স্টাফ রিপোর্টার: লক্ষ্মীপুর জেলা ও রায়পুরে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস সংকটকে পুঁজি করে বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক সড়কে বেড়েছে অটোরিকশার ভাড়া। সিএনজিচালিত অটোরিকশার পাশাপাশি ব্যাটারিচালিত ও ইলেকট্রিক অটোরিকশার বিরুদ্ধেও নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী ও নিম্নআয়ের যাত্রীরা।
স্থানীয় যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে রায়পুর পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ভাড়া নিয়ে এক ধরনের নৈরাজ্য চলছে। গ্যাসের জন্য ফিলিং স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এমন অজুহাতে সিএনজি চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া দাবি করছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ভাড়ার তুলনায় দ্বিগুণ পর্যন্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।
রায়পুর-লক্ষ্মীপুর, রায়পুর-চাঁদপুর, রায়পুর-রামগ্জ, রায়পুর-হায়দরগঞ্জসহ বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সড়কে একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্বল্প দূরত্বের পথেও নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে। একই রুটে একেক চালক একেক ভাড়া নেওয়ায় যাত্রীদের সঙ্গে প্রায়ই বাগ্বিতণ্ডার ঘটনাও ঘটছে।
রায়পুর-চাঁদপুর কয়েক জন নিয়মিত যাত্রীরা বলেন, “গ্যাসের সংকট চালকদের সমস্যা হতে পারে। কিন্তু সেই সমস্যার পুরো দায় যাত্রীদের ওপর চাপিয়ে বাড়তি ভাড়া নেওয়া ঠিক নয়। আগে যে ভাড়া ছিল ১২০ টাকা, এখন তার সঙ্গে ৩০ বাড়িয়ে ১৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।”
আরেক যাত্রীর অভিযোগ, “একই দূরত্বে একেক চালক একেক ভাড়া দাবি করছেন। কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। বাধ্য হয়ে বেশি টাকা দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।”
তবে তিনজন সিএনজি চালক দাবি করেন, গ্যাস সংকটের কারণে তাদের কর্মঘণ্টার বড় একটি অংশ ফিলিং স্টেশনে লাইনে দাঁড়িয়ে নষ্ট হচ্ছে। পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে ট্রিপ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে আয় কমে যাওয়ায় তাদের সংসার চালাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।
রায়পুর লক্ষ্মীপুর সড়কের কয়েক জন যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, শুধু সিএনজি নয়, ব্যাটারিচালিত ও ইলেকট্রিক অটোরিকশার ভাড়াও বেড়েছে। অথচ এসব যানবাহন সরাসরি সিএনজি গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল নয়। ফলে গ্যাস সংকটকে কেন্দ্র করে পরিবহন খাতের অন্য যানবাহনেও ভাড়া বাড়ানোর প্রবণতা দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, গ্যাস সংকটের সুযোগ নিয়ে কোনো পরিবহন শ্রমিক বা চালক অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে পারবেন না। যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মেঘনার তীর 












