ঢাকা ০৯:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চাঁদার টাকার জন্য দোকানে ও ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়ার চেষ্টা, তিন ব্যবসায়ী আহত লক্ষ্মীপুরে নকল ঘির ডিলারকে লাখ টাকা জরিমানা : ৩৫০ কেজি ঘি ধ্বংস লক্ষ্মীপুরে সাংবাদিককে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় ৬জনকে আসামী করে থানায় মামলা, দুই মামলায় গ্রেফতার সন্ত্রাসী সাকিব  দীপ্ত টিভির সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলমকে গুলি, অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা, বাহিনী প্রধান সাকিবকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্মীপুরে পানিতে ডুবে একই পরিবারের তিনজন নিহত রায়পুরে মাদকাসক্ত যুবকের দেয়া আগুনে পুড়ে গেছে ১১টি বসতঘরসহ৬ দোকান,অভিযুক্তকে গনপিটুনি উৎসাহ-উদ্দীপনায় শ্রী কৃষ্ণের জন্মতিথি জন্মাষ্টমী উদযাপিত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয় দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ :স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জাতীয়তাবাদের নতুন রাজনীতি সৃষ্টি করেছেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান: পানিসম্পদমন্ত্রী

বঙ্গোপসাগরে ধরা পড়ল বিরল ‘লাইন্ড সার্জন ফিশ’

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ১১:৪৩:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
  • 78

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি। পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন গভীর বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ‘লাইন্ড সার্জনফিশ’। হলুদ, নীল ও কালো রঙের সমান্তরাল ডোরাকাটা আকর্ষনীয় এই মাছটি স্থানীয়ভাবে ‘সুন্দরী মাছ’ নামেও পরিচিত।

রোববার (১২ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে মাছটি আলিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ‘সিফাত ফিস’ আড়তে নিয়ে আসা হয়। এর আগে, শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে গভীর সমুদ্রে ‘মায়ের দোয়া’ নামক একটি ফিশিং ট্রলারের জালে প্রায় আধা কেজি ওজনের এই রঙিন মাছটি ধরা পড়ে।

ট্রলারের মাঝি মো. সেলিম বলেন, ‘গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় হঠাৎ অন্য মাছের সঙ্গে এটি জালে আটকা পড়ে। আগে কখনো এমন মাছ দেখিনি। দেখতে সুন্দর হওয়ায় আলাদা করে যত্ন করে তীরে নিয়ে এসেছি।’

মাছটি দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা মো. মাইনুল ও মৎস্যজীবী মো. হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রের মাছ দেখলেও এমন অদ্ভুত সুন্দর মাছ সচরাচর চোখে পড়ে না। খবর পেয়ে কৌতূহল থেকেই তারা এটি দেখতে এসেছেন।

সিফাত ফিসের স্বত্বাধিকারী ও মৎস্য ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ ধরনের মাছ সাধারণত এই উপকূলীয় এলাকায় পাওয়া যায় না। সাধারণ বাজারে এর বাণিজ্যিক চাহিদাও নেই। তবে এর অপূর্ব সৌন্দর্যের কারণে মাছটি সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে।’

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘লাইন্ড সার্জনফিশ’-এর বৈজ্ঞানিক নাম অ্যাকানথুরাস লিনিয়েটাস। আন্তর্জাতিকভাবে এটি ‘ব্লু-ব্যান্ডেড সার্জনফিশ’, ‘জেব্রা সার্জনফিশ’ ও ‘স্ট্রাইপড সার্জনফিশ’ নামেও পরিচিত। এরা সাধারণত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের উষ্ণ সামুদ্রিক এলাকার প্রবাল প্রাচীর (কোররাল রিফ) ও পাথুরে এলাকায় বাস করে। এ ধরনের মাছ মূলত সামুদ্রিক শৈবাল খেয়ে বেঁচে থাকে এবং সমুদ্রের বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্য রক্ষায় কাজ করে। এদের লেজের গোড়ায় অত্যন্ত ধারালো একটি কাঁটা থাকে, যা দিয়ে এরা শত্রুর হাত থেকে আত্মরক্ষা করে।

‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের (ডব্লিউসিএস ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে পরিচালিত) গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, ‘এই মাছের লেজের গোড়ার কাঁটাটি বেশ বিপজ্জনক। আত্মরক্ষার সময় এটি দিয়ে আঘাত করলে মানুষের শরীরে তীব্র ও যন্ত্রণাদায়ক ব্যথার সৃষ্টি হতে পারে। বাংলাদেশের সেন্ট মার্টিন ও সুন্দরবন উপকূলসহ বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় মাঝেমধ্যে এদের দেখা মেলে।’

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘আমাদের উপকূলে এই মাছ সচরাচর ধরা না পড়লেও বঙ্গোপসাগরের উষ্ণ পরিবেশে এদের বিচরণ রয়েছে। তবে মাছটির লেজের ধারালো কাঁটার কারণে জেলেদের এটি ধরার সময় সতর্ক থাকা উচিত।’

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদার টাকার জন্য দোকানে ও ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়ার চেষ্টা, তিন ব্যবসায়ী আহত

বঙ্গোপসাগরে ধরা পড়ল বিরল ‘লাইন্ড সার্জন ফিশ’

আডেট সময় ১১:৪৩:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি। পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন গভীর বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ‘লাইন্ড সার্জনফিশ’। হলুদ, নীল ও কালো রঙের সমান্তরাল ডোরাকাটা আকর্ষনীয় এই মাছটি স্থানীয়ভাবে ‘সুন্দরী মাছ’ নামেও পরিচিত।

রোববার (১২ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে মাছটি আলিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ‘সিফাত ফিস’ আড়তে নিয়ে আসা হয়। এর আগে, শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে গভীর সমুদ্রে ‘মায়ের দোয়া’ নামক একটি ফিশিং ট্রলারের জালে প্রায় আধা কেজি ওজনের এই রঙিন মাছটি ধরা পড়ে।

ট্রলারের মাঝি মো. সেলিম বলেন, ‘গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় হঠাৎ অন্য মাছের সঙ্গে এটি জালে আটকা পড়ে। আগে কখনো এমন মাছ দেখিনি। দেখতে সুন্দর হওয়ায় আলাদা করে যত্ন করে তীরে নিয়ে এসেছি।’

মাছটি দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা মো. মাইনুল ও মৎস্যজীবী মো. হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রের মাছ দেখলেও এমন অদ্ভুত সুন্দর মাছ সচরাচর চোখে পড়ে না। খবর পেয়ে কৌতূহল থেকেই তারা এটি দেখতে এসেছেন।

সিফাত ফিসের স্বত্বাধিকারী ও মৎস্য ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ ধরনের মাছ সাধারণত এই উপকূলীয় এলাকায় পাওয়া যায় না। সাধারণ বাজারে এর বাণিজ্যিক চাহিদাও নেই। তবে এর অপূর্ব সৌন্দর্যের কারণে মাছটি সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে।’

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘লাইন্ড সার্জনফিশ’-এর বৈজ্ঞানিক নাম অ্যাকানথুরাস লিনিয়েটাস। আন্তর্জাতিকভাবে এটি ‘ব্লু-ব্যান্ডেড সার্জনফিশ’, ‘জেব্রা সার্জনফিশ’ ও ‘স্ট্রাইপড সার্জনফিশ’ নামেও পরিচিত। এরা সাধারণত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের উষ্ণ সামুদ্রিক এলাকার প্রবাল প্রাচীর (কোররাল রিফ) ও পাথুরে এলাকায় বাস করে। এ ধরনের মাছ মূলত সামুদ্রিক শৈবাল খেয়ে বেঁচে থাকে এবং সমুদ্রের বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্য রক্ষায় কাজ করে। এদের লেজের গোড়ায় অত্যন্ত ধারালো একটি কাঁটা থাকে, যা দিয়ে এরা শত্রুর হাত থেকে আত্মরক্ষা করে।

‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের (ডব্লিউসিএস ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে পরিচালিত) গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, ‘এই মাছের লেজের গোড়ার কাঁটাটি বেশ বিপজ্জনক। আত্মরক্ষার সময় এটি দিয়ে আঘাত করলে মানুষের শরীরে তীব্র ও যন্ত্রণাদায়ক ব্যথার সৃষ্টি হতে পারে। বাংলাদেশের সেন্ট মার্টিন ও সুন্দরবন উপকূলসহ বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় মাঝেমধ্যে এদের দেখা মেলে।’

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘আমাদের উপকূলে এই মাছ সচরাচর ধরা না পড়লেও বঙ্গোপসাগরের উষ্ণ পরিবেশে এদের বিচরণ রয়েছে। তবে মাছটির লেজের ধারালো কাঁটার কারণে জেলেদের এটি ধরার সময় সতর্ক থাকা উচিত।’