স্টাফ রিপোর্টার: লক্ষ্মীপুরে বেশিরভাগ গ্রামীন সড়কের বেহাল দশা। দীর্ঘদিন ধরে সড়কগুলো সংস্কার না হওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। স্কুল, কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী, কর্মজীবী ও সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণেই সড়ক মেরামত হচ্ছে না বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। তবে স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বলছেন, জেলায় ১ হাজার কিলোমিটার গ্রামীন কাঁচা সড়ক রয়েছে। যে সমস্ত সড়কের অবস্থায় নাজুক,সেগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দরপত্র আহবান ও প্রাক্কলন তৈরি করে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে কাজ শুরু হবে। গত ৬ মাসে এই দুই সড়কে ১০টি সড়ক দূর্ঘটনায় ২০জন আহত ও ৫জন নিহত হয়েছে। তাই দ্রুত গ্রামাঞ্চলের প্রতিটি সড়ক সংস্কারে করে যানবাহন ও সাধারন মানুষের চলাচলের উপযোগী করার দাবী স্থানীয়দের।
এলজিইডি ও স্থানীয়রা জানায়, সদর উপজেলার জকসিন-পোদ্দার বাজার ১০কিলোমিটার সড়কের বেশিরভাগ কার্পেটিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। বড়বড় খানাখন্দে এ সড়কের বেহাল অবস্থায়। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে রামগঞ্জ-চন্দ্রগঞ্জ ও সদর উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করে। চলাচল করে শতশত ছোট-বড় যানবাহনও। এর আশপাশে রয়েছে মাধ্যমিক স্কুল,সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসাসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও হাট-বাজার। কিন্তু সড়কের অবস্থায় এতো নাজুক, চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে করে প্রায়ই ঘটেছে দূর্ঘটনা। অনেক সময় গর্তে পড়ে গাড়ি আটকে গিয়ে যাত্রীয়দের নেমে ঠেলে গাড়ি বের করতে হচ্ছে। এমন দৃশ্য এখানে প্রতিদিনই স্বাভাবিক। শিক্ষার্থীদের জন্য সড়ক যেন যুদ্ধের ময়দান। বৃষ্টির দিনে কেউ পলিথিনে মোড়ানো বই নিয়ে হাঁটে, কেউ পা পিছলে পড়ে যায় কাদায়। আবার গাড়ি আটকে নষ্ট হচ্ছে যন্ত্রাংশ। শুধু জকসিন-পোাদ্দার বাজার সড়কেই নয়, একই অবস্থায় দালাল বাজার-মীরগঞ্জ সড়কসহ জেলার বেশিরভাগ গ্রামীন সড়কের একই অবস্থায়। বছরের পর বছর গ্রামীন সড়ক সংস্কার না হওয়ায় রাস্তায় চলাফেরা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। ভোগান্তিতে কয়েকলাখ মানুষ। দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়ক সংস্কার না হলে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, বছরের পর বছর গ্রামীন সড়ক সংস্কার না হওয়ায় রাস্তায় চলাফেরা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। যেখানে গন্তব্য স্থলে ২০ মিনিটের পথ,সেখানে যেতে হচ্ছে দুই থেকে তিন ঘন্টা। আবার সঠিক সময়ে গন্তব্য স্থলে পৌঁছাতে না পারায় ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কবে নাগাদ সমস্যা সমাধান হবে সেটাও নিশ্চিত নয়। আবার ছোট কিছু যানবাহন চলাচল করলেও চলছেনা বড় কোন যানবাহন। এছাড়া স্কুল ও মাদ্রাসার শত শত শিক্ষার্থী সঠিক সময়ে প্রতিষ্ঠানে যেতে না পারায় তাদের পড়ালেখা ব্যাহত হয়। রোগী বহনকারী এ্যাম্বলেন্স এই সড়কে প্রবেশ না করায় ঠিক মত চিকিৎসা সেবা দেয়া যাচ্ছেনা। ফলে স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে মানুষ।
স্কুল ছাত্রী সুরাইয়া জাহান ও ফাহিম হাসান বলেন,অনেক আগে প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে বাসা থেকে বের হতে হয়। আতঙ্কিত হয়ে এ সড়কে চলাচল করছি। রোজই কাপড় ভিজে যায়। বই খাতা ভিজে নষ্ট হয়। কষ্ট করে স্কুলে যেতে হয়। স্কুল যাওয়ার সময় রাস্তার গর্তে মাঝে মাঝে পড়ে যাই। এতে স্কুল ড্রেস নষ্ট হচ্ছে। সঠিক সময়ে বিদ্যালয়ে যেতে না পারায় পড়ালেখা ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুতত সড়কগুলো সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।
ট্রাক চালক আবুল হোসেনসহ যানবাহন চালকরা জানায়, রাস্তা খারাপের কারনে যানবাহন চলাচল করতে অনেক সমস্যা হচ্ছে। অনেক সময় বড়বড় গর্তে গাড়ি আটকে যায়। আবার যানবাহনের যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে প্রায়ই ঘটছে নানান দূর্ঘটনা সঠিক সময়ে গন্তব্য পৌঁছানো যাচ্ছেনা। চরম দূর্ভোগের মধ্যে রয়েছি। দ্রুত গ্রামীন সড়কগুলো মেরামত ও সংস্কার করার দাবী জানান তারা।
সড়কের বেহাল দশার বিষয়ে লক্ষ্মীপুর এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মো.উজ্জ্বল চৌধুরী বলেন, জেলায় ১ হাজার কিলোমিটার গ্রামীন কাঁচা সড়ক রয়েছে। যে সমস্ত সড়কের অবস্থায় নাজুক,সেগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দরপত্র আহবান ও প্রাক্কলন তৈরি করে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে কাজ শুরু হবে।
মেঘনার তীর 



















