ঢাকা ০৯:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চাঁদার টাকার জন্য দোকানে ও ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়ার চেষ্টা, তিন ব্যবসায়ী আহত লক্ষ্মীপুরে নকল ঘির ডিলারকে লাখ টাকা জরিমানা : ৩৫০ কেজি ঘি ধ্বংস লক্ষ্মীপুরে সাংবাদিককে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় ৬জনকে আসামী করে থানায় মামলা, দুই মামলায় গ্রেফতার সন্ত্রাসী সাকিব  দীপ্ত টিভির সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলমকে গুলি, অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা, বাহিনী প্রধান সাকিবকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্মীপুরে পানিতে ডুবে একই পরিবারের তিনজন নিহত রায়পুরে মাদকাসক্ত যুবকের দেয়া আগুনে পুড়ে গেছে ১১টি বসতঘরসহ৬ দোকান,অভিযুক্তকে গনপিটুনি উৎসাহ-উদ্দীপনায় শ্রী কৃষ্ণের জন্মতিথি জন্মাষ্টমী উদযাপিত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয় দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ :স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জাতীয়তাবাদের নতুন রাজনীতি সৃষ্টি করেছেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান: পানিসম্পদমন্ত্রী

বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে এক খ্যাওয়ে ধরা পড়লো ৪৬ মন ইলিশ, সাড়ে ৪৮ লাখে বিক্রি

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ০৬:১৬:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
  • 304

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি। পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে আলমগীর মাঝি নামের এক জেলের জালে এক খ্যাওয়ে (একবার জাল টানা) ধরা পড়েছে ৪৬ মন ইলিশ। শুক্রবার বিকালে এসব মাছ মহিপুর মৎস্য অবতরন কেন্দ্রের মনেয়ারা ফিস নামের একটি মৎস্য আড়তে নিয়ে আসা হয়। এসময় ওই আড়তে স্থানীয় মানুষসহ মৎস্য আড়তে ভীড় জমায় পাইকাররা। এর আগে গত বৃহস্পতিবার পায়রা বন্দরের শেষ বয়া সংলগ্ন গভীর সাগরে একবার জাল টানার পরই এসব মাছ ধরা পড়ে।

মনোয়ারা ফিস সূত্রে সূত্রে জানা যায়, ধরা পড়া ৪৬ মণ ইলিশের মধ্যে এক কেজি বা তার বেশি সাইজের ওজনের মাছ ছিলো ২৪ মণ। এসব ইলিশ প্রতি মণ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়। প্রতি কেজি ইলিশের দাম পড়ে ২ হাজার ৮৭৫ টাকা। এ হিসাবে ২৪ মণ ইলিশ বিক্রি হয় ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকায়।আর ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ছিলো ২২ মণ। এসব ইলিশ প্রতি মণ ৯৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এতে প্রতি কেজি ইলিশের দাম পড়ে ২ হাজার ৩৭৫ টাকা। ২২ মণ ইলিশের দাম হয়েছে ২০ লাখ ৯০ হাজার টাকায়। এসব ইলিশ নিলামের মাধ্যমে বিভিন্ন পাইকারের কাছে বিক্রি হয়েছে।

আলমগীর মাঝি বলেন, গত বৃহস্পতিবার ১৬ জন জেলেসহ এফবি জুনায়েদ নামের একটি ট্রলার নিয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পায়রা বন্দরের শেষ বয়া এলাকায় জাল ফেলেন। পরে একবার জাল টান দেয়ার পর ২ হাজার ২০০ পিচ ইলিশ ধরা পরে। প্রায় ৫ বছর পর একসঙ্গে এত বড় চালানের ইলিশ পেয়েছেন। দীর্ঘদিনের লোকসানের পর এমন মাছ পেয়ে তিনি উচ্ছাস প্রকাশ করেন।
মনোয়ারা ফিশের ম্যানেজার সগির আকন বলেন, দীর্ঘদিন পর এত বড় চালানের ইলিশ এসেছে। বর্তমানে বাজারে ইলিশের দামও অনেক বেশি। ফলে জেলেরা ভালো দাম পেয়েছেন। সচরাচর এত বড় আকারের ইলিশ একসঙ্গে পাওয়া যায় না।

ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডব্লিউসিএস (WCS) ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেশির ভাগ মাছ ধরার বোটেই কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশের দেখা পাচ্ছে না। তবে এরই মধ্যে একটি ট্রলারে একসঙ্গে ৪৬ মণ ইলিশ ধরা পড়ার ঘটনা নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর এবং জেলেদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।

তিনি বলেন, একদিনের এই বেশি আহরণকে সামগ্রিকভাবে ইলিশের প্রাচুর্যের সূচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বিষয়টি ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত। ইলিশের এই ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে জেলেদের সচেতনতা, প্রজনন মৌসুমে মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকা এবং সংরক্ষণ কার্যক্রমের ধারাবাহিক বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, কিছুদিন আগেও সাগরে ইলিশের খরা ছিল। বর্তমানে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। এক ট্রিপে ৪৬ মণ ইলিশ ধরা পড়ার ঘটনায় উপকূলের জেলেদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সামনে আরও বেশি ইলিশ মিলতে পারে। এতে জেলে আড়তদারসহ মৎস্য সংশ্লিষ্ট সবাই লাভবান হবেন।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদার টাকার জন্য দোকানে ও ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়ার চেষ্টা, তিন ব্যবসায়ী আহত

বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে এক খ্যাওয়ে ধরা পড়লো ৪৬ মন ইলিশ, সাড়ে ৪৮ লাখে বিক্রি

আডেট সময় ০৬:১৬:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি। পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে আলমগীর মাঝি নামের এক জেলের জালে এক খ্যাওয়ে (একবার জাল টানা) ধরা পড়েছে ৪৬ মন ইলিশ। শুক্রবার বিকালে এসব মাছ মহিপুর মৎস্য অবতরন কেন্দ্রের মনেয়ারা ফিস নামের একটি মৎস্য আড়তে নিয়ে আসা হয়। এসময় ওই আড়তে স্থানীয় মানুষসহ মৎস্য আড়তে ভীড় জমায় পাইকাররা। এর আগে গত বৃহস্পতিবার পায়রা বন্দরের শেষ বয়া সংলগ্ন গভীর সাগরে একবার জাল টানার পরই এসব মাছ ধরা পড়ে।

মনোয়ারা ফিস সূত্রে সূত্রে জানা যায়, ধরা পড়া ৪৬ মণ ইলিশের মধ্যে এক কেজি বা তার বেশি সাইজের ওজনের মাছ ছিলো ২৪ মণ। এসব ইলিশ প্রতি মণ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়। প্রতি কেজি ইলিশের দাম পড়ে ২ হাজার ৮৭৫ টাকা। এ হিসাবে ২৪ মণ ইলিশ বিক্রি হয় ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকায়।আর ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ছিলো ২২ মণ। এসব ইলিশ প্রতি মণ ৯৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এতে প্রতি কেজি ইলিশের দাম পড়ে ২ হাজার ৩৭৫ টাকা। ২২ মণ ইলিশের দাম হয়েছে ২০ লাখ ৯০ হাজার টাকায়। এসব ইলিশ নিলামের মাধ্যমে বিভিন্ন পাইকারের কাছে বিক্রি হয়েছে।

আলমগীর মাঝি বলেন, গত বৃহস্পতিবার ১৬ জন জেলেসহ এফবি জুনায়েদ নামের একটি ট্রলার নিয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পায়রা বন্দরের শেষ বয়া এলাকায় জাল ফেলেন। পরে একবার জাল টান দেয়ার পর ২ হাজার ২০০ পিচ ইলিশ ধরা পরে। প্রায় ৫ বছর পর একসঙ্গে এত বড় চালানের ইলিশ পেয়েছেন। দীর্ঘদিনের লোকসানের পর এমন মাছ পেয়ে তিনি উচ্ছাস প্রকাশ করেন।
মনোয়ারা ফিশের ম্যানেজার সগির আকন বলেন, দীর্ঘদিন পর এত বড় চালানের ইলিশ এসেছে। বর্তমানে বাজারে ইলিশের দামও অনেক বেশি। ফলে জেলেরা ভালো দাম পেয়েছেন। সচরাচর এত বড় আকারের ইলিশ একসঙ্গে পাওয়া যায় না।

ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডব্লিউসিএস (WCS) ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেশির ভাগ মাছ ধরার বোটেই কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশের দেখা পাচ্ছে না। তবে এরই মধ্যে একটি ট্রলারে একসঙ্গে ৪৬ মণ ইলিশ ধরা পড়ার ঘটনা নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর এবং জেলেদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।

তিনি বলেন, একদিনের এই বেশি আহরণকে সামগ্রিকভাবে ইলিশের প্রাচুর্যের সূচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বিষয়টি ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত। ইলিশের এই ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে জেলেদের সচেতনতা, প্রজনন মৌসুমে মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকা এবং সংরক্ষণ কার্যক্রমের ধারাবাহিক বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, কিছুদিন আগেও সাগরে ইলিশের খরা ছিল। বর্তমানে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। এক ট্রিপে ৪৬ মণ ইলিশ ধরা পড়ার ঘটনায় উপকূলের জেলেদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সামনে আরও বেশি ইলিশ মিলতে পারে। এতে জেলে আড়তদারসহ মৎস্য সংশ্লিষ্ট সবাই লাভবান হবেন।