ঢাকা ১০:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে নবীন আইনজীবীদের সংবর্ধনা দিলো আইনজীবী ফোরাম বাগেরহাটের আইনজীবী নিজাম শান্ত হত্যার প্রতিবাদে লক্ষ্মীপুরে মানববন্ধন তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী: দুই চিকিৎসক ও এক নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা যারা ইনসাফের কথা বলে,তাদের অপকর্মের শেষ নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ লক্ষ্মীপুরে পুকুরে ডুবে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু লক্ষ্মীপুরে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ১ কোটি ১ লাখ টাকার অনুদান তরুণ সমাজকে মোবাইল ও মাদকের ভয়াবহ আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী সেবার মান বাড়াতে ৫০ শয্যায় হাসপাতালকে ১০১ করতে খুব শিগগির দরপত্র আহ্বান করা হবে:স্বাস্থ্যমন্ত্রী

১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ১১:৩০:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
  • 23

মেঘনার তীর ডেস্ক: জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান স্মরণে আগামী জুলাই ও আগস্টজুড়ে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। রোববার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

প্রতিমন্ত্রী ইশরাক জানান, আগামী ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ পালন করা হবে। এ উপলক্ষে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহত পরিবারগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। এদিন ভোর ৬টায় শাহবাগে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হবে। অনুষ্ঠানে আন্দোলনের সময় নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ড নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। পাশাপাশি শহীদ ও আহত পরিবারের কয়েকজন সদস্য বক্তব্য দেবেন।

প্রতিমন্ত্রী ইশরাক আরও জানান, আগামী ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে পালন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওই দিন সংঘটিত দুটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের পর আন্দোলনের প্রভাব দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচিত হয় এবং আন্দোলন আরও ত্বরান্বিত হয়।

এদিন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ আবু সাঈদের স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আহমেদ আজম খান উপস্থিত থাকবেন। একই দিনে চট্টগ্রামের কক্সবাজারের পেকুয়ায় শহীদ ওয়াসিম আকরামের স্মরণেও একই মর্যাদায় একটি স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। সেখানে উপস্থিত থেকে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন ইশরাক হোসেন।

প্রতিমন্ত্রী ইশরাক বলেন, ‘২০২৪ সালের ১৫ জুলাই ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও বহিরাগত সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢুকে ছাত্রছাত্রীদের ওপর হামলা চালায়। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ছিল বেশি তীব্র। দিনটিকে স্মরণ করে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হচ্ছে। প্রদর্শনীর নাম হতে পারে “ক্যাম্পাসের ক্ষতচিহ্ন” অথবা “প্রতিরোধের সূচনা”। চারুকলা একাডেমি বা জাতীয় জাদুঘরের সামনে কিংবা শাহবাগ স্কয়ারের উন্মুক্ত স্থানে প্রদর্শনী হতে পারে।’

এছাড়া ১৮ জুলাই ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি রেজিস্ট্যান্স ডে’ পালন করা হবে বলেও জানান ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, ‘১৬ ও ১৭ জুলাইয়ের ঘটনার পর ১৮ জুলাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে আসেন এবং সেদিন সম্ভবত চারজন শহীদ হন। এই আন্দোলন পুরো গণআন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। এ উপলক্ষে আর্মি স্টেডিয়ামে একটি প্রতিবাদী সমাবেশ হবে। পরে সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রতিবাদী গানের আয়োজন করা হবে।’

২৪ জুলাই যাত্রাবাড়ীতে শুরু হওয়া প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণ, ছাত্র-জনতা এবং অসংখ্য মাদ্রাসার শিক্ষার্থী অংশ নেন। যাত্রাবাড়ী থেকে চট্টগ্রাম মহাসড়ক পর্যন্ত প্রায় ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কয়েক দিন অবরোধ কর্মসূচি চলেছিল। সেখানে কমপক্ষে ৮০ জন শহীদ হন বলে উল্লেখ করেন ইশরাক হোসেন। তাদের স্মরণে এবং ওই স্থানকে স্মরণীয় করে রাখতে সেখানে একটি সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী

১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস

আডেট সময় ১১:৩০:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

মেঘনার তীর ডেস্ক: জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান স্মরণে আগামী জুলাই ও আগস্টজুড়ে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। রোববার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

প্রতিমন্ত্রী ইশরাক জানান, আগামী ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ পালন করা হবে। এ উপলক্ষে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহত পরিবারগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। এদিন ভোর ৬টায় শাহবাগে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হবে। অনুষ্ঠানে আন্দোলনের সময় নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ড নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। পাশাপাশি শহীদ ও আহত পরিবারের কয়েকজন সদস্য বক্তব্য দেবেন।

প্রতিমন্ত্রী ইশরাক আরও জানান, আগামী ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে পালন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওই দিন সংঘটিত দুটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের পর আন্দোলনের প্রভাব দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচিত হয় এবং আন্দোলন আরও ত্বরান্বিত হয়।

এদিন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ আবু সাঈদের স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আহমেদ আজম খান উপস্থিত থাকবেন। একই দিনে চট্টগ্রামের কক্সবাজারের পেকুয়ায় শহীদ ওয়াসিম আকরামের স্মরণেও একই মর্যাদায় একটি স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। সেখানে উপস্থিত থেকে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন ইশরাক হোসেন।

প্রতিমন্ত্রী ইশরাক বলেন, ‘২০২৪ সালের ১৫ জুলাই ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও বহিরাগত সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢুকে ছাত্রছাত্রীদের ওপর হামলা চালায়। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ছিল বেশি তীব্র। দিনটিকে স্মরণ করে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হচ্ছে। প্রদর্শনীর নাম হতে পারে “ক্যাম্পাসের ক্ষতচিহ্ন” অথবা “প্রতিরোধের সূচনা”। চারুকলা একাডেমি বা জাতীয় জাদুঘরের সামনে কিংবা শাহবাগ স্কয়ারের উন্মুক্ত স্থানে প্রদর্শনী হতে পারে।’

এছাড়া ১৮ জুলাই ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি রেজিস্ট্যান্স ডে’ পালন করা হবে বলেও জানান ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, ‘১৬ ও ১৭ জুলাইয়ের ঘটনার পর ১৮ জুলাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে আসেন এবং সেদিন সম্ভবত চারজন শহীদ হন। এই আন্দোলন পুরো গণআন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। এ উপলক্ষে আর্মি স্টেডিয়ামে একটি প্রতিবাদী সমাবেশ হবে। পরে সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রতিবাদী গানের আয়োজন করা হবে।’

২৪ জুলাই যাত্রাবাড়ীতে শুরু হওয়া প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণ, ছাত্র-জনতা এবং অসংখ্য মাদ্রাসার শিক্ষার্থী অংশ নেন। যাত্রাবাড়ী থেকে চট্টগ্রাম মহাসড়ক পর্যন্ত প্রায় ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কয়েক দিন অবরোধ কর্মসূচি চলেছিল। সেখানে কমপক্ষে ৮০ জন শহীদ হন বলে উল্লেখ করেন ইশরাক হোসেন। তাদের স্মরণে এবং ওই স্থানকে স্মরণীয় করে রাখতে সেখানে একটি সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।