ঢাকা ০৯:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
লক্ষ্মীপুরে নবীন আইনজীবীদের সংবর্ধনা দিলো আইনজীবী ফোরাম বাগেরহাটের আইনজীবী নিজাম শান্ত হত্যার প্রতিবাদে লক্ষ্মীপুরে মানববন্ধন তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী: দুই চিকিৎসক ও এক নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা যারা ইনসাফের কথা বলে,তাদের অপকর্মের শেষ নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ লক্ষ্মীপুরে পুকুরে ডুবে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু লক্ষ্মীপুরে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ১ কোটি ১ লাখ টাকার অনুদান তরুণ সমাজকে মোবাইল ও মাদকের ভয়াবহ আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী সেবার মান বাড়াতে ৫০ শয্যায় হাসপাতালকে ১০১ করতে খুব শিগগির দরপত্র আহ্বান করা হবে:স্বাস্থ্যমন্ত্রী লক্ষ্মীপুর ক্লাব লিমিটেডের তিন যুগ পুর্তি উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও গুণীজন সন্মাননা

রায়পুর ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স:  ৯৮টি পদ শুণ্য, অস্ত্রোপচার বন্ধ দুই বছর,ভোগান্তি

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ০৯:২০:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
  • 44

তাবারক হোসেন আজাদ: লক্ষ্মীপুরের রায়পুর ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স তীব্র জনবল সংকটে ভুগছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স, কর্মচারী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ৯৮টি পদ শূন্য থাকায় হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা যথাযথ সেবা পাচ্ছেন না। পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাইরে তিনগুন বেশি টাকায় করাতে হচ্ছে রোগীদের। প্রতিদিন বর্হিবিভাগে ৫’শ রুগী উপকুলীয় অঞ্চল থেকে চিকিৎসা নিতে আসে।অপরদিকে-বাউন্ডারি ওয়াল নাথাকায় এক মাস ধরে চোর ও মাদকসেবিদের উপদ্রুপ বেড়েছে।

আধুনিক সব সরঞ্জামসহ রয়েছে সুসজ্জিত অস্ত্রোপচার কক্ষ। কিন্তু চিকিৎসক ও চরম জালানি-সংকটের কারণে গরীব রোগীদের অস্ত্রোপচার করা যাচ্ছে না গত তিন বছর। বিশেষ প্রয়োজন হলে অস্রোপচার হয়। জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের বেশি টাকা খরচ করে জেলা শহরের বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে গিয়ে অস্ত্রোপচার করাতে হচ্ছে।

রায়পুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, ২০০৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া রায়পুর পৌরসভার দেনায়েতপুর এলাকায় স্থাপিত এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করেন। গত ২০ বছর জনবল সংকটের মধ্যে দিয়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে এই হাসপাতালটি। ১০টি ইউনিয়নের প্রায় চার লাখ মানুষ এখান থেকে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে থাকেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, গত দুই বছর অস্ত্রোপচার বন্ধ থাকায় চিকিৎসক ও জনবল-সংকটে হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রসূতিদের অস্ত্রোপচারের জন্য একজন গাইনি সার্জনসহ জনবল খুবই প্রয়োজন। হাসপাতালে অবেদনবিদ থাকলেও স্ত্রী’রোগ বিশেষজ্ঞ নেই। প্রায় তিন বছর আগে স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসুচির নামে একটি প্রকল্পের অধিনে বিশাল একটি জেনারেটসহ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি সরবরাহ হলেও তা ব্যাবহার না করায় অচল পড়ে আছে। নষ্ট হচ্ছে মুল্যবান যন্ত্রপাতি। অন্য অস্ত্রোপচারের জন্যও এই অবহেলিত হাসপাতালটিতে সার্জারি ও-বিশেষজ্ঞও নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক, নার্স, তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীসহ মোট পদ রয়েছে ২০৩টি। এর মধ্যে ৯৭টি পদ শূন্য। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের পদ রয়েছে ৩১টি। এর বিপরীতে কর্মরত ১৮ জন। চিকিৎসা কর্মকর্তাদের ৮টি পদের ৪টি শূন্য। জুনিয়র কনসালট্যান্ট পদের ১০টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৫ জন।-বিশেষজ্ঞ কোন চিকিৎসক নেই। একজন নারী ডেন্টাল সার্জন আছেন। তাই আধুনিক কোন যন্ত্রপাতি নেই। অলস সময় কাটিয়ে পার করেন। হাসপাতালে প্রতি মাসে প্রচুর শিশু রোগী চিকিৎসা নিতে এলেও এই হাসপাতালে শিশু বিশেষজ্ঞ আছেন দুইজন।

অর্থোপেডিক, চক্ষু, চর্ম ও যৌন, নাক কান গলা, হৃদ্‌রোগ-বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো সৃষ্টি করা হলেও আজও পদায়ন করা হচ্ছেনা। এ ছাড়া হাসপাতালে সিনিয়র স্টাফ নার্স ৩০ জনের মধ্যে আছেন ১৫ জন। ওয়ার্ড বয়, আয়া ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ২৪টি পদের বিপরীতে আছে ১১ জন।
চারটি কোয়াটার ভবন থাকলেও ঝুকিপুর্ণ ও বৃষ্টির পানি পড়ায় কোন চিকিৎসক থাকেননা।

হাসপাতালটিতে ২০০৭ সালে অপারেশন থিয়েটার (ওটি) চালু হয়। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব ধরনের অস্ত্রোপচারই চালু ছিলো। দুই বছর ধরে চালুর উদ্যোগ নিলেও জেনরেটর ও লোকবলের কারনে হচ্ছেনা। বিশেষজ্ঞ অবেদনবিদ ইয়াসিন মাহমুদ দায়িত্ব পালন করছেন। গত তিন বছর জেনারেটর থাকলেও তা অকেজো থাকায় অস্ত্রোপচার কার্যক্রম থমকে দাঁড়ায়। বিশেষ প্রয়োজনে মাঝে মাঝে অস্রোপচার হয়ে থাকে। বিদ্যুত চলে গেলে মোমবাতি সাহায্যে অস্রোপচার হয়।

হাসপাতালে গত জানুয়ারি থেকে জুন—এই ছয় মাসে ১৫ হাজার ৬৭৮ জন রোগী বহির্বিভাগে সেবা নিয়েছেন। এর মধ্যে ১১ হাজার ৭৬৩ জন নারী এবং ৪ হাজার ৯৩১ জন শিশু রোগী; অর্থাৎ মাসে গড়ে এখানে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার রোগী বহির্বিভাগে সেবা নেন। গত জুন মাসে দিনেগড়ে ৫৪ রোগী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

সোমবার (৬ জুলাই) সরেজমিনে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত ৫০ শয্যার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন সমস্যার কথা জানা যায়, হাসপাতালটিতে ১টি পুরোনো দ্বিতল ভবন ও ১টি নতুন দ্বিতলা ভবন আছে। পুরোনো দ্বিতল ভবনটিতে রোগী রাখার ব্যবস্থা থাকলেও মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হয়। প্রশাসনিক ভবনে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয়, ফার্মেসি ও সম্মেলনকক্ষ করা হয়। চিকিৎসা নেওয়ার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কক্ষের সামনে রোগীর দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাইরে বারান্দাতেও শয্যা পাতা হয়েছে। হাসপাতালের অস্ত্রোপচারের কক্ষটি তালাবদ্ধ। ওটি ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ নার্সের সহযোগিতায় তালা খোলা হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের জন্য সব সরঞ্জাম রয়েছে। নতুন ভবনের দ্বিতলায় পোস্ট অপারেটিভ কক্ষটিও সুসজ্জিত রাখা। তবে হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের কোনো ব্যবস্থা নেই।

রায়পুরের চরআবাবিল ইউনিয়নের উদমারা গ্রামের বাসিন্দা কুলসুমা আক্তার বুকে-পিঠে ব্যথা নিয়ে ছয় দিন ধরে হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন। তিনি বলেন, প্রতিদিন চিকিৎসক দেখে যান। খাওয়া দাওয়াও মোটামোটি ভাল। এক্সেরে কক্ষটি মাঝে মাঝে খোলা হয়। তিনগুন টাকা বেশি দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাইরে থেকে করতে হচ্ছে রুগীদের।

এসব বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বাহারুল আলম বলেন, ‘অস্ত্রোপচারকক্ষ চালু করতে পারলে মানুষ উপকৃত হতো। অবেদনবিদ থাকার পরও অস্ত্রোপচারকক্ষ চালু করেছিলাম। এখন গত দুই বছর ধরে তা বন্ধ রয়েছে। বিশেষ প্রয়োজনে তা চালু করা হয়। জনবল সংকটের বিষয়টি প্রতি মাসের প্রতিবেদনেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও লাভ হচ্ছেনা। লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদর একাংশ)আসনের এমপি আবুল খায়ের ভুঁইয়াকেও জানানো হয়।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

লক্ষ্মীপুরে নবীন আইনজীবীদের সংবর্ধনা দিলো আইনজীবী ফোরাম

রায়পুর ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স:  ৯৮টি পদ শুণ্য, অস্ত্রোপচার বন্ধ দুই বছর,ভোগান্তি

আডেট সময় ০৯:২০:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

তাবারক হোসেন আজাদ: লক্ষ্মীপুরের রায়পুর ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স তীব্র জনবল সংকটে ভুগছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স, কর্মচারী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ৯৮টি পদ শূন্য থাকায় হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা যথাযথ সেবা পাচ্ছেন না। পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাইরে তিনগুন বেশি টাকায় করাতে হচ্ছে রোগীদের। প্রতিদিন বর্হিবিভাগে ৫’শ রুগী উপকুলীয় অঞ্চল থেকে চিকিৎসা নিতে আসে।অপরদিকে-বাউন্ডারি ওয়াল নাথাকায় এক মাস ধরে চোর ও মাদকসেবিদের উপদ্রুপ বেড়েছে।

আধুনিক সব সরঞ্জামসহ রয়েছে সুসজ্জিত অস্ত্রোপচার কক্ষ। কিন্তু চিকিৎসক ও চরম জালানি-সংকটের কারণে গরীব রোগীদের অস্ত্রোপচার করা যাচ্ছে না গত তিন বছর। বিশেষ প্রয়োজন হলে অস্রোপচার হয়। জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের বেশি টাকা খরচ করে জেলা শহরের বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে গিয়ে অস্ত্রোপচার করাতে হচ্ছে।

রায়পুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, ২০০৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া রায়পুর পৌরসভার দেনায়েতপুর এলাকায় স্থাপিত এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করেন। গত ২০ বছর জনবল সংকটের মধ্যে দিয়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে এই হাসপাতালটি। ১০টি ইউনিয়নের প্রায় চার লাখ মানুষ এখান থেকে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে থাকেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, গত দুই বছর অস্ত্রোপচার বন্ধ থাকায় চিকিৎসক ও জনবল-সংকটে হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রসূতিদের অস্ত্রোপচারের জন্য একজন গাইনি সার্জনসহ জনবল খুবই প্রয়োজন। হাসপাতালে অবেদনবিদ থাকলেও স্ত্রী’রোগ বিশেষজ্ঞ নেই। প্রায় তিন বছর আগে স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসুচির নামে একটি প্রকল্পের অধিনে বিশাল একটি জেনারেটসহ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি সরবরাহ হলেও তা ব্যাবহার না করায় অচল পড়ে আছে। নষ্ট হচ্ছে মুল্যবান যন্ত্রপাতি। অন্য অস্ত্রোপচারের জন্যও এই অবহেলিত হাসপাতালটিতে সার্জারি ও-বিশেষজ্ঞও নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক, নার্স, তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীসহ মোট পদ রয়েছে ২০৩টি। এর মধ্যে ৯৭টি পদ শূন্য। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের পদ রয়েছে ৩১টি। এর বিপরীতে কর্মরত ১৮ জন। চিকিৎসা কর্মকর্তাদের ৮টি পদের ৪টি শূন্য। জুনিয়র কনসালট্যান্ট পদের ১০টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৫ জন।-বিশেষজ্ঞ কোন চিকিৎসক নেই। একজন নারী ডেন্টাল সার্জন আছেন। তাই আধুনিক কোন যন্ত্রপাতি নেই। অলস সময় কাটিয়ে পার করেন। হাসপাতালে প্রতি মাসে প্রচুর শিশু রোগী চিকিৎসা নিতে এলেও এই হাসপাতালে শিশু বিশেষজ্ঞ আছেন দুইজন।

অর্থোপেডিক, চক্ষু, চর্ম ও যৌন, নাক কান গলা, হৃদ্‌রোগ-বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো সৃষ্টি করা হলেও আজও পদায়ন করা হচ্ছেনা। এ ছাড়া হাসপাতালে সিনিয়র স্টাফ নার্স ৩০ জনের মধ্যে আছেন ১৫ জন। ওয়ার্ড বয়, আয়া ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ২৪টি পদের বিপরীতে আছে ১১ জন।
চারটি কোয়াটার ভবন থাকলেও ঝুকিপুর্ণ ও বৃষ্টির পানি পড়ায় কোন চিকিৎসক থাকেননা।

হাসপাতালটিতে ২০০৭ সালে অপারেশন থিয়েটার (ওটি) চালু হয়। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব ধরনের অস্ত্রোপচারই চালু ছিলো। দুই বছর ধরে চালুর উদ্যোগ নিলেও জেনরেটর ও লোকবলের কারনে হচ্ছেনা। বিশেষজ্ঞ অবেদনবিদ ইয়াসিন মাহমুদ দায়িত্ব পালন করছেন। গত তিন বছর জেনারেটর থাকলেও তা অকেজো থাকায় অস্ত্রোপচার কার্যক্রম থমকে দাঁড়ায়। বিশেষ প্রয়োজনে মাঝে মাঝে অস্রোপচার হয়ে থাকে। বিদ্যুত চলে গেলে মোমবাতি সাহায্যে অস্রোপচার হয়।

হাসপাতালে গত জানুয়ারি থেকে জুন—এই ছয় মাসে ১৫ হাজার ৬৭৮ জন রোগী বহির্বিভাগে সেবা নিয়েছেন। এর মধ্যে ১১ হাজার ৭৬৩ জন নারী এবং ৪ হাজার ৯৩১ জন শিশু রোগী; অর্থাৎ মাসে গড়ে এখানে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার রোগী বহির্বিভাগে সেবা নেন। গত জুন মাসে দিনেগড়ে ৫৪ রোগী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

সোমবার (৬ জুলাই) সরেজমিনে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত ৫০ শয্যার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন সমস্যার কথা জানা যায়, হাসপাতালটিতে ১টি পুরোনো দ্বিতল ভবন ও ১টি নতুন দ্বিতলা ভবন আছে। পুরোনো দ্বিতল ভবনটিতে রোগী রাখার ব্যবস্থা থাকলেও মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হয়। প্রশাসনিক ভবনে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয়, ফার্মেসি ও সম্মেলনকক্ষ করা হয়। চিকিৎসা নেওয়ার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কক্ষের সামনে রোগীর দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাইরে বারান্দাতেও শয্যা পাতা হয়েছে। হাসপাতালের অস্ত্রোপচারের কক্ষটি তালাবদ্ধ। ওটি ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ নার্সের সহযোগিতায় তালা খোলা হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের জন্য সব সরঞ্জাম রয়েছে। নতুন ভবনের দ্বিতলায় পোস্ট অপারেটিভ কক্ষটিও সুসজ্জিত রাখা। তবে হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের কোনো ব্যবস্থা নেই।

রায়পুরের চরআবাবিল ইউনিয়নের উদমারা গ্রামের বাসিন্দা কুলসুমা আক্তার বুকে-পিঠে ব্যথা নিয়ে ছয় দিন ধরে হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন। তিনি বলেন, প্রতিদিন চিকিৎসক দেখে যান। খাওয়া দাওয়াও মোটামোটি ভাল। এক্সেরে কক্ষটি মাঝে মাঝে খোলা হয়। তিনগুন টাকা বেশি দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাইরে থেকে করতে হচ্ছে রুগীদের।

এসব বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বাহারুল আলম বলেন, ‘অস্ত্রোপচারকক্ষ চালু করতে পারলে মানুষ উপকৃত হতো। অবেদনবিদ থাকার পরও অস্ত্রোপচারকক্ষ চালু করেছিলাম। এখন গত দুই বছর ধরে তা বন্ধ রয়েছে। বিশেষ প্রয়োজনে তা চালু করা হয়। জনবল সংকটের বিষয়টি প্রতি মাসের প্রতিবেদনেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও লাভ হচ্ছেনা। লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদর একাংশ)আসনের এমপি আবুল খায়ের ভুঁইয়াকেও জানানো হয়।