ঢাকা ১০:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চাঁদার টাকার জন্য দোকানে ও ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়ার চেষ্টা, তিন ব্যবসায়ী আহত লক্ষ্মীপুরে নকল ঘির ডিলারকে লাখ টাকা জরিমানা : ৩৫০ কেজি ঘি ধ্বংস লক্ষ্মীপুরে সাংবাদিককে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় ৬জনকে আসামী করে থানায় মামলা, দুই মামলায় গ্রেফতার সন্ত্রাসী সাকিব  দীপ্ত টিভির সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলমকে গুলি, অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা, বাহিনী প্রধান সাকিবকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্মীপুরে পানিতে ডুবে একই পরিবারের তিনজন নিহত রায়পুরে মাদকাসক্ত যুবকের দেয়া আগুনে পুড়ে গেছে ১১টি বসতঘরসহ৬ দোকান,অভিযুক্তকে গনপিটুনি উৎসাহ-উদ্দীপনায় শ্রী কৃষ্ণের জন্মতিথি জন্মাষ্টমী উদযাপিত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয় দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ :স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জাতীয়তাবাদের নতুন রাজনীতি সৃষ্টি করেছেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান: পানিসম্পদমন্ত্রী

ইউটিউব-অনলাইনে ড্রাগন চাষ শিখে চমকে দিয়েছেন শিক্ষক নাঈম,২৫ লাখ টাকা আয়ের আশা

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ০৯:১১:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
  • 105

স্টাফ রিপোর্টার: মাজহারুল ইসলাম নাঈম। তিনি একটি মাদ্রাসার আইসিটি বিষয়ক শিক্ষক। শিক্ষকতার পাশাপাশি অবসর সময়ে কিছু একটা করতে হবে এ ভাবনা থেকে অনাবাদি জমি ইজারা নিয়ে গড়ে তোলেন ফল বাগান। এরপর তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। বর্তমানে তার বাগানে ৬ হাজার ড্রাগন গাছ রয়েছে। গাছের সারিতে বিপুল কাঁচা-পাকা ড্রাগন আর পেঁপে ও পেয়ারাসহ অন্য ফলও উৎপাদন হচ্ছে। সঙ্গে ছাগলও রয়েছে অর্ধশতাধিক। বর্তমানে মাজহারুল ইসলাম নাঈম চাকরির ফাঁকে বাগানে সময় দেন। এছাড়া ফল সংগ্রহ, বাছাই, প্যাকেজিং ও বাজারজাতকরণে নিয়মিত কাজ করছেন স্থানীয় কয়েকজন শ্রমিক। সদর উপজেলার মধ্য চররমনী মোহন গ্রামে নাঈমের বাগান। ২০২১ সালে ৩২০ শতাংশ জমি ইজারা নিয়ে তিনি বাণিজ্যিকভাবে বাগানটি গড়ে তুলেছেন।

প্রথমে বাবা নজরুল ইসলাম খানের সহযোগিতায় ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। কৃষিতে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও প্রযুক্তি ও অনলাইনভিত্তিক জ্ঞান কাজে লাগিয়ে গড়ে তোলেন খান এগ্রো পার্ক। একের পর এক পরিকল্পিতভাবে সেখানে পেয়ারা, ড্রাগন, পেঁপের বাগান গড়ে তোলেন। দিনদিন বাগানের পরিধি বাড়তে থাকে।
বাগানে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি খুঁটিতে জড়ানো গাছে ফুল, কাঁচা, আধাপাকা, পাকা ড্রাগন ফলে ভরপুর। সবুজে যেন চোখ আটকে যায়। শ্রমিকরা পাকা ফল কেটে বালতিতে তুলছেন। অন্যরা টুকরি ভরে চালান ঘরে নিয়ে স্তূপ করছেন। সেখান থেকে পাইকাররা ওজন করে পাইকারি ফল সংগ্রহ করেন। বর্তমানে বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে অর্ধকোটি টাকা। চলতি মৌসুমে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার ড্রাগন বিক্রির সম্ভাবনা আছে।

স্থানীয় কৃষক আবুল হোসেন ও তোফায়েল আহমদ বলেন, ড্রাগনে কম রোগবালাই ও ভালো বাজারমূল্যের কারণে সহজে লাভবান হওয়া যায়। কৃষকদের সঠিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিলে দিনদিন ড্রাগন চাষে অনেকে আগ্রহী হবেন। একসময় আমরা মনে করতাম, এটি বিদেশি ফল, এ দেশে হবে না। এখন দেখি আমাদের গ্রামের নাঈম চমকে দিয়েছেন।

উদ্যোক্তা মাজহারুল ইসলাম নাঈম বলেন, করোনার সময় ইউটিউব ও অনলাইনে ড্রাগন চাষ সম্পর্কে ধারণা নিয়েছি। প্রথমে প্রায় ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগে শুরু করেছিলাম। এখন অনেক শ্রমিকের কর্মসংস্থান হচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন দেখতে আসছেন।

নাঈমের বাবা নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমি বাগানের দেখভাল, তদারকি ও বাজারজাতকরণ দেখি। শুরুতে বিষয়টি নতুন ছিল। এখন অভিজ্ঞতা বেড়েছে। ফলন ভালো হচ্ছে। বাজারে ড্রাগনের চাহিদাও বেশ। প্রথমে পাইকারি প্রতি কেজি ৩০০-৪০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। এখন তা বিক্রি হচ্ছে ১৫০-৩০০ টাকা কেজি।

লক্ষ্মীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মঞ্জুর হোসেন বলেন, তরুণ উদ্যোক্তা শিক্ষক নাঈমের স্বপ্ন আর প্রযুক্তিনির্ভর পরিকল্পনা বদলে দিয়েছে অনাবাদি জমির চিত্র। সেই সঙ্গে সৃষ্টি করেছে কর্মসংস্থান ও কৃষিভিত্তিক নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। ড্রাগন চাষ শুধু লাভজনক নয়, কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে বিপ্লব ঘটাতে পারে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদার টাকার জন্য দোকানে ও ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়ার চেষ্টা, তিন ব্যবসায়ী আহত

ইউটিউব-অনলাইনে ড্রাগন চাষ শিখে চমকে দিয়েছেন শিক্ষক নাঈম,২৫ লাখ টাকা আয়ের আশা

আডেট সময় ০৯:১১:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: মাজহারুল ইসলাম নাঈম। তিনি একটি মাদ্রাসার আইসিটি বিষয়ক শিক্ষক। শিক্ষকতার পাশাপাশি অবসর সময়ে কিছু একটা করতে হবে এ ভাবনা থেকে অনাবাদি জমি ইজারা নিয়ে গড়ে তোলেন ফল বাগান। এরপর তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। বর্তমানে তার বাগানে ৬ হাজার ড্রাগন গাছ রয়েছে। গাছের সারিতে বিপুল কাঁচা-পাকা ড্রাগন আর পেঁপে ও পেয়ারাসহ অন্য ফলও উৎপাদন হচ্ছে। সঙ্গে ছাগলও রয়েছে অর্ধশতাধিক। বর্তমানে মাজহারুল ইসলাম নাঈম চাকরির ফাঁকে বাগানে সময় দেন। এছাড়া ফল সংগ্রহ, বাছাই, প্যাকেজিং ও বাজারজাতকরণে নিয়মিত কাজ করছেন স্থানীয় কয়েকজন শ্রমিক। সদর উপজেলার মধ্য চররমনী মোহন গ্রামে নাঈমের বাগান। ২০২১ সালে ৩২০ শতাংশ জমি ইজারা নিয়ে তিনি বাণিজ্যিকভাবে বাগানটি গড়ে তুলেছেন।

প্রথমে বাবা নজরুল ইসলাম খানের সহযোগিতায় ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। কৃষিতে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও প্রযুক্তি ও অনলাইনভিত্তিক জ্ঞান কাজে লাগিয়ে গড়ে তোলেন খান এগ্রো পার্ক। একের পর এক পরিকল্পিতভাবে সেখানে পেয়ারা, ড্রাগন, পেঁপের বাগান গড়ে তোলেন। দিনদিন বাগানের পরিধি বাড়তে থাকে।
বাগানে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি খুঁটিতে জড়ানো গাছে ফুল, কাঁচা, আধাপাকা, পাকা ড্রাগন ফলে ভরপুর। সবুজে যেন চোখ আটকে যায়। শ্রমিকরা পাকা ফল কেটে বালতিতে তুলছেন। অন্যরা টুকরি ভরে চালান ঘরে নিয়ে স্তূপ করছেন। সেখান থেকে পাইকাররা ওজন করে পাইকারি ফল সংগ্রহ করেন। বর্তমানে বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে অর্ধকোটি টাকা। চলতি মৌসুমে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার ড্রাগন বিক্রির সম্ভাবনা আছে।

স্থানীয় কৃষক আবুল হোসেন ও তোফায়েল আহমদ বলেন, ড্রাগনে কম রোগবালাই ও ভালো বাজারমূল্যের কারণে সহজে লাভবান হওয়া যায়। কৃষকদের সঠিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিলে দিনদিন ড্রাগন চাষে অনেকে আগ্রহী হবেন। একসময় আমরা মনে করতাম, এটি বিদেশি ফল, এ দেশে হবে না। এখন দেখি আমাদের গ্রামের নাঈম চমকে দিয়েছেন।

উদ্যোক্তা মাজহারুল ইসলাম নাঈম বলেন, করোনার সময় ইউটিউব ও অনলাইনে ড্রাগন চাষ সম্পর্কে ধারণা নিয়েছি। প্রথমে প্রায় ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগে শুরু করেছিলাম। এখন অনেক শ্রমিকের কর্মসংস্থান হচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন দেখতে আসছেন।

নাঈমের বাবা নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমি বাগানের দেখভাল, তদারকি ও বাজারজাতকরণ দেখি। শুরুতে বিষয়টি নতুন ছিল। এখন অভিজ্ঞতা বেড়েছে। ফলন ভালো হচ্ছে। বাজারে ড্রাগনের চাহিদাও বেশ। প্রথমে পাইকারি প্রতি কেজি ৩০০-৪০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। এখন তা বিক্রি হচ্ছে ১৫০-৩০০ টাকা কেজি।

লক্ষ্মীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মঞ্জুর হোসেন বলেন, তরুণ উদ্যোক্তা শিক্ষক নাঈমের স্বপ্ন আর প্রযুক্তিনির্ভর পরিকল্পনা বদলে দিয়েছে অনাবাদি জমির চিত্র। সেই সঙ্গে সৃষ্টি করেছে কর্মসংস্থান ও কৃষিভিত্তিক নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। ড্রাগন চাষ শুধু লাভজনক নয়, কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে বিপ্লব ঘটাতে পারে।