সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর রামসার সাইট খ্যাত সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, প্রতিবেশগত ভারসাম্য ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা প্রশাসন। হাওরের পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ECA) সীমানার অভ্যন্তরে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সকল প্রকার হাউসবোট ও পর্যটকবাহী নৌযান প্রবেশ ও চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সাথে হাওরে চলাচলকারী সকল নৌযানের মালিক ও পরিচালনাকারীদের আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ শাখা থেকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনার কথা জানানো হয়। ‘টাঙ্গুয়ার ও হাকালুকি হাওর সুরক্ষা আদেশ, ২০২৫’-এর আলোকে এই যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান।
জেলা প্রশাসনের ১১ দফা জরুরি নির্দেশনাসমূহ হলো:
১। পরবর্তী নির্দেশনা জারি না হওয়া পর্যন্ত টাঙ্গুয়ার হাওরের ইসিএ (Ecologically Critical Area) ঘোষিত এলাকার অভ্যন্তরে সকল প্রকার হাউসবোট ও পর্যটকবাহী নৌযানের প্রবেশ এবং চলাচল সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ থাকবে।
২। হাউসবোট। নৌযানগুলোতে পর্যটকদের জন্য আচরণবিধি দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে এবং এর প্রতিপালন নিশ্চিত করতে হবে। ট্যুর শুরুর আগেই আচরণবিধি পর্যটকদের কাছে উপস্থাপন করবে।
৩। হাউসবোট/ নৌযানে উচ্চস্বরে গান-বাজনা, মাইক বাজানো ও কোন পার্টি আয়োজন করা যাবে না। এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৪। হাউসবোট/ নৌযানে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। প্রতিটি হাউসবোট/ নৌযানে নিরাপদ পানীয় জলের জন্য পানি বিশুদ্ধকারী ফিল্টার রাখতে হবে।
৫। সকল হাউসবোটের দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ১০০ (একশত) ফুটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।
৬। জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় যোগাযোগ নম্বরসমূহ (জেলা/উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, হাসপতাল ইত্যাদি) পর্যটকদের অবহিত করতে হবে এবং দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে।
৭। প্রতিটি হাউসবোট। নৌযানে পর্যাপ্ত সংখ্যক লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয় রিং, অগ্নি-নির্বাপক যন্ত্র সংরক্ষণ করতে হবে এবং গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
৮। পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য প্রতিটি হাউসবোট নৌযানে বাধ্যতামূলকভাবে সেপ্টিক ট্যাংক স্থাপন করতে হবে। এছাড়া অন্যান্য বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য কমপক্ষে ০২ (দুই)টি ডাস্টবিন রাখতে হবে এবং কোনো ধরনের বর্জ্য হাওর বা জলাশয়ে ফেলা যাবে না।
৯। হাউসবোট। নৌযানের মালিক ও ট্যুর অপারেটর প্রতিটি ট্যুরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
১০। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পর্যটক পরিবহন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ থাকবে। আকস্মিক ঝড়, প্রবল বৃষ্টিপাত বা বজ্রপাতের আশংকাকালীন পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
১১। আগামী ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ জেলা প্রশাসক, সুনামগঞ্জ বরাবর তালিকাভুক্তি ও নিবন্ধনের জন্য আবেদন দাখিল করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করলে সংশ্লিষ্ট হাউসবোট/নৌযান/ট্যুর অপারেটরকে পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি প্রদান করা হবে না এবং প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আবেদন সংক্রান্ত বিষয়ে নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি), সুনামগঞ্জ (মোবাইল: ০১৭৩০-৩৩১১০৬)-এর সাথে যোগাযোগ করা যাবে।
মেঘনার তীর 












