ঢাকা ০১:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চাঁদার টাকার জন্য দোকানে ও ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়ার চেষ্টা, তিন ব্যবসায়ী আহত লক্ষ্মীপুরে নকল ঘির ডিলারকে লাখ টাকা জরিমানা : ৩৫০ কেজি ঘি ধ্বংস লক্ষ্মীপুরে সাংবাদিককে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় ৬জনকে আসামী করে থানায় মামলা, দুই মামলায় গ্রেফতার সন্ত্রাসী সাকিব  দীপ্ত টিভির সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলমকে গুলি, অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা, বাহিনী প্রধান সাকিবকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্মীপুরে পানিতে ডুবে একই পরিবারের তিনজন নিহত রায়পুরে মাদকাসক্ত যুবকের দেয়া আগুনে পুড়ে গেছে ১১টি বসতঘরসহ৬ দোকান,অভিযুক্তকে গনপিটুনি উৎসাহ-উদ্দীপনায় শ্রী কৃষ্ণের জন্মতিথি জন্মাষ্টমী উদযাপিত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয় দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ :স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জাতীয়তাবাদের নতুন রাজনীতি সৃষ্টি করেছেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান: পানিসম্পদমন্ত্রী

রামগঞ্জে নির্যাতনে গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ, লাশ মর্গে রেখে পালালেন স্বামী, এলাকায় ক্ষোভ

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ০২:৪৭:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
  • 64

স্টাফ রিপোর্টার: লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে সামিয়া আক্তার (২৭) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মৃত্যুর পর তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রেখে অভিযুক্ত স্বামী হাফিজ মোল্লা পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভোররাতে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সামিয়া আক্তারের মৃত্যু হয়। নিহত সামিয়া লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর ভাদুর ইউনিয়নের জয়নগর বাড়ির দেলোয়ার হোসেন বতার বড় মেয়ে। অপরদিকে অভিযুক্ত হাফিজ মোল্লা একই এলাকার উত্তর গ্রাম মাইজের বাড়ির সিরাজ মোল্লার ছেলে। প্রায় ১২ বছর আগে সামিয়াকে বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন হাফিজ মোল্লা। তবে বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ লেগে ছিল। সামিয়া ছাড়াও হাফিজের আরও দুই স্ত্রী রয়েছে।

‎স্থানীয়দের দাবি, হাফিজ মোল্লা এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় নারীদের উত্যক্ত করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ৬ জুন হাফিজ মোল্লা তার বোন সামিয়াকে মারধর ও নির্যাতন করে গুরুতর আহত করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে সামিয়াকে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে টানা ৯ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর গ্রেপ্তার এড়াতে অভিযুক্ত হাফিজ মোল্লা হাসপাতালের মর্গে মরদেহ রেখে কৌশলে পালিয়ে যান। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানাকে অবহিত করলে পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। সামিয়ার মরদেহ তার বাবার বাড়ি ভাদুর ইউনিয়নের জয়নগর এলাকায় পৌঁছালে শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো এলাকায়। এ সময় অভিযুক্ত হাফিজ মোল্লার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।

‎নিহতের বাবা দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমার মেয়েটা খুব ভালো ছিল। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই হাফিজ তার ওপর নানাভাবে নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। এ ঘটনায় রামগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

‎এ বিষয়ে রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে আগে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। সুরতহাল রিপোর্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে। নথিপত্র হাতে পাওয়ার পর তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদার টাকার জন্য দোকানে ও ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়ার চেষ্টা, তিন ব্যবসায়ী আহত

রামগঞ্জে নির্যাতনে গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ, লাশ মর্গে রেখে পালালেন স্বামী, এলাকায় ক্ষোভ

আডেট সময় ০২:৪৭:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে সামিয়া আক্তার (২৭) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মৃত্যুর পর তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রেখে অভিযুক্ত স্বামী হাফিজ মোল্লা পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভোররাতে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সামিয়া আক্তারের মৃত্যু হয়। নিহত সামিয়া লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর ভাদুর ইউনিয়নের জয়নগর বাড়ির দেলোয়ার হোসেন বতার বড় মেয়ে। অপরদিকে অভিযুক্ত হাফিজ মোল্লা একই এলাকার উত্তর গ্রাম মাইজের বাড়ির সিরাজ মোল্লার ছেলে। প্রায় ১২ বছর আগে সামিয়াকে বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন হাফিজ মোল্লা। তবে বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ লেগে ছিল। সামিয়া ছাড়াও হাফিজের আরও দুই স্ত্রী রয়েছে।

‎স্থানীয়দের দাবি, হাফিজ মোল্লা এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় নারীদের উত্যক্ত করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ৬ জুন হাফিজ মোল্লা তার বোন সামিয়াকে মারধর ও নির্যাতন করে গুরুতর আহত করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে সামিয়াকে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে টানা ৯ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর গ্রেপ্তার এড়াতে অভিযুক্ত হাফিজ মোল্লা হাসপাতালের মর্গে মরদেহ রেখে কৌশলে পালিয়ে যান। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানাকে অবহিত করলে পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। সামিয়ার মরদেহ তার বাবার বাড়ি ভাদুর ইউনিয়নের জয়নগর এলাকায় পৌঁছালে শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো এলাকায়। এ সময় অভিযুক্ত হাফিজ মোল্লার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।

‎নিহতের বাবা দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমার মেয়েটা খুব ভালো ছিল। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই হাফিজ তার ওপর নানাভাবে নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। এ ঘটনায় রামগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

‎এ বিষয়ে রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে আগে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। সুরতহাল রিপোর্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে। নথিপত্র হাতে পাওয়ার পর তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।