স্টাফ রিপোর্টার: লক্ষ্মীপুর জেলায় সার সংরক্ষণ ও বিতরণব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে ১০ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার একটি বাফার গুদাম নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ভ্যাট ও করসহ ব্যয় হবে ৪৯ কোটি ১৪ লাখ ২৭ হাজার ৮১৪ টাকা। বুধবার (২৯ জুলাই) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের বাস্তবায়নাধীন ‘সার সংরক্ষণ ও বিতরণের সুবিধার্থে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ৩৪টি বাফার গুদাম নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় লক্ষ্মীপুরে এ গুদাম নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে।
জানা গেছে, উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে আহ্বান করা দরপত্রের বিপরীতে চারটি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব জমা পড়ে। এর মধ্যে দুটি প্রতিষ্ঠান কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। পরে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী যৌথভাবে অংশগ্রহণকারী এমবিএল ও আরইএল, ঢাকাকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের পর নির্ধারিত মূল্যে ওই যৌথ প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে গুদাম নির্মাণকাজ ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় লক্ষ্মীপুরের নির্ধারিত স্থানে ১০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার সংরক্ষণের উপযোগী স্টিল কাঠামোর বাফার গুদাম নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি ভূমি উন্নয়ন, অফিস ও অতিথিশালা, আনসার ব্যারাক, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ও জেনারেটর কক্ষ, পৃথক শৌচাগার, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, ঝড়ের পানি নিষ্কাশনের নালা, পাম্পঘর, ভূগর্ভস্থ পানির আধার, সীমানাপ্রাচীর, প্রধান ফটক এবং প্রহরী কক্ষ নির্মাণ করা হবে।
এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় পুকুর খনন, ১০০ কিলোভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার ক্ষমতার বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের যন্ত্রপাতি, ৬০ কিলোভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার ক্ষমতার জেনারেটর এবং সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পটির প্রথম সংশোধিত প্রস্তাব জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি ২০২৩ সালের ১১ এপ্রিল অনুমোদন দেয়। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ২০১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে লক্ষ্মীপুরে সার সংরক্ষণের সক্ষমতা বাড়বে এবং কৃষকদের কাছে সময়মতো সার সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
মেঘনার তীর 












