নোয়াখালী প্রতিনিধি:নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় বিদেশ ফেরত ভগ্নিপতিকে এগিয়ে আসতে যাওয়ার সময় প্রাণ হারালেন সহোদর দুই ভাই। শনিবার রাতে সেনবাগ-সোনাইমুড়ী আঞ্চলিক সড়কে দ্রুতগতির মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গর্তে পড়ে তাদের মৃত্যু হয় বলে জনিয়েছেন সেনবাগ থানার ওসি আবদুর রহিম সরকার।
এ সময় গুরুতর আহত হয়েছে তাদের এক চাচাতো ভাই। নিহতরা হলেন সেনবাগের ডমুরুয়া গ্রামের মুসলিম স্বর্ণকার বাড়ির মোঃ আলাউদ্দিনের ছেলে দুই ছেলে আরিফ হোসেন (২৫) ও আশিক হোসেন (২২)। আহত মো. শাওন (২৫) একই বাড়ির মোঃ শাহজাহানের ছেলে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আরিফ, আশিক দুই ভাই এবং তাদের চাচাতো ভাই শাওন তাদের বিদেশ ফেরত ভগ্নিপতিকে ছাতারপাইয়া রাস্তার মাথা থেকে এগিয়ে আনতে একটি মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন। পথে কেশারপাড় রাস্তার মাথা এলাকায় সড়কের কাজ চলছিল। যার কারণে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলটি হঠাৎ ডানদিক দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় একই দিক দিয়ে আসা একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশার সাথে ধাক্কা লেগে মোটরসাইকেলটি সড়কের গর্তে পড়ে উল্টে যায় এবং অটোরিকশাটি পাশে খালে পড়ে যায়। এ সময় সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন আরিফ, আশিক ও শাওন। ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক আরিফ ও তার ভাই আশিককে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া গুরুতর আহত মো. শাওনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রাতে দুই ভাইয়ের মরদেহ বাড়িতে নেওয়া হলে স্বজনদের আহাজারিতে পারিবশে ভারি হয়ে উঠে। আরিফ ও আশিকের একমাত্র বোন সীমা আক্তার আহাজারি করে বলেন, আমাদের আর কেউ রইলো না। আমার বাবা-মা এই শোকে মারা যাবেন।আরিফ ও আশিকের বাবা আলাউদ্দিন, আমার ছেলেরা কৈ। আমাকে কে খাওয়াবে। আমি কি নিয়ে বাঁচবে।
আরিফ ও আশিকের চাচা মো: মিজান জানান, তাদের বাবা আলাউদ্দিন পেশায় অটোরিকশা চালক। আরিফ ও আশিকও অটোরিকশা চালাতেন। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ঘর করেছে অসহায় পরিবারটি। স্থানীয় বিএনপি নেতা মিয়া মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, আরিফ ও আশিক শ্রমিক দল করতেন। তাদের এমন করুণ মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মেঘনার তীর 



















