ঢাকা ১০:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চাঁদার টাকার জন্য দোকানে ও ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়ার চেষ্টা, তিন ব্যবসায়ী আহত লক্ষ্মীপুরে নকল ঘির ডিলারকে লাখ টাকা জরিমানা : ৩৫০ কেজি ঘি ধ্বংস লক্ষ্মীপুরে সাংবাদিককে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় ৬জনকে আসামী করে থানায় মামলা, দুই মামলায় গ্রেফতার সন্ত্রাসী সাকিব  দীপ্ত টিভির সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলমকে গুলি, অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা, বাহিনী প্রধান সাকিবকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্মীপুরে পানিতে ডুবে একই পরিবারের তিনজন নিহত রায়পুরে মাদকাসক্ত যুবকের দেয়া আগুনে পুড়ে গেছে ১১টি বসতঘরসহ৬ দোকান,অভিযুক্তকে গনপিটুনি উৎসাহ-উদ্দীপনায় শ্রী কৃষ্ণের জন্মতিথি জন্মাষ্টমী উদযাপিত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয় দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ :স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জাতীয়তাবাদের নতুন রাজনীতি সৃষ্টি করেছেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান: পানিসম্পদমন্ত্রী

পুলিশের চাকুরি ওয়ান কান্ড অব বিজনেস”ওসি প্রত্যাহার, তদন্ত কমিটি গঠন

স্টাফ রিপোর্টার: ” পুলিশের চাকুরি ওয়ান কান্ড অব বিজনেস” এই ধরণের একটি বক্তব্য নিয়ে নেত্রকোণার কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাশেমের  অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সাথে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নেত্রকোণা পুলিশ সুপার মো: তরিকুল ইসলাম জানান, সকালে ওসি মো. আবুল হাশেমকে প্রত্যাহার করে পুরিশ লাইনসে যুক্ত করা হয়েছে। একইসাথে জেলা পুলিশের (ডিএসবি ) গোয়েন্দা শাখার অতিরিক্তি পুলিশ সুপার হাফিজুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমটি গঠন করা হয়েছে।  আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গত শনিবার (৩০ মে) ভাইরাল হওয়া ওই অডিওতে থানার পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে আবুল হাশেমকে বলতে শোনা যায়, ‘পুলিশের চাকরি এক ধরনের ব্যবসা।’ পাশাপাশি অভিযোগ নিষ্পত্তি, অর্থ লেনদেন এবং থানার অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্যও করা হয়। অডিওতে শোনা যায়, ‘পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস (এক ধরনের ব্যবসা)। আমরা কেউ কাউকে ঠকাবো না। সবাই মিলেমিশে থাকবো। ধরেন দুই হাজার টাকা আমি খরচ করলাম, এই টাকা তো আমার বাড়ির টাকা না, বেতনের টাকাও না। আপনারা একটা অভিযোগ দিলেন এক হাজার টাকা, আরেকটা খারিজ কইরা ফেললেন এক হাজার টাকা, ওইটা দিয়েই কিন্তু আমি পাড়ি দিয়া দিলাম। তাইলে আমার তো রিস্ক নাই, নো টেনশন, খুব রিলাক্সে আছি।’
ওসি বলেন, ‘পুলিশের যে চাকরিটা এটা ওয়ান কাউন্ড অব বিজনেস। সবাই কিন্তু এই বিজনেসের সঙ্গে জড়িত না। আমরা কিন্তু একজন আরেকজনরে সেইফে রাখছি। সবাই সমন্বয় করে চলতে হবে। ওসির মাথায় কিন্তু কাঠাল ভেঙে খাইতে পারবেন না। সর্বোপরি আমি আপনাদের ঠকাবো না, আমি কি বাড়ি থেকে টাকা এনে খরচ করতাছি, না জমি বেইচ্যা আইন্যা আপনাদের চালাইতেছি। সবাই যেন ভালো থাকতে পারি। যার যেই অধিকার সে যেন সেটা পায়। আমার যারা কনস্টেবল আছে তারা যেন যেটা পাওয়ার সেটা পায়, তারা যেন বঞ্চিত না হয়। হক মারা আমি পছন্দ করি না। কারণ যারা হক মারে রাসূল (সা.) তারে সাফায়েত করবেন না। এটাই কিন্তু ফাইনাল কথা। কেউ চালাকি করবেন না। বর্তমান মিডিয়া অনেক এগিয়ে আছে।
ওসি আরও বলেন, ‘বর্তমানে গুপ্ত-গুপ্ত একটা শব্দ আছে, এই শব্দটা আবিষ্কার করছে তারেক জিয়া (প্রধানমন্ত্রী)। আপনারা যে গুপ্ত-গুপ্ত থাকার চেষ্টা করেন এইটা কিন্ত আমরা বুঝতেছি। এই যে সেইদিন মামলাটা হইলো না, এখান থেকে টাকা পয়সা নিয়েছেন। অনেকে আমার কাছে আসছিল টাকা পয়সা নেওয়ার বিষয়ে জানতে। আমি কিন্তু কিছুই জানি না। তারপরও তাদের নানান কিছু বুঝাইয়া দৌড়াইয়া দিছি। আমরা যারা সিস্টেমের মধ্যে আছি, তারা যেন মিলে ঝুলে চলি। বেশি চালাকির দরকার নেই। যে কোনো কাজে আমরা নিজেদের কাউরে বিপদেও ফেলবো না, কাউরে ঠকাবোও না। আরেকটা বিষয় আছে কিছু কিছু ঘটনায় জায়গাতেই চার্জশিট, জায়গাতেই ফাইনাল, ওসি কিছুই জানলো না! আরে ভাই আপনি তো নিজেই থানা একটা খুইল্যা ফেললেন। থানায় তো একজন ওসি আছে, তার সঙ্গে সমন্বয় করবেন। নাইলে নয়টা কইরা ফেললেন দশটার সময় ধরা খাবেন। তখন বুইজেন খবর আছে।’
তবে ভাইরাল হওয়া অডিওর সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। ওসি মো. আবুল হাশেম ভাইরাল বক্তব্যটি নিজের নয় বলে অস্বীকার করেছেন। তাছাড়া পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বলছেন তদন্তের আগে বিষয়টির সত্যতা নিয়ে বলা সম্ভব নয়।এ বিষয়ে কলমাকান্দা থানার ওসি মো. আবুল হাশেম দাবি করেছেন, অডিওতে থাকা কণ্ঠ তার নয়। কীভাবে এমন একটি রেকর্ড তার নামে প্রচার করা হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলেও জানিয়েছেন।
অতিরিক্তি পুলিশ সুপার হাফিজুল ইসলাম বলেন, আজ থেকে তদন্ত কাজ শুরু করা হয়েছে। আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিব বলেন তিনি।
নেত্রকোণার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম বলেছেন, বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে এবং অভিযোগ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওসিকে প্রত্যাহারসহ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদার টাকার জন্য দোকানে ও ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়ার চেষ্টা, তিন ব্যবসায়ী আহত

পুলিশের চাকুরি ওয়ান কান্ড অব বিজনেস”ওসি প্রত্যাহার, তদন্ত কমিটি গঠন

আডেট সময় ০৫:১৯:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: ” পুলিশের চাকুরি ওয়ান কান্ড অব বিজনেস” এই ধরণের একটি বক্তব্য নিয়ে নেত্রকোণার কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাশেমের  অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সাথে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নেত্রকোণা পুলিশ সুপার মো: তরিকুল ইসলাম জানান, সকালে ওসি মো. আবুল হাশেমকে প্রত্যাহার করে পুরিশ লাইনসে যুক্ত করা হয়েছে। একইসাথে জেলা পুলিশের (ডিএসবি ) গোয়েন্দা শাখার অতিরিক্তি পুলিশ সুপার হাফিজুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমটি গঠন করা হয়েছে।  আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গত শনিবার (৩০ মে) ভাইরাল হওয়া ওই অডিওতে থানার পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে আবুল হাশেমকে বলতে শোনা যায়, ‘পুলিশের চাকরি এক ধরনের ব্যবসা।’ পাশাপাশি অভিযোগ নিষ্পত্তি, অর্থ লেনদেন এবং থানার অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্যও করা হয়। অডিওতে শোনা যায়, ‘পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস (এক ধরনের ব্যবসা)। আমরা কেউ কাউকে ঠকাবো না। সবাই মিলেমিশে থাকবো। ধরেন দুই হাজার টাকা আমি খরচ করলাম, এই টাকা তো আমার বাড়ির টাকা না, বেতনের টাকাও না। আপনারা একটা অভিযোগ দিলেন এক হাজার টাকা, আরেকটা খারিজ কইরা ফেললেন এক হাজার টাকা, ওইটা দিয়েই কিন্তু আমি পাড়ি দিয়া দিলাম। তাইলে আমার তো রিস্ক নাই, নো টেনশন, খুব রিলাক্সে আছি।’
ওসি বলেন, ‘পুলিশের যে চাকরিটা এটা ওয়ান কাউন্ড অব বিজনেস। সবাই কিন্তু এই বিজনেসের সঙ্গে জড়িত না। আমরা কিন্তু একজন আরেকজনরে সেইফে রাখছি। সবাই সমন্বয় করে চলতে হবে। ওসির মাথায় কিন্তু কাঠাল ভেঙে খাইতে পারবেন না। সর্বোপরি আমি আপনাদের ঠকাবো না, আমি কি বাড়ি থেকে টাকা এনে খরচ করতাছি, না জমি বেইচ্যা আইন্যা আপনাদের চালাইতেছি। সবাই যেন ভালো থাকতে পারি। যার যেই অধিকার সে যেন সেটা পায়। আমার যারা কনস্টেবল আছে তারা যেন যেটা পাওয়ার সেটা পায়, তারা যেন বঞ্চিত না হয়। হক মারা আমি পছন্দ করি না। কারণ যারা হক মারে রাসূল (সা.) তারে সাফায়েত করবেন না। এটাই কিন্তু ফাইনাল কথা। কেউ চালাকি করবেন না। বর্তমান মিডিয়া অনেক এগিয়ে আছে।
ওসি আরও বলেন, ‘বর্তমানে গুপ্ত-গুপ্ত একটা শব্দ আছে, এই শব্দটা আবিষ্কার করছে তারেক জিয়া (প্রধানমন্ত্রী)। আপনারা যে গুপ্ত-গুপ্ত থাকার চেষ্টা করেন এইটা কিন্ত আমরা বুঝতেছি। এই যে সেইদিন মামলাটা হইলো না, এখান থেকে টাকা পয়সা নিয়েছেন। অনেকে আমার কাছে আসছিল টাকা পয়সা নেওয়ার বিষয়ে জানতে। আমি কিন্তু কিছুই জানি না। তারপরও তাদের নানান কিছু বুঝাইয়া দৌড়াইয়া দিছি। আমরা যারা সিস্টেমের মধ্যে আছি, তারা যেন মিলে ঝুলে চলি। বেশি চালাকির দরকার নেই। যে কোনো কাজে আমরা নিজেদের কাউরে বিপদেও ফেলবো না, কাউরে ঠকাবোও না। আরেকটা বিষয় আছে কিছু কিছু ঘটনায় জায়গাতেই চার্জশিট, জায়গাতেই ফাইনাল, ওসি কিছুই জানলো না! আরে ভাই আপনি তো নিজেই থানা একটা খুইল্যা ফেললেন। থানায় তো একজন ওসি আছে, তার সঙ্গে সমন্বয় করবেন। নাইলে নয়টা কইরা ফেললেন দশটার সময় ধরা খাবেন। তখন বুইজেন খবর আছে।’
তবে ভাইরাল হওয়া অডিওর সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। ওসি মো. আবুল হাশেম ভাইরাল বক্তব্যটি নিজের নয় বলে অস্বীকার করেছেন। তাছাড়া পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বলছেন তদন্তের আগে বিষয়টির সত্যতা নিয়ে বলা সম্ভব নয়।এ বিষয়ে কলমাকান্দা থানার ওসি মো. আবুল হাশেম দাবি করেছেন, অডিওতে থাকা কণ্ঠ তার নয়। কীভাবে এমন একটি রেকর্ড তার নামে প্রচার করা হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলেও জানিয়েছেন।
অতিরিক্তি পুলিশ সুপার হাফিজুল ইসলাম বলেন, আজ থেকে তদন্ত কাজ শুরু করা হয়েছে। আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিব বলেন তিনি।
নেত্রকোণার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম বলেছেন, বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে এবং অভিযোগ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওসিকে প্রত্যাহারসহ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।