ঢাকা ১১:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে নবীন আইনজীবীদের সংবর্ধনা দিলো আইনজীবী ফোরাম বাগেরহাটের আইনজীবী নিজাম শান্ত হত্যার প্রতিবাদে লক্ষ্মীপুরে মানববন্ধন তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী: দুই চিকিৎসক ও এক নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা যারা ইনসাফের কথা বলে,তাদের অপকর্মের শেষ নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ লক্ষ্মীপুরে পুকুরে ডুবে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু লক্ষ্মীপুরে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ১ কোটি ১ লাখ টাকার অনুদান তরুণ সমাজকে মোবাইল ও মাদকের ভয়াবহ আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী সেবার মান বাড়াতে ৫০ শয্যায় হাসপাতালকে ১০১ করতে খুব শিগগির দরপত্র আহ্বান করা হবে:স্বাস্থ্যমন্ত্রী

পাউবো’র কোটি টাকার জমি নিজেদের নামে রেকর্ড, বিক্রিও করলেন রায়পুরের প্রভাবশালীরা !

তাবারক হোসেন আজাদ, লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভায় ডাকাতিয়া নদী সংলগ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রায় দুই কোটি টাকার সম্পদ আলি আজম চৌধুরীসহ ৬জন প্রভাবশালী নীজেদের নামে রেকর্ড করে খতিয়ান করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্তরা নিজেদের নামে লীজের জমি নেয়ার পাশাপাশি গোপনে তা বিক্রিও করেন। বর্তমানে সেখানে বহুতল ভবন ও মার্কেট নির্মাণ করার ঘটনায় পাউবো কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে জানতে চেয়েছে।

গত এক মাসের অনুসন্ধান করে ও সংশ্লিষ্টদের (পাউবো) (বিক্রেতা ও ক্রেতা) সাথে কথা বলে এমন অভিযোগ ও তথ্য পাওয়া গেছে।

জানাযায়, রায়পুর পৌরসভার ডাকাতিয়া নদীর সংলগ্ন খাল পাড়ে মহিলা কলেজ সংলগ্ন মধুপুর মৌজায় গত ৩০ বছর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৪৫ শতাংশ জমি লীজ নেন (এলএ নথি নাম্বার ৩০/১৯৬৫-৬৬ মুলে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক রোয়েদাদের ক্রমিক নং ১ এর ২৬৬ দাগের অন্দরে অধিগ্রহণকৃত) মধুপুর গ্রামের প্রভাবশালী আলি আজম চৌধুরী ও আশ্বাদ মিয়া। তারা দুইজন আবার এই পাউবোর জমি একই এলাকার ব্যাবসায়ী হাফিজ উল্যাহ, মোহাম্মদ উল্যাহ ও আমিন উল্যাহের কাছে বিক্রি করেছেন। আবার এই তিনজন ওই জমি কয়েকজনের কাছে বিক্রি করে। সেখানে কয়েকজন প্রবাসী ও ব্যাবসায়ী বহুতল ভবন ও মার্কেট নির্মাণ করেছেন।

পাউবোর ওই জায়গার ক্রেতা রায়পুর শহরের হানিমুন টেইলার্সের মালিক বাচ্চু মিয়াসহ কয়েক ব্যাক্তি সেটেলমেন ও ভূমি বিভাগের কিছু অসাাধু লোকের সহায়তায় সরকারি সম্পত্তি নিজেদের নামে খতিয়ান করে নেন, যা সম্পূর্ণ অবৈধ ও দুর্নীতির সামিল। উল্লেখিত প্রভাবশালি ব্যাক্তিরা শুধু তাদের ক্রয়কৃত লীজ দোকান নয়, পাউবোর জমি তাদের কয়’জনের নামে রেকর্ড করে খতিয়ান তৈরি করেছেন।

সরকারি দফতরের এ বিষয়ে গত তিন মাস আগে লিখিতভাবে জানালেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না পানি উন্নয়নবোর্ড কর্তৃপক্ষ। তাই বাধ্য হয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের শরণাপন্ন হয়েছেন তারা। এ ঘটনায় তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন পাউবো কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে হানিমুন টেইলার্সের স্বত্ত্বাধিকারী বাচ্চু মিয়া বলেন, পাউবোর ওই জায়গাটি তিনিসহ কয়েকজন ব্যাক্তি স্থানীয় আলি আজম ও আরশাদ মিয়ার কাছ থেকে কিনেছেন। এখন সেখানে তারা বহুতল ভবন ও মার্কেট নির্মাণ করেছেন। এটা মূলত তাদের কেনা সম্পত্তি। আদালত করে এবং পত্রিকায় সংবাদ দিলেও কোন লাভ হবেনা জানান বাচ্চু মিয়া।

রায়পুরের সেটেলম্যান অফিসের পেসকার হুমায়ুন কবির গাজি মোবাইল ফোনে জানান, রায়পুরে কাজ না থাকায় নোয়াখালি অফিসে কাজ করছি। রায়পুরের পৌরসভার মধুপুর মৌজায় মহিলা কলেজের সামনে পাউবো ৪৫ শতাংশ জমি ৬ ব্যাক্তির নামে কিভাবে রেকর্ড হলো বলতে পারছিনা। ১৯৮৮ থেকে রেকর্ড-শুরু হয়ে ৯৬-৯৭ সাল পর্যন্ত চলমান ছিলো জরিপ। এসব বলতে পারবেন রায়পুর সাবেক সহকারি সেটেলম্যান।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বিভাগের লক্ষ্মীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ্জামান খান বলেন, রায়পুর পৌরসভার মহিলা কলেজ সংলগ্ন মধুপুর মৌজায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৪৫ শতাংশ জমি লীজ নেন (এলএ নথি নাম্বার ৩০/১৯৬৫-৬৬ মুলে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক রোয়েদাদের ক্রমিক নং ১ এর ২৬৬ দাগের অন্দরে অধিগ্রহণকৃত জমির বিষয়ে ভুমি ও সেটেলম্যান কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাওয়া হলেও তারা জবাব দিচ্ছেনা। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী

পাউবো’র কোটি টাকার জমি নিজেদের নামে রেকর্ড, বিক্রিও করলেন রায়পুরের প্রভাবশালীরা !

আডেট সময় ০৬:৪০:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

তাবারক হোসেন আজাদ, লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভায় ডাকাতিয়া নদী সংলগ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রায় দুই কোটি টাকার সম্পদ আলি আজম চৌধুরীসহ ৬জন প্রভাবশালী নীজেদের নামে রেকর্ড করে খতিয়ান করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্তরা নিজেদের নামে লীজের জমি নেয়ার পাশাপাশি গোপনে তা বিক্রিও করেন। বর্তমানে সেখানে বহুতল ভবন ও মার্কেট নির্মাণ করার ঘটনায় পাউবো কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে জানতে চেয়েছে।

গত এক মাসের অনুসন্ধান করে ও সংশ্লিষ্টদের (পাউবো) (বিক্রেতা ও ক্রেতা) সাথে কথা বলে এমন অভিযোগ ও তথ্য পাওয়া গেছে।

জানাযায়, রায়পুর পৌরসভার ডাকাতিয়া নদীর সংলগ্ন খাল পাড়ে মহিলা কলেজ সংলগ্ন মধুপুর মৌজায় গত ৩০ বছর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৪৫ শতাংশ জমি লীজ নেন (এলএ নথি নাম্বার ৩০/১৯৬৫-৬৬ মুলে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক রোয়েদাদের ক্রমিক নং ১ এর ২৬৬ দাগের অন্দরে অধিগ্রহণকৃত) মধুপুর গ্রামের প্রভাবশালী আলি আজম চৌধুরী ও আশ্বাদ মিয়া। তারা দুইজন আবার এই পাউবোর জমি একই এলাকার ব্যাবসায়ী হাফিজ উল্যাহ, মোহাম্মদ উল্যাহ ও আমিন উল্যাহের কাছে বিক্রি করেছেন। আবার এই তিনজন ওই জমি কয়েকজনের কাছে বিক্রি করে। সেখানে কয়েকজন প্রবাসী ও ব্যাবসায়ী বহুতল ভবন ও মার্কেট নির্মাণ করেছেন।

পাউবোর ওই জায়গার ক্রেতা রায়পুর শহরের হানিমুন টেইলার্সের মালিক বাচ্চু মিয়াসহ কয়েক ব্যাক্তি সেটেলমেন ও ভূমি বিভাগের কিছু অসাাধু লোকের সহায়তায় সরকারি সম্পত্তি নিজেদের নামে খতিয়ান করে নেন, যা সম্পূর্ণ অবৈধ ও দুর্নীতির সামিল। উল্লেখিত প্রভাবশালি ব্যাক্তিরা শুধু তাদের ক্রয়কৃত লীজ দোকান নয়, পাউবোর জমি তাদের কয়’জনের নামে রেকর্ড করে খতিয়ান তৈরি করেছেন।

সরকারি দফতরের এ বিষয়ে গত তিন মাস আগে লিখিতভাবে জানালেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না পানি উন্নয়নবোর্ড কর্তৃপক্ষ। তাই বাধ্য হয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের শরণাপন্ন হয়েছেন তারা। এ ঘটনায় তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন পাউবো কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে হানিমুন টেইলার্সের স্বত্ত্বাধিকারী বাচ্চু মিয়া বলেন, পাউবোর ওই জায়গাটি তিনিসহ কয়েকজন ব্যাক্তি স্থানীয় আলি আজম ও আরশাদ মিয়ার কাছ থেকে কিনেছেন। এখন সেখানে তারা বহুতল ভবন ও মার্কেট নির্মাণ করেছেন। এটা মূলত তাদের কেনা সম্পত্তি। আদালত করে এবং পত্রিকায় সংবাদ দিলেও কোন লাভ হবেনা জানান বাচ্চু মিয়া।

রায়পুরের সেটেলম্যান অফিসের পেসকার হুমায়ুন কবির গাজি মোবাইল ফোনে জানান, রায়পুরে কাজ না থাকায় নোয়াখালি অফিসে কাজ করছি। রায়পুরের পৌরসভার মধুপুর মৌজায় মহিলা কলেজের সামনে পাউবো ৪৫ শতাংশ জমি ৬ ব্যাক্তির নামে কিভাবে রেকর্ড হলো বলতে পারছিনা। ১৯৮৮ থেকে রেকর্ড-শুরু হয়ে ৯৬-৯৭ সাল পর্যন্ত চলমান ছিলো জরিপ। এসব বলতে পারবেন রায়পুর সাবেক সহকারি সেটেলম্যান।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বিভাগের লক্ষ্মীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ্জামান খান বলেন, রায়পুর পৌরসভার মহিলা কলেজ সংলগ্ন মধুপুর মৌজায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৪৫ শতাংশ জমি লীজ নেন (এলএ নথি নাম্বার ৩০/১৯৬৫-৬৬ মুলে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক রোয়েদাদের ক্রমিক নং ১ এর ২৬৬ দাগের অন্দরে অধিগ্রহণকৃত জমির বিষয়ে ভুমি ও সেটেলম্যান কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাওয়া হলেও তারা জবাব দিচ্ছেনা। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।