ঢাকা ০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চাঁদার টাকার জন্য দোকানে ও ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়ার চেষ্টা, তিন ব্যবসায়ী আহত লক্ষ্মীপুরে নকল ঘির ডিলারকে লাখ টাকা জরিমানা : ৩৫০ কেজি ঘি ধ্বংস লক্ষ্মীপুরে সাংবাদিককে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় ৬জনকে আসামী করে থানায় মামলা, দুই মামলায় গ্রেফতার সন্ত্রাসী সাকিব  দীপ্ত টিভির সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলমকে গুলি, অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা, বাহিনী প্রধান সাকিবকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্মীপুরে পানিতে ডুবে একই পরিবারের তিনজন নিহত রায়পুরে মাদকাসক্ত যুবকের দেয়া আগুনে পুড়ে গেছে ১১টি বসতঘরসহ৬ দোকান,অভিযুক্তকে গনপিটুনি উৎসাহ-উদ্দীপনায় শ্রী কৃষ্ণের জন্মতিথি জন্মাষ্টমী উদযাপিত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয় দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ :স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জাতীয়তাবাদের নতুন রাজনীতি সৃষ্টি করেছেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান: পানিসম্পদমন্ত্রী

উপজেলা পরিষদের পরিদর্শন কক্ষ  উদ্বোধন নিয়ে দুই এমপির তীব্র বাক বিতন্ডা 

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ১১:২৮:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
  • 47

স্টাফ রিপোর্টার: নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদ ভবনে পরিদর্শন কক্ষ উদ্বোধন নিয়ে ইলেক্টেড (নির্বাচিত) ও সিলেক্টেড (মনোনীত) দুই এমপির মধ্যে তীব্র বাক বিতন্ডার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বেলা ৩ টার সময়ের এই ঘটনায় উপস্থিতরা মুহূর্তেই হতভম্ব হয়ে পড়েন। পরে জানাজানি হয়ে পড়লে পুরো শহরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, উদ্বোধনের সময় নাম ফলকে নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিমের নাম দেখে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন সংরক্ষিত নারী সদস্য সদস্য বিলকিস ইসলাম। এতে বিষয়টা নিয়ে উভয়ের মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরে পরিদর্শন কক্ষে বসেই ঘন্টাব্যাপী চলে এই বাকযুদ্ধ।

এসময় বিলকিস ইসলাম বলেন, এখানে আমাকে কেন প্রধান অতিথি করা হয়নি? আর ফলকে কেন শুধু একজনের নাম লেখা হয়েছে। এই পরিদর্শন কক্ষ কি শুধু  আব্দুল মুনতাকিমের? এর প্রেক্ষিতে এমপি হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম বলেন, এটা ৩৫০ জন জাতীয় সংসদ সদস্যের। এখানে সবাই আসবেন, কাজ করবেন। কিন্তু এলাকাটা যেহেতু আমার তাই ফলকে আমার নামই থাকবে।

এমপি হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম আরও বলেন, নারী এমপিদের এলাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি। তাই তাদের জন্য পরিদর্শন কক্ষ নির্দিষ্টও নয়। একারণে এভাবে দলবল নিয়ে এসে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অবতারণা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আপনি যদি অধিকার দেখাতে চান তাহলে পরিপত্র অনুযায়ী হতে হবে। এমন কোন ডকুমেন্টস আছে কি আপনার?

এতে চটে যান মহিলা এমপি এবং হট্টগোল শুরু হয়। এসময় বিলকিস ইসলাম বিষয়টা দেখে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ করেন এবং বলেন, আমার দল সহজ সরল হলেও আমি নই। কোন ক্ষেত্রেই ছাড় দিবোনা। এটা সংসদেও উঠাবো এবং এমপিগিরি দেখাবো। আমি আমার অধিকার আদায় করে নিবো। সারাদেশে কোথায় কিভাবে কি করা হয়েছে তা আমি জানতে চাইনা। সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জের পরিদর্শন কক্ষে আমার স্থান দিতে হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহা ফাতেহা তাকমিলা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাব্বির হোসেন, সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার, সাধারণ সম্পাদক শাহীন আক্তার শাহিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম, এম এ পারভেজ লিটন, সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আলহাজ্ব মাজহারুল ইসলাম।

এছাড়াও উভয় দলের অন্যান্য নেতাকর্মী, উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সূধীজন ও সংবাদকর্মীবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ সময়ের বাক বিতন্ডা চলাকালে পরিদর্শন কক্ষে কৌতূহলী সাধারণ মানুষেরও ভীড় জমে। তবে জাকজমকপূর্ণ আয়োজন হোটচ খায় এবং শেষে মিষ্টিমুখ করে রুক্ষ মুহূর্তের সমাপ্তি ঘটে।

সাধারণ মানুষের মাঝে এনিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকে বলেন, এতো সম্মানিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে এধরণের আচরণ কখনোই কাম্য নয়। এমন করে তারা নিজেদেরকেই অপমানিত করেছেন। সেই সাথে জনগণের মান সম্মানও নষ্ট করেছেন। ভবিষ্যতে এরকম হাস্যকর কাজ করা থেকে বিরত থাকতে উভয়ের প্রতি আহ্বান সচেতন মহলের।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদার টাকার জন্য দোকানে ও ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়ার চেষ্টা, তিন ব্যবসায়ী আহত

উপজেলা পরিষদের পরিদর্শন কক্ষ  উদ্বোধন নিয়ে দুই এমপির তীব্র বাক বিতন্ডা 

আডেট সময় ১১:২৮:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদ ভবনে পরিদর্শন কক্ষ উদ্বোধন নিয়ে ইলেক্টেড (নির্বাচিত) ও সিলেক্টেড (মনোনীত) দুই এমপির মধ্যে তীব্র বাক বিতন্ডার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বেলা ৩ টার সময়ের এই ঘটনায় উপস্থিতরা মুহূর্তেই হতভম্ব হয়ে পড়েন। পরে জানাজানি হয়ে পড়লে পুরো শহরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, উদ্বোধনের সময় নাম ফলকে নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিমের নাম দেখে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন সংরক্ষিত নারী সদস্য সদস্য বিলকিস ইসলাম। এতে বিষয়টা নিয়ে উভয়ের মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরে পরিদর্শন কক্ষে বসেই ঘন্টাব্যাপী চলে এই বাকযুদ্ধ।

এসময় বিলকিস ইসলাম বলেন, এখানে আমাকে কেন প্রধান অতিথি করা হয়নি? আর ফলকে কেন শুধু একজনের নাম লেখা হয়েছে। এই পরিদর্শন কক্ষ কি শুধু  আব্দুল মুনতাকিমের? এর প্রেক্ষিতে এমপি হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম বলেন, এটা ৩৫০ জন জাতীয় সংসদ সদস্যের। এখানে সবাই আসবেন, কাজ করবেন। কিন্তু এলাকাটা যেহেতু আমার তাই ফলকে আমার নামই থাকবে।

এমপি হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম আরও বলেন, নারী এমপিদের এলাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি। তাই তাদের জন্য পরিদর্শন কক্ষ নির্দিষ্টও নয়। একারণে এভাবে দলবল নিয়ে এসে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অবতারণা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আপনি যদি অধিকার দেখাতে চান তাহলে পরিপত্র অনুযায়ী হতে হবে। এমন কোন ডকুমেন্টস আছে কি আপনার?

এতে চটে যান মহিলা এমপি এবং হট্টগোল শুরু হয়। এসময় বিলকিস ইসলাম বিষয়টা দেখে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ করেন এবং বলেন, আমার দল সহজ সরল হলেও আমি নই। কোন ক্ষেত্রেই ছাড় দিবোনা। এটা সংসদেও উঠাবো এবং এমপিগিরি দেখাবো। আমি আমার অধিকার আদায় করে নিবো। সারাদেশে কোথায় কিভাবে কি করা হয়েছে তা আমি জানতে চাইনা। সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জের পরিদর্শন কক্ষে আমার স্থান দিতে হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহা ফাতেহা তাকমিলা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাব্বির হোসেন, সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার, সাধারণ সম্পাদক শাহীন আক্তার শাহিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম, এম এ পারভেজ লিটন, সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আলহাজ্ব মাজহারুল ইসলাম।

এছাড়াও উভয় দলের অন্যান্য নেতাকর্মী, উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সূধীজন ও সংবাদকর্মীবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ সময়ের বাক বিতন্ডা চলাকালে পরিদর্শন কক্ষে কৌতূহলী সাধারণ মানুষেরও ভীড় জমে। তবে জাকজমকপূর্ণ আয়োজন হোটচ খায় এবং শেষে মিষ্টিমুখ করে রুক্ষ মুহূর্তের সমাপ্তি ঘটে।

সাধারণ মানুষের মাঝে এনিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকে বলেন, এতো সম্মানিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে এধরণের আচরণ কখনোই কাম্য নয়। এমন করে তারা নিজেদেরকেই অপমানিত করেছেন। সেই সাথে জনগণের মান সম্মানও নষ্ট করেছেন। ভবিষ্যতে এরকম হাস্যকর কাজ করা থেকে বিরত থাকতে উভয়ের প্রতি আহ্বান সচেতন মহলের।