স্টাফ রিপোর্টার: লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে হায়দরগন্জ বাজার এলাকায় মাদ্রাসায় পড়তে আসা এক শিশুর মুখে বারবার বেত ঢুকিয়ে নির্যাতন করছিলেন এক শিক্ষক। আর সেই নির্যাতনের দৃশ্য ভিডিও করে নিজেই পোস্ট করেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (ফেইসবুকে)। ভিডিওটির একটি শিরোনাম লেখেন তিনি। বলেন, ‘পিচ্চি পোলাপানকে কান্না করাতে ভালোই লাগে’।
ঘটনাটি প্রায় দুই আড়াই মাস আগের হলেও গত দুইদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি ঘটেছে জেলার রায়পুর উপজেলার উত্তর চরআবাবিলের বাংলাবাজার এলাকায় একটি মাদ্রাসায়। বিষয়টি সবার নজরে আসে দুইদিন আগে। এরপর শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। অভিযুক্ত ওই শিক্ষক হলেন মাদ্রাসাটির সাবেক সহকারী শিক্ষক ইমরান হোসেন।
তাঁর বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায়।সমালোচনার মুখে অভিযুক্ত শিক্ষক শনিবার সন্ধায় (১৮ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভে এসে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং সবার কাছে ক্ষমা চান। ভিডিওটি তিনি নিজেই পোস্ট করেন বলে জানান ওই শিক্ষক।
রোববার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নিজাম উদ্দিন ভূইয়া। তিনি বলেন,‘বিষয়টি নজরে আসার পরই খোঁজখবর নেওয়া হয়। অভিযুক্ত শিক্ষকের বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগ এলাকায়। আড়াই মাস আগে মাদ্রাসা থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি রায়পুরে নেই এবং মাদ্রাসাটির কার্যক্রমও প্রায় বন্ধ। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেয়া হয়।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রায়পুরে হায়দরগন্জ টিআরএম কামিল মাদরাসার সহকারি শিক্ষক মন্জুর আলমের। মাদ্রাসাটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষককেও চার মাসে আগে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়। ভিডিওটি চাকরিতে থাকার সময় ধারণ করেন বলে তাদের ধারণা।
৩২ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, কান্নারত এক শিশু শিক্ষার্থীর মুখে বারবার বেত ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আতঙ্কে ও যন্ত্রণায় শিশুটির কান্না আরও বেড়ে যায়। সে হাত দিয়ে বেতটি সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও শিক্ষক থামেননি। ইতিমধ্যে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ওই শিক্ষক ভিডিওটি মুছে দেওয়ার পাশাপাশি অ্যাকাউন্টটি ডিলিট করে দেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ইমরান হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে গত শনিবার তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
ভিডিও বার্তায় ইমরান হোসেন বলেন, ‘ভিডিওটি আমিই ধারণ করেছি এবং আমিই প্রকাশ করেছি। ছোট বাবুটি আমার কাছে পরীক্ষা দিতে এসেছিল। আমি তাকে কিছু প্রশ্ন করি। উত্তর দিতে না পেরে সে কান্না শুরু করে। আমি তার কান্না থামানোর জন্য দুষ্টামি করে মুখে লাঠি ধরেছিলাম। আমি তাকে বেত্রাঘাত করিনি বা ধমকও দিইনি। বিষয়টি এভাবে দেখা হবে, আমি ভাবিনি। আমার ভুল হয়েছে। আমি সবার কাছে ক্ষমা চাইছি। আপনারা আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।’
মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও টিআরএম কামিল মাদরাসার শিক্ষক মো. মঞ্জুর আহমেদ বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক ইমরান হোসেনকে প্রায় আড়াই মাস আগে প্রতিষ্ঠান থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। চাকরি হারানোর পর তিনি পূর্বে ধারণ করা বিভিন্ন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন।
মঞ্জুর আহমেদ জানান, ইমরান একজন টিকটকার ছিলেন এবং মাদ্রাসাটিতে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শুরু থেকেই তাঁর আচরণে নানা অসংগতি লক্ষ করা যায়। শিশুশিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশিক্ষকসুলভ আচরণ, অকারণে শাস্তি প্রদান এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া শিক্ষার্থীদের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার অভিযোগে তাঁকে কয়েকবার সতর্ক করা হয়।
মেঘনার তীর 



















