তাবারক হোসেন আজাদ: লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ১৮৯৬ সালে মাত্র দশ শতাংশ জমিতে রাখালিয়া ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্কুলটি নির্মাণ করা হয় । টিনচালা স্কুলটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুকিপুর্ণ থাকায় ২০০১ সালে ডান পাশের ঝুকিপর্ণ টিনের ঘরটি বাদ রেখে বাম পাশে মসজিদের দেয়াল ঘেষে এক তলা ভবন করা হয়। কয়েক বছর পর এই ভবনের ফাটল দেখা দিলে ২০১৩-১৪ সালে দ্বিতল ভবন করা হয়। কিন্তু তার ডান পাশে ঝরাজীর্ণ ও ঝুকিপুর্ণ স্কুল ঘরটি এখন বৃষ্টি হলেই শ্রেণিকক্ষের চুইয়ে পড়ে পানি। বেঞ্চ সরিয়ে শুষ্ক জায়গা খোঁজে বসতে হয় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। ঝুঁকি ওআতঙ্কের মধ্যে ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের। বিদ্যালয়ের চারপাশে ময়লাআবর্জনা ভরপুর।
বিদ্যালয়টি পাঠযোগ্য করতে ময়লাগুলো অপসারন এবল দ্রুত সংস্কারসহ নতুন ভবন, ওয়াসব্লক ও মাঠ নির্মাণ দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, বছরের পর বছর ব্যবহারে টিনের স্কুল ঘরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। টিনের চাল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টি হলেই শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে। এতে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্কুল ঘরটি শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্কুল ঘরের চারটি দরজা ও ১০টি জানালাও সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে শ্রেণিকক্ষের স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়েছে। রাতে স্কুল ঘরটিতে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। এতে বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে শিক্ষক,অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এদিকে বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বেঞ্চের অভাবে অনেক শিক্ষার্থী কষ্ট করে ক্লাস করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের ব্যবহারের জন্য চেয়ার-টেবিলেরও সংকট রয়েছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি কাউছার চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে টিনের তৈরি স্কুলঘরটিতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালিয়ে যাওয়া দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। দ্রুত সংস্কার না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। স্কুলের দেয়াল ঘেষে ময়লা আবর্জনা রাখতে নিষেধ করলেও স্থানীয় ব্যাবসায়ীরা তা শুনছেন না। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর ছাত্র চৌধুরী নাহিয়ান হায়দার ও মহিম হোসেন বলেন, স্কুলের চারপাশে ময়লাআবর্জনায় ভরপুর। ক্লাশ করতে পারিনা। নতুন ভবন নাই। ওয়াসব্লক নাই, মাঠ নাই। আমাদের খুব কষ্ট হয়। আমরা নতুন ভবন চাই। ময়লাগুলো সরানো হোক।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) জিয়াসমিন আক্তার বলেন, বৃষ্টির সময় শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়ায় নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষকদের কমনরুমের পাশে ব্যাবসায়ীদের ময়লা আবর্জনায় দুর্গন্ধে পরিবেশ দূষনের পাশাপাশি স্কুল থাকাটা আমাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য কষ্টকর।
সাবেক অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক একটা দুর্ণীতিগ্রস্ত লোক ছিলেন। স্কুলের জন্য কোন কাজই করে যাননি। স্কুলের জমি তিনভাগে ভাগ হয়ে আছে। মাঠ নেই, ভবন নেই ও ওয়াস ব্লক নেই। চারপাশে ময়লাআবর্জনায় ভরপুর।
শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে শিক্ষা নিশ্চিত করতে স্কুলের জায়গায় নতুন ভবন ও আসবাবপত্র সরবরাহ এখন সময়ের দাবি। হাসপাতালের পাশের স্কুলের জায়গা দখল নিয়ে আদালতে একটি মামলাও চলমান রয়ে।
এবিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মঈনুল ইসলাম স্কুলটি ঝুকিপুর্ণ ও সমস্যা রয়েছে বলে স্বীকার করে বলেন, যেসমস্ত স্কুলে সমস্যা রয়েছে তার সবগুলো তালিকাবদ্ধ করে আমরা প্রকল্পের জন্য পাঠানো হয়েছে।
মেঘনার তীর 



















