রামগতি (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর পোড়াগাছা ইউনিয়নের (৬নম্বর) ওয়ার্ডে গুচ্ছগ্রাম এলাকায় জোরপূর্বক গভীর রাতে মৃত রছিয়া বেগমের বাড়ির দখল করে অবৈধভাবে ঘর তোলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার ভাতিজা খান সাবের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১২ মে) রাত তিনটার দিকে গুচগ্রাম এলাকার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পৌঁছে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে খানসাব তার লোকজন নিয়ে সটকে পড়েন। পরে পুলিশ ঘর নির্মান সামগ্রী ও বলিট্রাকসহ মালামাল স্থানীয় গুচ্ছগ্রাম বাজার উন্নয়ন কমিটির সেক্রেটারী মোঃ সাগরসহ স্থানীয়রা দায়িত্ব নিয়ে বিষয়টি মিমাংসা করবেন বলায় তাদের জিম্মায় রেখে যান।
উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের চরলক্ষ্মী গ্রামের দুলালের ছেলে খানসাব প্রায় বিশ কিলোমিটার দুর থেকে মালামাল বোঝাই বলিট্রাক নিয়ে ফুফুর বাড়িতে যান জায়গা দখল করে ঘর নির্মানের জন্য। উপজেলা ভুমি অফিস ও আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন থাকার পরেও খান সাব আইন ভঙ্গ করে লোকজন নিয়ে জায়গা দখল করে ঘর তোলার চেষ্টা করেন। তদন্ত প্রতিবেদন সূত্র ও রছিয়ার ছেলে মোঃ বাবরের কাছথেকে জানা যায়, আরএস জরিপের ১৩৪৩ খতিয়ানের রেকর্ড মুলে ২২ শতক জমির মালিক রেজিয়া বেগম। তিনি ২০০৯ সালে তার মেয়ে রছিয়া বেগমকে ৩১২৫ নম্বর দলিল মুলে হেবা দলিল দেন। রেজিয়ার মৃত্যুর পর তার অপর ওয়ারিশদের নিকট হতে ২২ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে ২১২ এবং ২০ মে ২০২৫ তারিখে ১৪০৮ নম্বর দলিল মুলে মোট ১৮ শতক জমির খান সাবের পিতা মোঃ দুলাল তার নিজ নামে দলিল সৃজন করেন। রছিয়ার মৃত্যুর পর তার ছেলে মোঃ বাবর তাদের অপর ওয়ারিশগনে পক্ষে জমাখারিজ খতিয়ান করাতে গিয়ে দেখেন তার মায়ের নামে কিছু অংশ বাদে বাকি জমি কর্তন হয়ে অন্য খতিয়ানে বাবরের মামা দুলালের নামে চলে গেছে। পরে তিনি সহকারী কমিশনার ভুমি (এ্যসিল্যান্ড) বরাবরে রেকর্ড সংশোধনের আবেদন করেন। এ্যসিল্যান্ড চরবাদাম ইউনিয়ন ভুমি সহকারী কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল আদেশ দেন।
তদন্ত শেষে প্রতিবেদনে ভুমি সহকারী কর্মকর্তা আলী হোসেন সিরাজী উল্লেখ করেন বিবাদী দুলাল বোন রছিয়ার মৃত্যুর ১৬ বছর পর অপর ভাই বোনদের অংশ নিজ নামে ১৫.৭১ শতক জমির দলিল সৃজন করেন এবং তা পরবর্তীতে নামজারি খতিয়ান সৃজন করেন। কোন অবস্থায় তিনি জমাখারিজ করতে পারেন না, উক্ত জমি রছিয়ার ওয়ারিশগন ভোগদখলে আছেন, বিবাদী দুলালের ওয়ারিশগন ভোগদখল নাই। বিষয়টি জানতে খানসাবের মুঠোফোন একাধিক বার কল করেও তাকে পাওয়া যায় নি। গুচ্ছগ্রাম বাজার উন্নয়ন কমিটির সেক্রেটারী মোঃ সাগর জানা মঙ্গলবার রাত তিনটার দিকে রামগতি থানা টহলদলের পুলিশ তাকে ও স্থানীয় গন্যমান্য কয়েকজনে নিকট একটি বলিট্রাক ও ঘর নির্মানের কিছু সামগ্রী তাদের হেফাজতে রেখে যান। ফয়সালা সাপেক্ষে ওসব মালামাল হস্তান্তর করবেন।
রামগতি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান জানান জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ তথ্যের ভিত্তিতে গুচ্ছগ্রাম এলাকার বাবরের বাড়ি থেকে পুলিশ পাঠিয়ে বলিট্রাক ও ঘর নির্মানের কিছু সামগ্রী উদ্ধার করে স্থানীয় গন্যমান্যদের হেফাজতে রাখা হয়েছে। বিরোধ মিমাংসা করবেন বলে তারা দায়িত্ব নিয়েছেন। মিমাংসা সাপেক্ষে মালামাল তাদের হেফাজতে থাকবে।
মেঘনার তীর 



















