরে মা-তিন বোনকে কুপিয়ে হত্যা, ঘাতকের পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি

আডেট সময় ০৬:১৪:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরশহরে মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার নিজেকে কল ও পাইপলাইনের মিস্ত্রি পরিচয় দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশী আফরোজা বেগম। তবে তার আচরণে সন্দেহ হওয়ায় আফরোজা তৎপরতায় পালাতে পারেননি। সে নিজেকে জহির নামে মুসলিম পরিচয় দিয়ে এক নারীকে নিয়ে ওই ভবনে এক বছর বসবাস করেছিলেন।
আফরোজা বেগম বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনার সময় তিনি অন্তরের হাতে প্যান্ট নিয়ে ঘরের ভেতরে দেখতে পান। জানালা দিয়ে সেখানে থাকার কারণ জানতে চাইলে নিজেকে কল ও পাইপলাইন মেরামতের মিস্ত্রি বলে পরিচয় দেন। এ প্রসঙ্গে আফরোজার ভাষ্য, ‘তার (অন্তর) হাতে প্যান্ট ছিল। বিষয়টি আমার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়। আমি ভাবলাম, হয়তো শাহিনুর বাসায় নেই। কলের মিস্ত্রি পরিচয়ে এসে মেয়েদের সঙ্গে খারাপ কিছু করেছে। তখনই আমার সন্দেহ হয়।’ এর কিছুক্ষণ আগে ওই ঘরের ভেতর থেকে ‘বাঁচাও, বাঁচাও’ চিৎকার শুনে জানালার পাশে দৌড়ে গিয়েছিলেন আফরোজা। জানালার পাশে দাঁড়িয়ে শাহিনুর বেগমকে ডাকতে থাকেন, কিন্তু তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
ওই প্রতিবেশী বলেন, ‘প্রথমে চিৎকার শুনছিলাম। পরে হঠাৎ সব চুপ হয়ে যায়। অনেকক্ষণ পর জানালা দিয়ে দেখি একজন রান্নাঘরের দিকে যাচ্ছে। আমি ভেবেছিলাম, ওটা হয়তো শাহিনুরের ছেলে সিফাত। আমি সিফাত বলে ডাকলাম, কিন্তু তারও কোনো উত্তর পাইনি। কিছুক্ষণ পর আড়াল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জানালা বন্ধ করার শব্দ শুনি। তখন আমার সন্দেহ আরও বেড়ে যায়।’

পরিস্থিতি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় আফরোজা বাইরে থেকে বাসার দরজা আটকে দেন এবং আশপাশের লোকজনকে খবর দেন। পরে প্রতিবেশীরা একসঙ্গে ঘরে ঢুকে মেঝে জুড়ে রক্ত এবং মা ও তিন মেয়েকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এসময় অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার পালানোর জন্য ভবনের ছাদে উঠে যান। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে গণপিটুনি দেন। গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। সেখানে চিকিৎসাধীন বেলা আড়াইটার দিকে তার মৃত্যু হয়।
রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা এলাকার নদীর পাড়ের স্কুল শিক্ষকের ভাড়া বাসায় এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হন শাহিনুর বেগম (৩৮) এবং তার তিন মেয়ে সাইমা আক্তার (২০), ইকরা বেগম (১৭) ও সিপা (৯)। নিহত সায়মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ইকরা রায়পুর কাজী ফারুকী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। তাদের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলায়। গত ২৫-২৬ বছর ধরে তারা রায়পুরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। তাদের পিতা কামাল হোসেন ২০১৯ সালে কেরোয়া গ্রামে রাস্তায় পড়ে থাকা তারে বিদ্যুৎস্পর্শে মারা যান।

আর অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার (২৮) নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার দাসেরহাট বাসিন্দা। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্তর রায়পুরে ভাসমান ফল বিক্রেতা হিসেবে কাজ করতেন। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘাতক অন্তর মজুমদারের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে স্বজনরা তার মরদেহ নিতে রাজি হয়নি। একপর্যায়ে বাধ্য করে দূর সম্পর্কের চাচাতো ভাই টিটু মজুমদারের কাছে তার মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। শনিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়াকুব। এর আগে একইদিন দুপুরে সদর হাসপাতালে মা ও তিন মেয়ের মরদহ ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে বুজিয়ে দেয়া হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রায়পুর গোডাউন রোডে জানাজা শেষে কুমিল্লার হোমনায় নিজ গ্রামে রাত সাড়ে ১০টায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। দুইটি স্থানে একমাত্র ছেলে শিফাত মা ও বোনদের হত্যাকান্ডের বিচার চেয়েছেন। পাশাপাশি এই হত্যকান্ডের সাথে আরো কেউ জড়িত থাকতে পারেন বলে আশংকা করছেন।

এদিকে শনিবার সকালে লক্ষ্মীপুর-২ রায়পুর আসনের এমপি আবুল খায়ের ভুঁইয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। প্রকৃত খুনি কে- তা তদন্ত করে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চট্রগ্রাম বিভাগীয় পুলিশের ডিআইজি মনিরুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। নির্মম হত্যাকাণ্ডটি পুলিশ, সিআইডি ও র‌্যাব তদন্ত করছে। এ ঘটনায় নিহতদের ছেলে জিহাদুল ইসলাম শিফাত বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্তকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা। এসময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে ৭ পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনায় এসআই আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে আরো একটি মামলা হয় রায়পুর থানায়। এ দুটি হত্যা মামলাই তদন্ত করছেন ওসি (তদন্ত) মো. আবদুল মান্নান।
সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অরুপ পাল বলেন, সুরুতহালের পর নিহত অন্তরের মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। পরে মরদেহ আমরা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছি।
রায়পুর থানার ওসি শাহীন মিয়া বলেন, ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি দা আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একজনই এ হত্যাকাণ্ড ঘটান। হত্যার মূল কারণ এখনো উদঘাটন করা যায়নি। প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা নদীর পাড় এলাকার আমির হোসেন মাস্টারের পাঁচতলা ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাটে ঢুকে শাহিনুর বেগম ও তার তিন মেয়েকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন অন্তর মজুমদার। এতে ঘটনাস্থলেই শাহিনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেঝো মেয়ে নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭) ও ফাতেমা আক্তার শিফা (৯) মারা যায়। ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা অন্তরকে ধরে গণপিটুনি দেয়। এতে তারও মৃত্যু হয়।