কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি। চলছে ইলিশের ভরা মৌসুম।এর মধ্যেই লোডশেডিংয়ের কারনে পটুয়াখালীর আলিপুর -মহিপুর মৎস্য বন্দরে দেখা দিয়েছে তীব্র বরফ সংকট।উৎপাদনের তুলনায় চাহিদা অনেক হওয়ায় ১৫০ টাকার বরফের ক্যান বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়। তারপরও পর্যাপ্ত যোগান না থাকায় সমুদ্রে যেতে পারছেন না শত শত মাছ ধরার ট্রলার।
রবিবার(৯ আগস্ট) আলীপুর এবং মহিপুর বন্দর এলাকার বরফকলগুলো ঘুরে দেখা যায়,অধিকাংশ কলগুলোই বন্ধ থাকার কারনে মাছ ধরা ট্রলারগুলো ৪ -৫ দিন ধরে বরফের অপেক্ষায় ঘাটে নোঙর করে আছে। কেউ কেউ বাজার নিয়ে বসে আছে।আবার কোনো ট্রলার বরফ না পেয়ে লোকসানে দিন পার করছে। পর্যাপ্ত বরফ না পাওয়ায় সমুদ্রে মাছ শিকারে যেতে পারছে না শত শত মাছ ধরার ট্রলার। এতে একদিকে যেমন বিপাকে পড়েছেন জেলেরা, অন্যদিকে বাড়ছে ট্রলার মালিকদের লোকসানের আশঙ্কা।
মৎস্য বন্দর আলিপুর ও মহিপুর এলাকায় অন্তত ৩৬ টি বরফকল রয়েছে। এর মধ্যে কোনো কোনো কল প্রতিদিন ২০-২৫ ক্যান, আবার কোনো কোনোটি ২০০ ক্যান পর্যন্ত বরফ উৎপাদন করে। কিন্তু গত ১০ দিন ধরে টানা লোডশেডিংয়ের কারণে শত শত মাছ ধরা ট্রলার পর্যাপ্ত বরফ না পাওয়ায় সমুদ্রে মাছ শিকারে যেতে পারছে না। এতে একদিকে যেমন বিপাকে পড়েছেন জেলেরা, অন্যদিকে বাড়ছে ট্রলার মালিকদের লোকসানের আশঙ্কা।
বরফের জন্য ৪ দিন ধরে অপেক্ষায় থাকা এফবি নিশাত ট্রলারের জেলে শুক্কুর জানান,মাছ ধরতে যাওয়ার জন্য আমাদের ২০০ থেকে ২২০ ক্যান বরফ দরকার। তার প্রেক্ষিতে আমরা ১ ক্যান বরফও পাচ্ছি না।বরফ না পেলে তো সাগরে যেয়ে ফিশিং করতে পারব না। বরফই হচ্ছে আমাদের মাছের প্রান।তাই আমাদের জীবিকা এখন বন্ধের পথে।
একই চিত্র ঘাটে নোঙর করা এফবি, তামান্না,এফবি মা মনি, এফবি কামাল সহ শত শত ট্রলারের। ট্রলারের মাছ সংরক্ষণ এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের জন্য স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত বরফ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ব্যবসায়ীরা খুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালী থেকে অতিরিক্ত দামে বরফ আনছেন।
খান ফিসের আড়তদার রহিম খান বলেন,১৫০ টাকার বরফ কিনতে হচ্ছে ৩০০ টাকা দিয়ে তাও পাওয়া যাচ্ছে না। সিরিয়াল দাড়িয়ে থেকে তারপর নামে মাত্র পাচ্ছি। আলিপুর মহিপুরে তো ভয়াবহ সংকট। তাই বিভিন্ন জায়গা দিয়ে ট্র্যাক ভাড়া করে বরফ আনতে হচ্ছে। যা অত্যন্ত কষ্ট দায়ক।
আলীপুর–মহিপুর মৎস্য আড়ৎদার সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি মো. ফজলু গাজী বলেন, হঠাৎ তীব্র লোডশেডিংয়ের কারনে বরফ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে বেশি দামে বরফ বিক্রি হচ্ছে। এভাবে লোডশেডিং চললে তো কলগুলো একেবারেই বন্ধ হয়ে যাবে।
কল মালিকরা বলছেন প্রতিদিন ১২-১৪ ঘন্টা লোডশেডিং হচ্ছে। যা কখনোই হয়নি এরকম।স্বাভাবিকের তুলনায় উৎপাদন কমে যাওয়ায় চাহিদার সঙ্গে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের ঘাটতি। ফলে বাড়ছে বরফের দামও। বার বার লোডশেডিং সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বরফকলগুলোর।
মহিপুর মৎস্য সমিতির নেতা গাজী মো মজনু বলেন, বরফ উৎপাদনের জন্য টানা ১৫-১৬ ঘন্টা বিদ্যুৎ দরকার। তবে মাত্র ১ ঘন্টা বিদ্যুৎ পেলে বাকি ৪ ঘন্টাই বিদ্যুৎ হীন থাকা লাগে এতে করে বার বার লোডশেডিং বরফ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না।তাই মৎস্য বন্দর সহ জেলেদের টিকিয়ে রাখতে মৎস্য বন্দর সহ কুয়াকাটাতে আলাদাভাবে বিদ্যুৎ বরাদ্দ রাখতে হবে।অন্যথায় ধ্বংস হয়ে যাবে এ ব্যবসা।
লোডশেডিংয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে পটুয়াখালী পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির জিএম আবুল কাশেম বলেন, জ্বালানী সংকটের কারনে বর্তমানে লোডশেডিং বিদ্যমান রয়েছে। জেলার মোট বিদ্যুতের চাহিদা বর্তমানে ১৩০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৮৫ মেগাওয়াট। ফলে ৪৫ মেগাওয়াট ঘাটতি থাকায় চাহিদার মাত্র ৫২ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে এবং বাকি ৪৮ শতাংশ ঘাটতির কারণে নিয়মিত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তবে জ্বালনী সংকট কেটে গেলে পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য বন্ধ থাকা পাওয়ার প্লান্ট গুলো চালু হলে লোডশেডিংয়ের সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।
মেঘনার তীর 












