ঢাকা ০৯:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাগেরহাটের আইনজীবী নিজাম শান্ত হত্যার প্রতিবাদে লক্ষ্মীপুরে মানববন্ধন তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী: দুই চিকিৎসক ও এক নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা যারা ইনসাফের কথা বলে,তাদের অপকর্মের শেষ নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ লক্ষ্মীপুরে পুকুরে ডুবে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু লক্ষ্মীপুরে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ১ কোটি ১ লাখ টাকার অনুদান তরুণ সমাজকে মোবাইল ও মাদকের ভয়াবহ আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী সেবার মান বাড়াতে ৫০ শয্যায় হাসপাতালকে ১০১ করতে খুব শিগগির দরপত্র আহ্বান করা হবে:স্বাস্থ্যমন্ত্রী লক্ষ্মীপুর ক্লাব লিমিটেডের তিন যুগ পুর্তি উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও গুণীজন সন্মাননা নেতৃত্বের কারণে আমরা অনেক পিছিয়ে গিয়েছি: পানিসম্পদ মন্ত্রী

দালালবাজার-মীরগন্জ সড়কের বেহাল দশা, তিন উপজেলার মানুষের চরম ভোগান্তি

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ১০:৪৫:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
  • 59

তাবারক হোসেন আজাদ: লক্ষ্মীপুরের দালালবাজার থেকে রায়পুর হয়ে রামগঞ্জ শহড় পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে দালালবাজার থেকে মীরগঞ্জ পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার অংশ রয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায়। বাকি অংশ সড়ক ও জনপদ বিভাগের দায়িত্বে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এলজিইডির আওতাধীন ৯ কিলোমিটার এখন সম্পূর্ণ বেহাল। বিশেষ করে চৌধুরীবাজার, কাফিলাতলি থেকে মীরগঞ্জ বাজার পর্যন্ত সড়কে তৈরি হয়েছে অসংখ্য গর্ত- খানাখন্দ।

সড়কটির দুই পাশে রয়েছে অন্তত ৮টি সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ৪টি বড়-ছোট বাজার। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে রায়পুর, রামগঞ্জ ও সদর উপজেলার প্রায় এক লাখ মানুষ চলাচল করে। শুষ্ক মৌসুমে ধুলোবালিতে আর বর্ষায় কাদা পানিতে নাজেহাল অবস্থা তৈরি হয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ যাত্রী সবাই পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন/০২৬) সরজমিন দেখা যায়, সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত, ফাটা কার্পেটিং আর পানি জমে থাকা খানাখন্দ, যানবাহন চলছে হেলেদুলে, ফলে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, চার বছর আগে সড়কটি মেরামত করা হলেও কাজের মান নিম্নমানের হওয়ায় কয়েক মাসের মধ্যেই তা ভেঙে যায়। এখন পুরো সড়কটিই যেন মরণফাঁদ।

সাগর্দি গ্রামের সমাজকর্মী বেলাল হোসেন বলেন, ‘রাস্তায় এমন গর্ত অসুস্থ কাউকে হাসপাতালে নেয়াও এখন কঠিন। বাজার থেকে পণ্য আনতেও দিতে হয় কয়েক গুণ ভাড়া। অনেক সময় অটোচালকরা এ পথে আসতেই চান না।’

রায়পুর ও সদর উপজেলার সীমান্ত এলাকার কাজেরদিঘিরপাড় সমাজ কল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘এ রাস্তায় প্রতিদিন তিন থেকে চার হাজার শিক্ষার্থী চলাচল করে। গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনায় বই-খাতা নষ্ট হয়, স্কুলে পৌঁছতেই পারে না। সময়মতো যানবাহন না পাওয়ায় শিক্ষক ও চাকরিজীবীরা বিপাকে পড়তে হয়।’

এই সড়কে চলাচলকারি পরিবহনচালক মোঃ হাসিব ও সজল হোসেন জানান, ‘সড়কজুড়ে গর্ত থাকায় প্রতিনিয়ত গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়। ১০ মিনিটের পথ যেতে দেড় থেকে ২ ঘণ্টা লাগে। যাত্রীদেরও দিতে হয় অতিরিক্ত ভাড়া।’

এই সড়কের বেহাল দশার কথা স্বীকার করে এলজিইডি’র সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা মিনহাজ বলেন, ‘অর্থের অভাবে সড়কটি সংস্কার করা যায়নি। গতবারে বন্যা ও বৃষ্টিতে সড়কটি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এরই মধ্যে সড়কটি মেরামতের জন্য মন্ত্রনালয়ে একটি প্রকল্পে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত সড়কটি সংস্কার উদ্যোগ নেয়া হবে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটের আইনজীবী নিজাম শান্ত হত্যার প্রতিবাদে লক্ষ্মীপুরে মানববন্ধন

দালালবাজার-মীরগন্জ সড়কের বেহাল দশা, তিন উপজেলার মানুষের চরম ভোগান্তি

আডেট সময় ১০:৪৫:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

তাবারক হোসেন আজাদ: লক্ষ্মীপুরের দালালবাজার থেকে রায়পুর হয়ে রামগঞ্জ শহড় পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে দালালবাজার থেকে মীরগঞ্জ পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার অংশ রয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায়। বাকি অংশ সড়ক ও জনপদ বিভাগের দায়িত্বে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এলজিইডির আওতাধীন ৯ কিলোমিটার এখন সম্পূর্ণ বেহাল। বিশেষ করে চৌধুরীবাজার, কাফিলাতলি থেকে মীরগঞ্জ বাজার পর্যন্ত সড়কে তৈরি হয়েছে অসংখ্য গর্ত- খানাখন্দ।

সড়কটির দুই পাশে রয়েছে অন্তত ৮টি সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ৪টি বড়-ছোট বাজার। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে রায়পুর, রামগঞ্জ ও সদর উপজেলার প্রায় এক লাখ মানুষ চলাচল করে। শুষ্ক মৌসুমে ধুলোবালিতে আর বর্ষায় কাদা পানিতে নাজেহাল অবস্থা তৈরি হয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ যাত্রী সবাই পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন/০২৬) সরজমিন দেখা যায়, সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত, ফাটা কার্পেটিং আর পানি জমে থাকা খানাখন্দ, যানবাহন চলছে হেলেদুলে, ফলে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, চার বছর আগে সড়কটি মেরামত করা হলেও কাজের মান নিম্নমানের হওয়ায় কয়েক মাসের মধ্যেই তা ভেঙে যায়। এখন পুরো সড়কটিই যেন মরণফাঁদ।

সাগর্দি গ্রামের সমাজকর্মী বেলাল হোসেন বলেন, ‘রাস্তায় এমন গর্ত অসুস্থ কাউকে হাসপাতালে নেয়াও এখন কঠিন। বাজার থেকে পণ্য আনতেও দিতে হয় কয়েক গুণ ভাড়া। অনেক সময় অটোচালকরা এ পথে আসতেই চান না।’

রায়পুর ও সদর উপজেলার সীমান্ত এলাকার কাজেরদিঘিরপাড় সমাজ কল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘এ রাস্তায় প্রতিদিন তিন থেকে চার হাজার শিক্ষার্থী চলাচল করে। গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনায় বই-খাতা নষ্ট হয়, স্কুলে পৌঁছতেই পারে না। সময়মতো যানবাহন না পাওয়ায় শিক্ষক ও চাকরিজীবীরা বিপাকে পড়তে হয়।’

এই সড়কে চলাচলকারি পরিবহনচালক মোঃ হাসিব ও সজল হোসেন জানান, ‘সড়কজুড়ে গর্ত থাকায় প্রতিনিয়ত গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়। ১০ মিনিটের পথ যেতে দেড় থেকে ২ ঘণ্টা লাগে। যাত্রীদেরও দিতে হয় অতিরিক্ত ভাড়া।’

এই সড়কের বেহাল দশার কথা স্বীকার করে এলজিইডি’র সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা মিনহাজ বলেন, ‘অর্থের অভাবে সড়কটি সংস্কার করা যায়নি। গতবারে বন্যা ও বৃষ্টিতে সড়কটি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এরই মধ্যে সড়কটি মেরামতের জন্য মন্ত্রনালয়ে একটি প্রকল্পে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত সড়কটি সংস্কার উদ্যোগ নেয়া হবে।