ঢাকা ০৭:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তরুণ সমাজকে মোবাইল ও মাদকের ভয়াবহ আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী সেবার মান বাড়াতে ৫০ শয্যায় হাসপাতালকে ১০১ করতে খুব শিগগির দরপত্র আহ্বান করা হবে:স্বাস্থ্যমন্ত্রী লক্ষ্মীপুর ক্লাব লিমিটেডের তিন যুগ পুর্তি উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও গুণীজন সন্মাননা নেতৃত্বের কারণে আমরা অনেক পিছিয়ে গিয়েছি: পানিসম্পদ মন্ত্রী জিয়াউর রহমানের মতো সৎ ব্যক্তি বাংলাদেশের ইতিহাসে আর সৃষ্টি হয়নি: জেলা যুবদল সভাপতি ২০২৭ সালে ৩১ কোটি নতুন বই বিতরণ ও ইতিহাস বিকৃতি রোধের ঘোষণা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী মেয়েটি নিজেই এমপি গাজী নজরুলকে সেবা করতে চেয়েছিল: দাবি জামায়াতের এমপির কার্ডের খেলা না খেলে মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করুণ: নাহিদ ইসলাম রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলেন স্পিকার রায়পুরে খাল খনন শেষে অব্যয়িত ৬৫ লাখ টাকা ফেরত

গরুর দুধ বিক্রি করেই চলে সংসার, বার্ধক্যেও থেমে নেই আবুল খায়েরের

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ১১:০৮:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
  • 42

তাবারক হোসেন আজাদ: আশির কোঠায় বয়স। শরীরটা আর সায় দেয় না আগের মতো। হাঁটতে কষ্ট হয়, মাঝে মাঝে বসে পড়েন ক্লান্ত হয়ে। তবু থেমে নেই আবুল খায়েরের। প্রতিদিন সকালেই হাতে লাঠি আর ছাতা নিয়ে মাঠে বেরিয়ে পড়েন গরু চরাতে। কারণ এটুকুই এখন তাঁর জীবনের শেষ ভরসা।

গতকাল শনিবার (১১ জুলাই) উপজেলার দেবিপুর গ্রামে গরুর জন্য ঘাস কেটে বাড়ীতে নেওয়ার পথে রাস্তার পাশে দেখা যায় তাঁকে। লুঙ্গি ছাড়া পরনে কোন জামা নেই। মাথায় গরুর জন্য কাটা ঘাস। সেগুলো গরুর জন্য নেয়া, দুধ বিক্রি করে যে সামান্য আয় হয়, তাতেই চলে আবুল খায়ের ও তাঁর স্ত্রীর জীবন।

জীবনে অনেক কষ্ট করে সংসার টেনেছেন আবুল খায়ের। বাবা নিজাম উদ্দিন মৃত্যুর পর সব ভার এসে পড়ে তাঁর কাঁধে। এখন বয়স হয়েছে, তবু বিশ্রামের সুযোগ হয়নি।

তাঁর তিন সন্তানের মধ্যে দুই ছেলে মারা গেছে, এক মেয়ে ও স্ত্রী রয়েছে। কিন্তু আবুল খায়েরের অভিযোগ,’ এলাকার চেয়ারম্যান-মেম্বাররা নিজেদের নিয়াই ব্যস্ত। খোঁজখবরও নেয় না।’ সরকারি কোনো ভাতা বা সহায়তা পান না আবুল খায়ের। ক্ষোভ ঝরে পড়ে তাঁর কণ্ঠে, ‘মেম্বার বইলা আছিল কার্ড করে দিব। কিন্তু এই পর্যন্ত কিছুই দিল না।’

স্ত্রীর নাম বা বয়স জিজ্ঞেস করলে স্মৃতি হাতড়ে খানিক চুপ থেকে বলেন, ‘নামটা ঠিক মনে নাই… বয়স যে কত !’

এই গ্রামের পথেই আরও অনেক আবুল খায়ের হারিয়ে যাচ্ছেন দিনে দিনে। যাঁদের জীবনের গল্প রাষ্ট্রের কোনো খাতায় নেই, মেম্বারদের প্রতিশ্রুতির ফাঁকে আটকে আছে। তবু আবুল খায়ের থেমে যাননি। যত দিন শরীরে শক্তি আছে, তত দিন মাঠেই থাকবেন—বৃষ্টি হোক আর ঝড়তুফান হোক, গরুর জন্য ঘাস নিতে হবে, ঘাস না নিলে গরুও দুধ দিবেনা, আমাগো সংসারও চলেনা। কারন দুধ বিক্রিতে সংসার।

স্থানীয়রা জানান, আবুল খায়ের অত্যন্ত সৎ ও পরিশ্রমী মানুষ। বয়সের ভারেও তিনি কারও কাছে হাত না পেতে নিজের শ্রমে সংসার চালানোর চেষ্টা করছেন। তার আর্থিক অবস্থা খুবই নাজুক। সরকারি সহায়তা এবং সমাজের বিত্তবান মানুষের সহযোগিতা পেলে জীবনের শেষ বয়সে কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন তিনি।

(ছবিতে দেখা যায়(১১ জুলাই/ বিকেল ৫টা), বৃষ্টিভেজা ইটের পথ ধরে মাথায় ঘাসের বোঝা বহন করে বাড়ির পথে হাঁটছেন বৃদ্ধ আবুল খায়ের। বয়স ও দারিদ্র্যের সঙ্গে প্রতিদিন লড়াই করা মানুষটি যেন গ্রামবাংলার অদম্য জীবন সংগ্রামের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।)……

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

তরুণ সমাজকে মোবাইল ও মাদকের ভয়াবহ আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী

গরুর দুধ বিক্রি করেই চলে সংসার, বার্ধক্যেও থেমে নেই আবুল খায়েরের

আডেট সময় ১১:০৮:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

তাবারক হোসেন আজাদ: আশির কোঠায় বয়স। শরীরটা আর সায় দেয় না আগের মতো। হাঁটতে কষ্ট হয়, মাঝে মাঝে বসে পড়েন ক্লান্ত হয়ে। তবু থেমে নেই আবুল খায়েরের। প্রতিদিন সকালেই হাতে লাঠি আর ছাতা নিয়ে মাঠে বেরিয়ে পড়েন গরু চরাতে। কারণ এটুকুই এখন তাঁর জীবনের শেষ ভরসা।

গতকাল শনিবার (১১ জুলাই) উপজেলার দেবিপুর গ্রামে গরুর জন্য ঘাস কেটে বাড়ীতে নেওয়ার পথে রাস্তার পাশে দেখা যায় তাঁকে। লুঙ্গি ছাড়া পরনে কোন জামা নেই। মাথায় গরুর জন্য কাটা ঘাস। সেগুলো গরুর জন্য নেয়া, দুধ বিক্রি করে যে সামান্য আয় হয়, তাতেই চলে আবুল খায়ের ও তাঁর স্ত্রীর জীবন।

জীবনে অনেক কষ্ট করে সংসার টেনেছেন আবুল খায়ের। বাবা নিজাম উদ্দিন মৃত্যুর পর সব ভার এসে পড়ে তাঁর কাঁধে। এখন বয়স হয়েছে, তবু বিশ্রামের সুযোগ হয়নি।

তাঁর তিন সন্তানের মধ্যে দুই ছেলে মারা গেছে, এক মেয়ে ও স্ত্রী রয়েছে। কিন্তু আবুল খায়েরের অভিযোগ,’ এলাকার চেয়ারম্যান-মেম্বাররা নিজেদের নিয়াই ব্যস্ত। খোঁজখবরও নেয় না।’ সরকারি কোনো ভাতা বা সহায়তা পান না আবুল খায়ের। ক্ষোভ ঝরে পড়ে তাঁর কণ্ঠে, ‘মেম্বার বইলা আছিল কার্ড করে দিব। কিন্তু এই পর্যন্ত কিছুই দিল না।’

স্ত্রীর নাম বা বয়স জিজ্ঞেস করলে স্মৃতি হাতড়ে খানিক চুপ থেকে বলেন, ‘নামটা ঠিক মনে নাই… বয়স যে কত !’

এই গ্রামের পথেই আরও অনেক আবুল খায়ের হারিয়ে যাচ্ছেন দিনে দিনে। যাঁদের জীবনের গল্প রাষ্ট্রের কোনো খাতায় নেই, মেম্বারদের প্রতিশ্রুতির ফাঁকে আটকে আছে। তবু আবুল খায়ের থেমে যাননি। যত দিন শরীরে শক্তি আছে, তত দিন মাঠেই থাকবেন—বৃষ্টি হোক আর ঝড়তুফান হোক, গরুর জন্য ঘাস নিতে হবে, ঘাস না নিলে গরুও দুধ দিবেনা, আমাগো সংসারও চলেনা। কারন দুধ বিক্রিতে সংসার।

স্থানীয়রা জানান, আবুল খায়ের অত্যন্ত সৎ ও পরিশ্রমী মানুষ। বয়সের ভারেও তিনি কারও কাছে হাত না পেতে নিজের শ্রমে সংসার চালানোর চেষ্টা করছেন। তার আর্থিক অবস্থা খুবই নাজুক। সরকারি সহায়তা এবং সমাজের বিত্তবান মানুষের সহযোগিতা পেলে জীবনের শেষ বয়সে কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন তিনি।

(ছবিতে দেখা যায়(১১ জুলাই/ বিকেল ৫টা), বৃষ্টিভেজা ইটের পথ ধরে মাথায় ঘাসের বোঝা বহন করে বাড়ির পথে হাঁটছেন বৃদ্ধ আবুল খায়ের। বয়স ও দারিদ্র্যের সঙ্গে প্রতিদিন লড়াই করা মানুষটি যেন গ্রামবাংলার অদম্য জীবন সংগ্রামের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।)……