ঢাকা ০৭:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তরুণ সমাজকে মোবাইল ও মাদকের ভয়াবহ আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী সেবার মান বাড়াতে ৫০ শয্যায় হাসপাতালকে ১০১ করতে খুব শিগগির দরপত্র আহ্বান করা হবে:স্বাস্থ্যমন্ত্রী লক্ষ্মীপুর ক্লাব লিমিটেডের তিন যুগ পুর্তি উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও গুণীজন সন্মাননা নেতৃত্বের কারণে আমরা অনেক পিছিয়ে গিয়েছি: পানিসম্পদ মন্ত্রী জিয়াউর রহমানের মতো সৎ ব্যক্তি বাংলাদেশের ইতিহাসে আর সৃষ্টি হয়নি: জেলা যুবদল সভাপতি ২০২৭ সালে ৩১ কোটি নতুন বই বিতরণ ও ইতিহাস বিকৃতি রোধের ঘোষণা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী মেয়েটি নিজেই এমপি গাজী নজরুলকে সেবা করতে চেয়েছিল: দাবি জামায়াতের এমপির কার্ডের খেলা না খেলে মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করুণ: নাহিদ ইসলাম রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলেন স্পিকার রায়পুরে খাল খনন শেষে অব্যয়িত ৬৫ লাখ টাকা ফেরত

গ্রাহকদের কোটি টাকা নিয়ে ব্যাংকের ক্যাশিয়ার লাপাত্তা, ব্যাংক ঘেরাও করে বিক্ষোভ

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ০৭:১৪:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
  • 79

পটুয়াখালী প্রতিনিধি। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অর্ধশতাধিক গ্রাহকের কোটি টাকা লাপাত্তা হয়েছে আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংকের পাখিমারা আউটলেট শাখার ক্যাশিয়ার রিয়াদুল ইসলাম ইউসুফ। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সোমবার বেলা এগারোটায় ব্যাংক ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে ভূক্তভোগী ও তাদের স্বজনরা। এময় তারা মানবন্ধন কর্মসূচিও পালন করেন।

এছাড়া শুধু গ্রাহকই নয়, এই বাংকের এজেন্ট’র মুল একাউন্ট থেকেও ১০ লাখ টাকা নিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ প্রতারক রিয়াদের বিরুদ্ধে। এদিকে খবর ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাংকের শাখায় এসে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন অনেক জমানতকারী।

ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অভিযোগ, টাকা গ্রহনের পর জমাকৃত বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যাংকের অনলাইন সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত না করে আত্মসাৎ করেন রিয়াদ। আর গ্রাহকের মোবাইলে জমার বার্তা না পৌছালে সার্ভারে সমস্যা বলে তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান। পরে তার আত্মসাতের বিষয়ে এজেন্ট ও গ্রাহকদের নজরে আসলে প্রতারণায় সিদ্ধাহস্থ ইউসুফ গাঁ ঢাকা দেয়।

ভুক্তভোগী গ্রাহক মো. পারভেজ বলেন, ৫ মাস আগে আমার নিজ একাউন্টে ৫ লাখ টাকা রেখেছি। প্রয়োজন হয়নি বলে তোলার দরকারও পরেনি। কিন্তু এখন খবর পেয়ে গিয়ে দেখি আমার একাউন্টও খালি। ভুক্তভোগী শেফালী বেগম জানান, কয়েকদিন আগে টাকা উত্তোলন করতে গেলে রিয়াদ কদিন পরে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা তুলতে বলে। কিন্তু এখন একাউন্টে টাকা নেই।

এছাড়া লাইজু বেগমের ৫ লাখ, নাসরিন ৫ লাখ,নাসরিন বেগম ২ লাখ ৭১ হাজার, মোকছেদ ৫ লাখ, প্রবাসী হাসান ৪ লাখ ৩০ হাজার, প্রবাসী কবির ৪ লাখ, সিদ্দিক মাঝি ৩ লাখ, রহিম ২লাখ১০হাজার, জাহাঙ্গীর সহ প্রায় অর্ধ শতাধিক গ্রাহকের টাকার হদিস মিলছে না। ভুক্তভোগীরা বলছেন ঠিক কত মানুষের টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে ক্যাশিয়ার রিয়াদ তা এখনও সঠিক ভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

স্থানীয় অনেক মানুষের দাবী মাদকাসক্ত রিয়াদুল তালুকদার অনলাইন জুয়াসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত ছিলেন। এর পরেও ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক শাখায় তাকে দায়িত্বে কেন রাখা হয়েছে তা এখন সবারই প্রশ্ন।

আল আরাফা ইসলামী ব্যাংকটির এজেন্ট মোস্তাফিজুর রহমান আইয়ুব আলী শরীফ বলেন , আমার মূল এজেন্ট থাকা দশ লাখ টাকা হদিস পাচ্ছিনা। আমাদের এই শাখায় প্রায় দুই হাজারের মতো গ্রাহক রয়েছে। এদের মধ্যে কতজন ভুক্তভোগী গ্রাহক তাদের তালিকা করা হচ্ছে। অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়া ভূক্তভোগীদের টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন এর আগে রিয়াদ কারেন্ট বিল পরিশোধ না করে গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করে। বিষয়টি ধরা পড়ায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে তার বাবা মা গ্রান্টার হয়ে মুচলেকা পত্র দিয়ে চাকরিতে যোগদান করেন।

অভিযুক্ত রিয়াদের পিতা ইসমাইল তালুকদার বলেন, কয়েকদিন আগে থেকে আমার ছেলেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাকে পাওয়া গেলে কার কাছ থেকে কতজন গ্রাহকের কাছ থেকে কত টাকা নিয়েছে তা জেনে টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এজন্য আপনাদেরকে ধৈর্য ধরতে হবে। সন্তোজ জনক সমাধান করে দেবে। এবিষয়ে কলাপাড়া থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, এঘটনায় আমরা থানা পুলিশ এখনও কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

তরুণ সমাজকে মোবাইল ও মাদকের ভয়াবহ আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী

গ্রাহকদের কোটি টাকা নিয়ে ব্যাংকের ক্যাশিয়ার লাপাত্তা, ব্যাংক ঘেরাও করে বিক্ষোভ

আডেট সময় ০৭:১৪:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

পটুয়াখালী প্রতিনিধি। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অর্ধশতাধিক গ্রাহকের কোটি টাকা লাপাত্তা হয়েছে আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংকের পাখিমারা আউটলেট শাখার ক্যাশিয়ার রিয়াদুল ইসলাম ইউসুফ। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সোমবার বেলা এগারোটায় ব্যাংক ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে ভূক্তভোগী ও তাদের স্বজনরা। এময় তারা মানবন্ধন কর্মসূচিও পালন করেন।

এছাড়া শুধু গ্রাহকই নয়, এই বাংকের এজেন্ট’র মুল একাউন্ট থেকেও ১০ লাখ টাকা নিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ প্রতারক রিয়াদের বিরুদ্ধে। এদিকে খবর ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাংকের শাখায় এসে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন অনেক জমানতকারী।

ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অভিযোগ, টাকা গ্রহনের পর জমাকৃত বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যাংকের অনলাইন সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত না করে আত্মসাৎ করেন রিয়াদ। আর গ্রাহকের মোবাইলে জমার বার্তা না পৌছালে সার্ভারে সমস্যা বলে তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান। পরে তার আত্মসাতের বিষয়ে এজেন্ট ও গ্রাহকদের নজরে আসলে প্রতারণায় সিদ্ধাহস্থ ইউসুফ গাঁ ঢাকা দেয়।

ভুক্তভোগী গ্রাহক মো. পারভেজ বলেন, ৫ মাস আগে আমার নিজ একাউন্টে ৫ লাখ টাকা রেখেছি। প্রয়োজন হয়নি বলে তোলার দরকারও পরেনি। কিন্তু এখন খবর পেয়ে গিয়ে দেখি আমার একাউন্টও খালি। ভুক্তভোগী শেফালী বেগম জানান, কয়েকদিন আগে টাকা উত্তোলন করতে গেলে রিয়াদ কদিন পরে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা তুলতে বলে। কিন্তু এখন একাউন্টে টাকা নেই।

এছাড়া লাইজু বেগমের ৫ লাখ, নাসরিন ৫ লাখ,নাসরিন বেগম ২ লাখ ৭১ হাজার, মোকছেদ ৫ লাখ, প্রবাসী হাসান ৪ লাখ ৩০ হাজার, প্রবাসী কবির ৪ লাখ, সিদ্দিক মাঝি ৩ লাখ, রহিম ২লাখ১০হাজার, জাহাঙ্গীর সহ প্রায় অর্ধ শতাধিক গ্রাহকের টাকার হদিস মিলছে না। ভুক্তভোগীরা বলছেন ঠিক কত মানুষের টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে ক্যাশিয়ার রিয়াদ তা এখনও সঠিক ভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

স্থানীয় অনেক মানুষের দাবী মাদকাসক্ত রিয়াদুল তালুকদার অনলাইন জুয়াসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত ছিলেন। এর পরেও ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক শাখায় তাকে দায়িত্বে কেন রাখা হয়েছে তা এখন সবারই প্রশ্ন।

আল আরাফা ইসলামী ব্যাংকটির এজেন্ট মোস্তাফিজুর রহমান আইয়ুব আলী শরীফ বলেন , আমার মূল এজেন্ট থাকা দশ লাখ টাকা হদিস পাচ্ছিনা। আমাদের এই শাখায় প্রায় দুই হাজারের মতো গ্রাহক রয়েছে। এদের মধ্যে কতজন ভুক্তভোগী গ্রাহক তাদের তালিকা করা হচ্ছে। অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়া ভূক্তভোগীদের টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন এর আগে রিয়াদ কারেন্ট বিল পরিশোধ না করে গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করে। বিষয়টি ধরা পড়ায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে তার বাবা মা গ্রান্টার হয়ে মুচলেকা পত্র দিয়ে চাকরিতে যোগদান করেন।

অভিযুক্ত রিয়াদের পিতা ইসমাইল তালুকদার বলেন, কয়েকদিন আগে থেকে আমার ছেলেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাকে পাওয়া গেলে কার কাছ থেকে কতজন গ্রাহকের কাছ থেকে কত টাকা নিয়েছে তা জেনে টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এজন্য আপনাদেরকে ধৈর্য ধরতে হবে। সন্তোজ জনক সমাধান করে দেবে। এবিষয়ে কলাপাড়া থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, এঘটনায় আমরা থানা পুলিশ এখনও কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।