স্টাফ রিপোর্টার: ধর্মকে ব্যবহার করে সমাজে বিভেদ সৃষ্টি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, যারা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভুলে যেতে বা মানুষকে ভুলিয়ে দিতে চায়, তারা কখনোই বাংলাদেশকে বিশ্বাস করে না।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সম্মিলিত সনাতন পরিষদের আয়োজনে ‘সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা ও প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ হাজার বছর ধরে সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে আসছেন। এ দেশে বিভাজনের কোনো সুযোগ নেই। তাই ধর্মের নামে সমাজে বিভেদ সৃষ্টির সব অপচেষ্টা সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করতে হবে।
তিনি বলেন, যারা একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধকে ভুলে যেতে চায় কিংবা মানুষকে সেই ইতিহাস ভুলিয়ে দিতে চায়, তারা বাংলাদেশকে বিশ্বাস করে না।
দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার কথা উল্লেখ করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, এখনো একটি পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। গত ১৫ বছরে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে নতুন প্রত্যয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে।
তিনি আরও বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। সামনে নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও জুলাই আন্দোলনের গুরুত্ব খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে ধর্মীয় বিভাজন সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করতে হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, বহুত্ববাদ ও বৈচিত্র্য রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। সব ধর্মাবলম্বী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সমান নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
মেঘনার তীর 












