মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি: মুন্সিগঞ্জে আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় চোরাই ও চোরাই সন্দেহে পাঁচটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। একই অভিযানে লৌহজং উপজেলার গোয়ালীমান্দ্রা এলাকা থেকে ১ হাজার ১০০ পিস ইয়াবা ও ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ১০ টায় লৌহজং উপজেলার পদ্মা সেতু উত্তর থানায় প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম।
পুলিশ জানায়, শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বাসিন্দা মো. সজিব (২৯) গত ৯ জুলাই পদ্মা সেতু (উত্তর) থানাধীন পশ্চিম কুমারভোগ এলাকার নুরানী জামে মসজিদের সামনে থেকে তার সুজুকি ২৫০ সিসি এসএফ এফআই এবিএস মোটরসাইকেলটি চুরি হওয়ার অভিযোগ করেন।
অভিযোগের পর পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম (পিপিএম)-এর নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. কামরান হোসেনের তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি বিশেষ দল তদন্তে নামে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে রোববার দিবাগত রাতে নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জ এলাকা থেকে চক্রের সদস্য মো. সুমন (২৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে বাদীর চুরি যাওয়া মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।
পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বেতকা বাজার এলাকা থেকে হৃদয় দেওয়ান (৩০) এবং আমতলী এলাকা থেকে সজীব পাইক (২৪)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন ডিসকভার ১২৫ সিসি মোটরসাইকেল ও একটি হাঙ্ক ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া হৃদয় দেওয়ানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লৌহজং উপজেলার গোয়ালীমান্দ্রা এলাকার একটি দর্জি দোকানের পেছন থেকে আরও দুটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন পালসার ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। মোটরসাইকেল দুটির ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর ঘষামাজা করা ছিল। উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলগুলোর প্রকৃত মালিক শনাক্তে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা দীর্ঘদিন ধরে মুন্সীগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে নম্বর প্লেট ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করে বিক্রি করার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে ডিবি পুলিশ।
অন্যদিকে, একই অভিযানের সময় লৌহজং উপজেলার গোয়ালীমান্দ্রা এলাকার একটি দর্জি দোকান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১ হাজার ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আলাল ওরফে আলা উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়েরসহ প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
মেঘনার তীর 



















