তাবারক হোসেন আজাদ: টানা বৃষ্টি ও মেঘনার পানিতে তলিয়ে গেছে উপকূলীয় চরাঞ্চলের তিনশ হেক্টর আমন ও আউশ ধানের জমির বীজ, পান ও সবজি। নদী উপচে পানি ঢুকছে মেঘনার চরের জমিতে। পানির নিচ থেকে বীজ বপন করলেও ৬ দিনের বৈরী আবহাওয়ায় সকল শস্য কাটা বন্ধ চরে। এছাড়াও চারটি ইউনিয়নের (উত্তর চরবংশী, দক্ষিন চরবংশী, উত্তর চরআবাবিল ও দক্ষিন চরআবাবিল) দশটি গ্রাম ও বেরিবাঁধে পশ্চিম এলাকায় নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। রাস্তাঘাট , বাজারসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ডুবে গেছে। এক সপ্তাহের ভিতরে একমাত্র ফসল আমন ও আউশ ধানের বীজ, পান ও সবজি পুরোপুরি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় কৃষকরা।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী আরও কয়েক দিন এমন ভারি বৃষ্টি থাকবে। আর বৃষ্টির এমন ধারাবাহিকতায় বড় ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে মেঘনা উপকূলীয় চরাঞ্চলের আমন ও আউশ ধানের বীজতলা ও পানসহ সবজি উৎপাদনে। আবার বৃষ্টির সঙ্গে রয়েছে বজ্রাঘাতে মৃত্যুর ঝুঁকি। সবমিলিয়ে উপকূলীয় কৃষকর চোখে মুখে এখন হাহাকার।
মেঘনার চরকাছিয়া চরে পানিতে তলিয়ে গেছে উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের কৃষক মিলন মিয়ার সারা বছরের স্বপ্ন। তিনি এবার আমন ধানের বীজ বপন করেছিলেন ৬ একর জমিতে। তা এখন মেঘনার করাল গ্রাসে নিমজ্জিত। বীজতলাগুলো তা আজ পচা পানির নিচে ডুবে আছে। বুক সমান পানিতে নেমেও শেষ রক্ষা হয়নি। প্রশাসনের কাছে এ বিশাল আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আর্থিক প্রণোদনা ও সহযোগিতা চেয়েছেন কৃষক মিলন মিয়া।
চরআবাবিলের কৃষক আবদুল জলিল বলেন, দেড় একর জমিতে এবার পান চাষ করি। টানস বৃষ্টিতে পানের বরজ সব নষ্ট হয়ে গেছে। বাজারে বিক্রির কোনো উপায় নেই। এদিকে রয়েছে ঋণের বোঝা। কিভাবে এতসব সামলাবো- ভেবেই কুল কিনারা পাচ্ছি না। আমার মতো অনেক কৃষকের একরের পর একর ধানি বীজ ও পান জমির পানিতে তলিয়ে গেছে। জমি তলিয়ে যাওয়ার কারণ হলো, রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে দেওয়া হয়, তাহলে হয়তো আমরা ভবিষ্যতে এমন দুর্যোগ থেকে বাঁচতে পারব। নয়তো কৃষকরা না খেয়ে মারা যাবে।
রায়পুরের কৃষি কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম জানান, মেঘনার চরাঞ্চলে আবাদ করা তিনশ হেক্টর আমন ও আউন ধানের বীজতলা, ৩শ হেক্টর জমিতে সবজি ও আড়াইশ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কারো কিছুই করার থাকে না। যদি আবহাওয়া ভালো হয় সয়াবিন ও পান তুলতে পারবে।
রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউছার জানান, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে বড় ধরনের কোন ক্ষতি হয়নি। তারপর ও চেয়ারম্যানদের খোঁজখবর দিতে বলা হয়। সরকারিভাবে কোন অনুদান এখনও আসেনি।
মেঘনার তীর 



















