ঢাকা ০৯:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চাঁদার টাকার জন্য দোকানে ও ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়ার চেষ্টা, তিন ব্যবসায়ী আহত লক্ষ্মীপুরে নকল ঘির ডিলারকে লাখ টাকা জরিমানা : ৩৫০ কেজি ঘি ধ্বংস লক্ষ্মীপুরে সাংবাদিককে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় ৬জনকে আসামী করে থানায় মামলা, দুই মামলায় গ্রেফতার সন্ত্রাসী সাকিব  দীপ্ত টিভির সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলমকে গুলি, অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা, বাহিনী প্রধান সাকিবকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্মীপুরে পানিতে ডুবে একই পরিবারের তিনজন নিহত রায়পুরে মাদকাসক্ত যুবকের দেয়া আগুনে পুড়ে গেছে ১১টি বসতঘরসহ৬ দোকান,অভিযুক্তকে গনপিটুনি উৎসাহ-উদ্দীপনায় শ্রী কৃষ্ণের জন্মতিথি জন্মাষ্টমী উদযাপিত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয় দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ :স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জাতীয়তাবাদের নতুন রাজনীতি সৃষ্টি করেছেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান: পানিসম্পদমন্ত্রী

টিকটকে আসক্তির জের ধরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ১২:৫১:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
  • 42

নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় দিঘলিয়া গ্রমে সুমনা ফেরদৌসী (৩৮) নামের এক গৃহবধূকে হত্যা করে আত্নহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার অভিযোগে স্বামী লিমন মল্লিককে (২৭) আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (১৫ জুন) রাতে উপজেলার দিঘলিয়া এলাকা থেকে অভিযুক্ত স্বামী লিমন মল্লিককে আটক করা হয়। নিহত সুমনা ফেরদৌসী দিঘলিয়া গ্রামের ইদ্রিস মল্লিকের ছেলে লিমন মল্লিকের দ্বিতীয় স্ত্রী এবং তার বাবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। অভিযুক্ত লিমন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে । বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায়।
জানাগেছে সুমনা টিকটকে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও পোস্ট করতেন। এই সুত্রধরে অনেক অপরিচিত পুরুষদের সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে। বিভিন্ন সময় তিনি আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও আদান প্রদান করে থাকেন। এই নিয়ে লিমন ও সুমনা দম্পতির মাঝে পারিবারিক কলহ লেগেই থাকতো। তবে সুমনা এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে করবেনা বলে স্বামী লিমনের কাছে কয়েকবার ওয়াদা করেন। সোমবার (১৫ জুন) সকাল ৮ টার দিকে আবারও টিকটিকে কুরুচিপূর্ণ ছবি ভিডিও পোস্ট করা ও পরপুরুষদের সাথে আপত্তিকর ছবি আদান-প্রদান ও কথোপকথনের জেরে লিমন সুমনার মাঝে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। এর এক পর্যায়ে লিমনের আঘাতে সুমনা রক্তাক্ত অবস্থায় মাঠিতে পড়ে যান। পরে সুমনাকে তার স্বামী শ্বাসরোধ করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে দেন।
পুলিশ সুত্রে জানা , ঢাকার একটি গার্মেন্টসে কাজ করার সুবাদে লিমন ও সুমনার পরিচয় হয়। ২০২১ সালে ঢাকায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এটি লিমনের দ্বিতীয় ও সুমনার চতুর্থ বিয়ে । বিয়ের পরে দ্বিতীয় স্ত্রী সুমনাকে নিয়ে লিমন বাড়িতে চলে আসেন। প্রথম স্ত্রী ও সন্তান থাকা স্বত্বেও সুমনাকে বাড়িতে নিয়ে আসায় পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হয়। কিছুদিন পর লিমনের প্রথম স্ত্রী তার একমাত্র কন্যা সন্তানকে নিয়ে রংপুরে চলে যান। পরবর্তীতে লিমন চায়ের দোকান চালানোর পাশাপাশি কাঠ কাটা শ্রমিক হিসাবে কাজ করে সংসার চালাতেন।
পুলিশ আরও জানায়, সকাল ১০ টার দিকে প্রতিদিনের মতো কাজে বেরিয়ে পড়েন লিমন। স্বাভাবিক ভাবে সারাদিন কাজ শেষ করেছিলেন বিকাল ৫ টার পর বাড়িতে এসে ঘরের দরজা খুলে নিজেই চিৎকার চেচামেচি ও কান্নাকাটি শুরু করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠায়। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে পুলিশ প্রাথমিক ভাবে নিশ্চিত হয় এটি কোনো আত্নহত্যা নয়, হত্যাকান্ড। পরে রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সুমনার স্বামী লিমনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, আটক লিমন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার স্ত্রী সুমনাকে হত্যার দায় স্বীকার করে ঘটনার বর্ননা দিয়েছেন। মূলত হত্যার পর আত্নহত্যা দেখাতেই সুমনাকে ঘরে ঝুলিয়ে দিয়েছিলো। ভুক্তভোগী নারীর পরিবারের নিকট খবর পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদার টাকার জন্য দোকানে ও ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়ার চেষ্টা, তিন ব্যবসায়ী আহত

টিকটকে আসক্তির জের ধরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক

আডেট সময় ১২:৫১:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় দিঘলিয়া গ্রমে সুমনা ফেরদৌসী (৩৮) নামের এক গৃহবধূকে হত্যা করে আত্নহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার অভিযোগে স্বামী লিমন মল্লিককে (২৭) আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (১৫ জুন) রাতে উপজেলার দিঘলিয়া এলাকা থেকে অভিযুক্ত স্বামী লিমন মল্লিককে আটক করা হয়। নিহত সুমনা ফেরদৌসী দিঘলিয়া গ্রামের ইদ্রিস মল্লিকের ছেলে লিমন মল্লিকের দ্বিতীয় স্ত্রী এবং তার বাবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। অভিযুক্ত লিমন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে । বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায়।
জানাগেছে সুমনা টিকটকে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও পোস্ট করতেন। এই সুত্রধরে অনেক অপরিচিত পুরুষদের সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে। বিভিন্ন সময় তিনি আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও আদান প্রদান করে থাকেন। এই নিয়ে লিমন ও সুমনা দম্পতির মাঝে পারিবারিক কলহ লেগেই থাকতো। তবে সুমনা এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে করবেনা বলে স্বামী লিমনের কাছে কয়েকবার ওয়াদা করেন। সোমবার (১৫ জুন) সকাল ৮ টার দিকে আবারও টিকটিকে কুরুচিপূর্ণ ছবি ভিডিও পোস্ট করা ও পরপুরুষদের সাথে আপত্তিকর ছবি আদান-প্রদান ও কথোপকথনের জেরে লিমন সুমনার মাঝে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। এর এক পর্যায়ে লিমনের আঘাতে সুমনা রক্তাক্ত অবস্থায় মাঠিতে পড়ে যান। পরে সুমনাকে তার স্বামী শ্বাসরোধ করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে দেন।
পুলিশ সুত্রে জানা , ঢাকার একটি গার্মেন্টসে কাজ করার সুবাদে লিমন ও সুমনার পরিচয় হয়। ২০২১ সালে ঢাকায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এটি লিমনের দ্বিতীয় ও সুমনার চতুর্থ বিয়ে । বিয়ের পরে দ্বিতীয় স্ত্রী সুমনাকে নিয়ে লিমন বাড়িতে চলে আসেন। প্রথম স্ত্রী ও সন্তান থাকা স্বত্বেও সুমনাকে বাড়িতে নিয়ে আসায় পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হয়। কিছুদিন পর লিমনের প্রথম স্ত্রী তার একমাত্র কন্যা সন্তানকে নিয়ে রংপুরে চলে যান। পরবর্তীতে লিমন চায়ের দোকান চালানোর পাশাপাশি কাঠ কাটা শ্রমিক হিসাবে কাজ করে সংসার চালাতেন।
পুলিশ আরও জানায়, সকাল ১০ টার দিকে প্রতিদিনের মতো কাজে বেরিয়ে পড়েন লিমন। স্বাভাবিক ভাবে সারাদিন কাজ শেষ করেছিলেন বিকাল ৫ টার পর বাড়িতে এসে ঘরের দরজা খুলে নিজেই চিৎকার চেচামেচি ও কান্নাকাটি শুরু করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠায়। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে পুলিশ প্রাথমিক ভাবে নিশ্চিত হয় এটি কোনো আত্নহত্যা নয়, হত্যাকান্ড। পরে রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সুমনার স্বামী লিমনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, আটক লিমন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার স্ত্রী সুমনাকে হত্যার দায় স্বীকার করে ঘটনার বর্ননা দিয়েছেন। মূলত হত্যার পর আত্নহত্যা দেখাতেই সুমনাকে ঘরে ঝুলিয়ে দিয়েছিলো। ভুক্তভোগী নারীর পরিবারের নিকট খবর পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।