ঢাকা ০৬:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তরুণ সমাজকে মোবাইল ও মাদকের ভয়াবহ আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী সেবার মান বাড়াতে ৫০ শয্যায় হাসপাতালকে ১০১ করতে খুব শিগগির দরপত্র আহ্বান করা হবে:স্বাস্থ্যমন্ত্রী লক্ষ্মীপুর ক্লাব লিমিটেডের তিন যুগ পুর্তি উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও গুণীজন সন্মাননা নেতৃত্বের কারণে আমরা অনেক পিছিয়ে গিয়েছি: পানিসম্পদ মন্ত্রী জিয়াউর রহমানের মতো সৎ ব্যক্তি বাংলাদেশের ইতিহাসে আর সৃষ্টি হয়নি: জেলা যুবদল সভাপতি ২০২৭ সালে ৩১ কোটি নতুন বই বিতরণ ও ইতিহাস বিকৃতি রোধের ঘোষণা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী মেয়েটি নিজেই এমপি গাজী নজরুলকে সেবা করতে চেয়েছিল: দাবি জামায়াতের এমপির কার্ডের খেলা না খেলে মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করুণ: নাহিদ ইসলাম রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলেন স্পিকার রায়পুরে খাল খনন শেষে অব্যয়িত ৬৫ লাখ টাকা ফেরত

রায়পুরে খাল খনন শেষে অব্যয়িত ৬৫ লাখ টাকা ফেরত

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ০৮:১৬:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
  • 26

স্টাফ রিপোর্টার: লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় তিনটি খাল পুনঃখনন প্রকল্প নির্ধারিত মান বজায় রেখে বাস্তবায়নের পর অব্যয়িত প্রায় ৬৫ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। প্রায় ৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

সরকারি অর্থের সাশ্রয়ী ব্যবহার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার এ উদ্যোগের নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার। প্রশাসনের এ পদক্ষেপ স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ এপ্রিল রায়পুর উপজেলার চরমোহনা ও উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের (পি-২, বিপি-৮ ও বিপি-১৭) খালের ভুঁইয়াগো রাস্তার মাথা (ঢালী মসজিদ) থেকে বংশী ব্রিজসংলগ্ন ডাকাতিয়া নদী পর্যন্ত অংশে পুনঃখনন কাজ শুরু হয়। ভরাট হয়ে যাওয়া খালে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা এবং কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতেই এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়।

খনন কাজের পাশাপাশি খালের দুই পাড়ে প্রায় দেড় হাজার ফলজ, বনজ ও অন্যান্য প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়। প্রকল্পের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, বর্ষায় জলাবদ্ধতা হ্রাস এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।

প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউছার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল ইসলাম মিঠু, সাধারণ সম্পাদক সফিকুর রহমান ভূঁইয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবদুল হাই খান জানান, প্রকল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিয়মিত তদারকি করা হয়েছে। ইউএনও একাধিকবার প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে কাজের গুণগত মান, ব্যয়ের যৌক্তিকতা এবং সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করেন। প্রয়োজনে বাস্তবায়ন কমিটিকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রায় তিন মাসের কাজ শেষে শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতি, পরিবহন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়সহ সব বিল পরিশোধের পরও প্রায় ৬৫ লাখ টাকা অব্যয়িত থাকে। পরে সরকারি আর্থিক বিধিমালা অনুসরণ করে সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।

চরমোহনা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক (পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা) মো. আবদুস সাত্তার বলেন, সরকারি প্রকল্পের কাজ শেষে অব্যয়িত অর্থ কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নজির খুব বেশি দেখা যায় না। সততা ও আন্তরিকতা থাকলে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল ইসলাম মিঠু বলেন, সরকারি অর্থ জনগণের সম্পদ। কাজের মান অক্ষুণ্ন রেখে অব্যয়িত অর্থ কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রশংসনীয়।

এ বিষয়ে ইউএনও মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, সরকারি অর্থ জনগণের আমানত। তাই এ অর্থ ব্যয়ে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যয় করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট অর্থ সরকারি বিধি অনুযায়ী কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

তরুণ সমাজকে মোবাইল ও মাদকের ভয়াবহ আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী

রায়পুরে খাল খনন শেষে অব্যয়িত ৬৫ লাখ টাকা ফেরত

আডেট সময় ০৮:১৬:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় তিনটি খাল পুনঃখনন প্রকল্প নির্ধারিত মান বজায় রেখে বাস্তবায়নের পর অব্যয়িত প্রায় ৬৫ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। প্রায় ৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

সরকারি অর্থের সাশ্রয়ী ব্যবহার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার এ উদ্যোগের নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার। প্রশাসনের এ পদক্ষেপ স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ এপ্রিল রায়পুর উপজেলার চরমোহনা ও উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের (পি-২, বিপি-৮ ও বিপি-১৭) খালের ভুঁইয়াগো রাস্তার মাথা (ঢালী মসজিদ) থেকে বংশী ব্রিজসংলগ্ন ডাকাতিয়া নদী পর্যন্ত অংশে পুনঃখনন কাজ শুরু হয়। ভরাট হয়ে যাওয়া খালে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা এবং কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতেই এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়।

খনন কাজের পাশাপাশি খালের দুই পাড়ে প্রায় দেড় হাজার ফলজ, বনজ ও অন্যান্য প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়। প্রকল্পের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, বর্ষায় জলাবদ্ধতা হ্রাস এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।

প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউছার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল ইসলাম মিঠু, সাধারণ সম্পাদক সফিকুর রহমান ভূঁইয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবদুল হাই খান জানান, প্রকল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিয়মিত তদারকি করা হয়েছে। ইউএনও একাধিকবার প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে কাজের গুণগত মান, ব্যয়ের যৌক্তিকতা এবং সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করেন। প্রয়োজনে বাস্তবায়ন কমিটিকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রায় তিন মাসের কাজ শেষে শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতি, পরিবহন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়সহ সব বিল পরিশোধের পরও প্রায় ৬৫ লাখ টাকা অব্যয়িত থাকে। পরে সরকারি আর্থিক বিধিমালা অনুসরণ করে সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।

চরমোহনা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক (পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা) মো. আবদুস সাত্তার বলেন, সরকারি প্রকল্পের কাজ শেষে অব্যয়িত অর্থ কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নজির খুব বেশি দেখা যায় না। সততা ও আন্তরিকতা থাকলে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল ইসলাম মিঠু বলেন, সরকারি অর্থ জনগণের সম্পদ। কাজের মান অক্ষুণ্ন রেখে অব্যয়িত অর্থ কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রশংসনীয়।

এ বিষয়ে ইউএনও মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, সরকারি অর্থ জনগণের আমানত। তাই এ অর্থ ব্যয়ে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যয় করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট অর্থ সরকারি বিধি অনুযায়ী কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।