ঢাকা ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চাঁদার টাকার জন্য দোকানে ও ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়ার চেষ্টা, তিন ব্যবসায়ী আহত লক্ষ্মীপুরে নকল ঘির ডিলারকে লাখ টাকা জরিমানা : ৩৫০ কেজি ঘি ধ্বংস লক্ষ্মীপুরে সাংবাদিককে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় ৬জনকে আসামী করে থানায় মামলা, দুই মামলায় গ্রেফতার সন্ত্রাসী সাকিব  দীপ্ত টিভির সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলমকে গুলি, অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা, বাহিনী প্রধান সাকিবকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্মীপুরে পানিতে ডুবে একই পরিবারের তিনজন নিহত রায়পুরে মাদকাসক্ত যুবকের দেয়া আগুনে পুড়ে গেছে ১১টি বসতঘরসহ৬ দোকান,অভিযুক্তকে গনপিটুনি উৎসাহ-উদ্দীপনায় শ্রী কৃষ্ণের জন্মতিথি জন্মাষ্টমী উদযাপিত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয় দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ :স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জাতীয়তাবাদের নতুন রাজনীতি সৃষ্টি করেছেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান: পানিসম্পদমন্ত্রী

রামগতি-বয়ারচর সড়ক ধসে পড়ে যোগাযোগ বন্ধ

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ১০:৪৮:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • 36

স্টাফ রিপোর্টার: লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের বোবারপুল সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ধসে খালে পড়েছে। ৮দিনপেরিয়ে গেলেও সড়কটি সংস্কারে দৃশ্যমান কোনো কাজ শুরু না হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন বয়ারচরসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষ। দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।  গত বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই সকালে সেতুর দু-পাশের সংযোগ সড়ক ধসে পড়ে যায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, টানা বৃষ্টি ও মেঘনা নদীর জোয়ারের পানির প্রবল স্রোতে ৮দিন আগে রামগতি-বয়ারচর সড়কের তেগাছিয়া বাজারের পূর্ব পাশে মোহাম্মদপুর মোল্লার খালের ওপর নির্মিত বোবারপুল সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ধসে খালে পড়ে। এরপর থেকে ওই সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এদিকে সড়কের ব্রিজঘাট এলাকার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের সামনের সেতুর পূর্ব পাশের অংশও ধসে পড়েছে। এতে সড়কটি দিয়ে চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

রামগতি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালে রামগতি বাজার থেকে বয়ারচরের টাংকির বাজার পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি পাকা করা হয়। পরে ২০১৮ সালে সড়কটি দ্বিতীয় দফায় সংস্কার করা হয়। বর্তমানে সড়কের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় বাকি অংশও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ধসে পড়ায় এলাকাটির যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয়রা সেতুর দুই পাশে গাছের ডাল বসিয়ে সতর্কতার ব্যবস্থা করেছেন। সড়কের দুই পাশে বড় বড় ফাটল দেখা গেছে। বৃষ্টি ও জোয়ারের পানির স্রোত অব্যাহত থাকলে সড়কের আরও অংশ ধসে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

প্রধান সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় এলাকার কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরা নিয়মিত যাতায়াতে সমস্যায় পড়েছে। একই সঙ্গে অসুস্থ রোগী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, এই সড়ক ব্যবহার করে তারা প্রতিদিন ব্রিজঘাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, মোহাম্মদপুর তেগাছিয়া বাজার, চৌরাস্তা বাজার, টাংকি বাজার, হাতিয়াবাজার এবং রামগতি উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করতেন। সড়কটি দিয়ে নিয়মিত মালবাহী ট্রাক, পিকআপ, সিএনজি ও মোটরসাইকেল চলাচল করত। তবে সড়কটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় বিকল্প পথ না থাকায় মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান, নিজাম উদ্দিন, আবদুস সালাম ও বেলাল হোসেন বলেন, টানা বৃষ্টি ও মেঘনার অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে রামগতি-বয়ারচর প্রধান সড়কের দুই পাশ ভেঙে গেছে। এতে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং আশপাশের কয়েকটি গ্রামের সঙ্গে উপজেলা ও জেলা সদরের যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানান।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শেখ ফরিদ বলেন, ৮দিন ধরে বয়ারচর এলাকার মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। নিরুপায় হয়ে তিনি নিজ উদ্যোগে গাছপালা দিয়ে অস্থায়ীভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছেন।

রামগতি উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী স্নেহাল রায় বলেন, মেঘনার জোয়ারের স্রোত ও টানা বৃষ্টির কারণে সড়কটি ধসে পড়েছে। খবর পাওয়ার পর স্থানীয় ইউপি সদস্যের সহায়তায় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, সড়কটি দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদার টাকার জন্য দোকানে ও ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়ার চেষ্টা, তিন ব্যবসায়ী আহত

রামগতি-বয়ারচর সড়ক ধসে পড়ে যোগাযোগ বন্ধ

আডেট সময় ১০:৪৮:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের বোবারপুল সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ধসে খালে পড়েছে। ৮দিনপেরিয়ে গেলেও সড়কটি সংস্কারে দৃশ্যমান কোনো কাজ শুরু না হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন বয়ারচরসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষ। দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।  গত বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই সকালে সেতুর দু-পাশের সংযোগ সড়ক ধসে পড়ে যায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, টানা বৃষ্টি ও মেঘনা নদীর জোয়ারের পানির প্রবল স্রোতে ৮দিন আগে রামগতি-বয়ারচর সড়কের তেগাছিয়া বাজারের পূর্ব পাশে মোহাম্মদপুর মোল্লার খালের ওপর নির্মিত বোবারপুল সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ধসে খালে পড়ে। এরপর থেকে ওই সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এদিকে সড়কের ব্রিজঘাট এলাকার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের সামনের সেতুর পূর্ব পাশের অংশও ধসে পড়েছে। এতে সড়কটি দিয়ে চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

রামগতি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালে রামগতি বাজার থেকে বয়ারচরের টাংকির বাজার পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি পাকা করা হয়। পরে ২০১৮ সালে সড়কটি দ্বিতীয় দফায় সংস্কার করা হয়। বর্তমানে সড়কের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় বাকি অংশও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ধসে পড়ায় এলাকাটির যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয়রা সেতুর দুই পাশে গাছের ডাল বসিয়ে সতর্কতার ব্যবস্থা করেছেন। সড়কের দুই পাশে বড় বড় ফাটল দেখা গেছে। বৃষ্টি ও জোয়ারের পানির স্রোত অব্যাহত থাকলে সড়কের আরও অংশ ধসে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

প্রধান সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় এলাকার কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরা নিয়মিত যাতায়াতে সমস্যায় পড়েছে। একই সঙ্গে অসুস্থ রোগী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, এই সড়ক ব্যবহার করে তারা প্রতিদিন ব্রিজঘাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, মোহাম্মদপুর তেগাছিয়া বাজার, চৌরাস্তা বাজার, টাংকি বাজার, হাতিয়াবাজার এবং রামগতি উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করতেন। সড়কটি দিয়ে নিয়মিত মালবাহী ট্রাক, পিকআপ, সিএনজি ও মোটরসাইকেল চলাচল করত। তবে সড়কটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় বিকল্প পথ না থাকায় মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান, নিজাম উদ্দিন, আবদুস সালাম ও বেলাল হোসেন বলেন, টানা বৃষ্টি ও মেঘনার অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে রামগতি-বয়ারচর প্রধান সড়কের দুই পাশ ভেঙে গেছে। এতে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং আশপাশের কয়েকটি গ্রামের সঙ্গে উপজেলা ও জেলা সদরের যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানান।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শেখ ফরিদ বলেন, ৮দিন ধরে বয়ারচর এলাকার মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। নিরুপায় হয়ে তিনি নিজ উদ্যোগে গাছপালা দিয়ে অস্থায়ীভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছেন।

রামগতি উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী স্নেহাল রায় বলেন, মেঘনার জোয়ারের স্রোত ও টানা বৃষ্টির কারণে সড়কটি ধসে পড়েছে। খবর পাওয়ার পর স্থানীয় ইউপি সদস্যের সহায়তায় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, সড়কটি দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।