তাবারক হোসেন আজাদ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নামে ফেসবুকে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করার মামলায় গত ১৯দিনেও জামিন হয়নি এনসিপি নেতা আনোয়ার হোসেনের। ২১ জুন লক্ষ্মীপুর জজ আদালত জামিন শুনানির দিন রয়েছে।
অন্যদিকে- ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা অফিসে হামলা ভাংচুর লুটপাটে তেজগাঁও থানার মামলায় (২৪/৩৫২) অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেনকে শ্যোন এ্যারেষ্ট দেখানোর মামলায় ২২ জুন শুনানী রয়েছে ঢাকার জজ আদালতে। চীফ ম্যাট্রোপলিটন আদালতে শুনানীর আবেদন করেছেন ঢাকার উত্তরা ডিবির এসআই শাহ মিনহাজ উদ্দিন।
গত ৪ জুন দুপুরে এই মামলার বিষয়ে লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ষ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট রেজাউল হক লক্ষ্মীপুর জেলগেইটে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কিন্তু এখনও জিজ্ঞাসাবাদ করেননি রায়পুর থানার এসআই মাহবুব আলম।
গত ৩১ মে দুপুরে যুবদল নেতা রুহুল আমিন বাদী হয়ে দণ্ডবিধি ও সাইবার সুরক্ষা আইনে রায়পুর থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন। গত ৩০ মে রাতে রায়পুর উপজেলার সোনাপুর গ্রামের বাড়ি থেকে স্থানীয়রা এনসিপি নেতা আনোয়ার হোসেনকে আটক করে থানা পুলিশে সোপর্দ করে। এসময় তাকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এনসিপি।
আনোয়ার হোসেন জাতীয় নাগরিক পার্টির শ্রমিকশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক ও রায়পুর উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের সোনাপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। এছাড়া মামলায় আনোয়ারের ভাই ইমন হোসেন, রুবেল হোসেন ও দিপুর নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও ৪ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার বাদী রুহুল আমিন রায়পুরে সোনাপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও চরবগা গ্রামের শফিক আহম্মদের ছেলে।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ও পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর কথা বলে আনোয়ার তার ফেসবুক আইডিতে প্রচার করে। তার ফেসবুক আইডিতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম কাগজে লিখে তা পায়ের তলায় দিয়ে ছবি তুলে প্রচার করা হয়। এসব ঘটনায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এর কারণ জানতে চাইলে আনোয়ারসহ অভিযুক্তরা বাদী রুহুল আমিনদের ওপর হামলা করে। একপর্যায়ে বাদীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
যুবদল নেতা রুহুল আমিন মিঝি বলেন, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পানিসম্পদ মন্ত্রীর নামে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকরমূলক কথা বলে আনোয়ার তা ফেসবুকে প্রচার করে। এর কারণ জানতে চাইলে তিনিসহ অভিযুক্তরা আমাদের ওপর হামলা করে। এ ঘটনায় আমি থানায় মামলা করেছি।
এনসিপির জেলা কমিটির সিনিয়র সদস্য সচিব আলমগীর হোসাইন জানান, প্রায় ২ হাজার লোক নিয়ে আনোয়ারের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। পরে তাকে মারধর করে পুলিশে সৌপর্দ করে। এখন আবার তার নামে মামলা দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মতবেদ থাকতেই পারে, তার ওপর হামলার ঘটনা ন্যক্কারজনক।
জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) আব্দুল আহাদ শাকিল পাটওয়ারি শুক্রবার দুপুরে বলেন, এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রায়পুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহবুব আলম আসামিদের ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। এতে দণ্ডবিধি ও সাইবার সুরক্ষা আইনে দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামি আনোয়ারকে জেলগেটে একদিন জিজ্ঞাসাবাদ করে। অপর আসামি ইমনকে পাসপোর্ট জমা দেওয়া শর্তে জামিন দিলেও তা হারিয়ে যাওয়ায় তা দেখাতে পারেনি । তবে ইমন বিদেশ যেন যেতে না পারে বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনে মামলার কাগজ জমার নির্দেশ হয়।
মেঘনার তীর 



















