ঢাকা ১২:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টার্গেট কিলিংয় আতঙ্ক: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কোথায়, বিচারহীনতার দায় কার ? কমলনগরে স্ত্রীর ভিডিও প্রকাশ নিয়ে বিরোধ, কিল-ঘুষি দিয়ে বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগ রুমিনের অভিযোগ নিয়ে যা বলেন ওসি মনজুর কাদের, আগের স্টেশনের কান্ডকীর্তি ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি,যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন আন্দোলনের হুংকার দিবেন না, হুংকার দিয়ে লাভ নেই,রাজপথ থেকে উঠা আসা দল বিএনপি: পানি সম্পদমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি লক্ষ্মীপুরে সারের ৫৭ ডিলারের ৪৫ জনই বিএনপি নেতা-কর্মী, বাদ পড়লেন পুরোনো ব্যবসায়ীরা লং মার্চ-রোড মার্চ করে সমাজে অশান্তির চেষ্টা করবেন, সেটা হতে দেয়া হবেনা: পানি সম্পদমন্ত্রী কাঁচাবাজারে আগুন: ‘জীবন এখন এক তরকারিতেই সীমাবদ্ধ, একাধিক কেনার সামর্থ্য নাই’ বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে এক পা হারায়: রায়পুরে দৃষ্টি প্রতিবন্ধি -বধির আবদুল মান্নানের মাতবেতর জীবন-যাপন

রামগতি-বয়ারচর সড়ক ধসে পড়ে যোগাযোগ বন্ধ

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ১০:৪৮:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • 99

স্টাফ রিপোর্টার: লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের বোবারপুল সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ধসে খালে পড়েছে। ৮দিনপেরিয়ে গেলেও সড়কটি সংস্কারে দৃশ্যমান কোনো কাজ শুরু না হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন বয়ারচরসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষ। দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।  গত বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই সকালে সেতুর দু-পাশের সংযোগ সড়ক ধসে পড়ে যায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, টানা বৃষ্টি ও মেঘনা নদীর জোয়ারের পানির প্রবল স্রোতে ৮দিন আগে রামগতি-বয়ারচর সড়কের তেগাছিয়া বাজারের পূর্ব পাশে মোহাম্মদপুর মোল্লার খালের ওপর নির্মিত বোবারপুল সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ধসে খালে পড়ে। এরপর থেকে ওই সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এদিকে সড়কের ব্রিজঘাট এলাকার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের সামনের সেতুর পূর্ব পাশের অংশও ধসে পড়েছে। এতে সড়কটি দিয়ে চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

রামগতি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালে রামগতি বাজার থেকে বয়ারচরের টাংকির বাজার পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি পাকা করা হয়। পরে ২০১৮ সালে সড়কটি দ্বিতীয় দফায় সংস্কার করা হয়। বর্তমানে সড়কের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় বাকি অংশও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ধসে পড়ায় এলাকাটির যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয়রা সেতুর দুই পাশে গাছের ডাল বসিয়ে সতর্কতার ব্যবস্থা করেছেন। সড়কের দুই পাশে বড় বড় ফাটল দেখা গেছে। বৃষ্টি ও জোয়ারের পানির স্রোত অব্যাহত থাকলে সড়কের আরও অংশ ধসে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

প্রধান সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় এলাকার কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরা নিয়মিত যাতায়াতে সমস্যায় পড়েছে। একই সঙ্গে অসুস্থ রোগী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, এই সড়ক ব্যবহার করে তারা প্রতিদিন ব্রিজঘাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, মোহাম্মদপুর তেগাছিয়া বাজার, চৌরাস্তা বাজার, টাংকি বাজার, হাতিয়াবাজার এবং রামগতি উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করতেন। সড়কটি দিয়ে নিয়মিত মালবাহী ট্রাক, পিকআপ, সিএনজি ও মোটরসাইকেল চলাচল করত। তবে সড়কটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় বিকল্প পথ না থাকায় মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান, নিজাম উদ্দিন, আবদুস সালাম ও বেলাল হোসেন বলেন, টানা বৃষ্টি ও মেঘনার অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে রামগতি-বয়ারচর প্রধান সড়কের দুই পাশ ভেঙে গেছে। এতে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং আশপাশের কয়েকটি গ্রামের সঙ্গে উপজেলা ও জেলা সদরের যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানান।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শেখ ফরিদ বলেন, ৮দিন ধরে বয়ারচর এলাকার মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। নিরুপায় হয়ে তিনি নিজ উদ্যোগে গাছপালা দিয়ে অস্থায়ীভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছেন।

রামগতি উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী স্নেহাল রায় বলেন, মেঘনার জোয়ারের স্রোত ও টানা বৃষ্টির কারণে সড়কটি ধসে পড়েছে। খবর পাওয়ার পর স্থানীয় ইউপি সদস্যের সহায়তায় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, সড়কটি দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

টার্গেট কিলিংয় আতঙ্ক: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কোথায়, বিচারহীনতার দায় কার ?

রামগতি-বয়ারচর সড়ক ধসে পড়ে যোগাযোগ বন্ধ

আডেট সময় ১০:৪৮:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের বোবারপুল সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ধসে খালে পড়েছে। ৮দিনপেরিয়ে গেলেও সড়কটি সংস্কারে দৃশ্যমান কোনো কাজ শুরু না হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন বয়ারচরসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষ। দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।  গত বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই সকালে সেতুর দু-পাশের সংযোগ সড়ক ধসে পড়ে যায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, টানা বৃষ্টি ও মেঘনা নদীর জোয়ারের পানির প্রবল স্রোতে ৮দিন আগে রামগতি-বয়ারচর সড়কের তেগাছিয়া বাজারের পূর্ব পাশে মোহাম্মদপুর মোল্লার খালের ওপর নির্মিত বোবারপুল সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ধসে খালে পড়ে। এরপর থেকে ওই সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এদিকে সড়কের ব্রিজঘাট এলাকার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের সামনের সেতুর পূর্ব পাশের অংশও ধসে পড়েছে। এতে সড়কটি দিয়ে চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

রামগতি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালে রামগতি বাজার থেকে বয়ারচরের টাংকির বাজার পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি পাকা করা হয়। পরে ২০১৮ সালে সড়কটি দ্বিতীয় দফায় সংস্কার করা হয়। বর্তমানে সড়কের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় বাকি অংশও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ধসে পড়ায় এলাকাটির যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয়রা সেতুর দুই পাশে গাছের ডাল বসিয়ে সতর্কতার ব্যবস্থা করেছেন। সড়কের দুই পাশে বড় বড় ফাটল দেখা গেছে। বৃষ্টি ও জোয়ারের পানির স্রোত অব্যাহত থাকলে সড়কের আরও অংশ ধসে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

প্রধান সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় এলাকার কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরা নিয়মিত যাতায়াতে সমস্যায় পড়েছে। একই সঙ্গে অসুস্থ রোগী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, এই সড়ক ব্যবহার করে তারা প্রতিদিন ব্রিজঘাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, মোহাম্মদপুর তেগাছিয়া বাজার, চৌরাস্তা বাজার, টাংকি বাজার, হাতিয়াবাজার এবং রামগতি উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করতেন। সড়কটি দিয়ে নিয়মিত মালবাহী ট্রাক, পিকআপ, সিএনজি ও মোটরসাইকেল চলাচল করত। তবে সড়কটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় বিকল্প পথ না থাকায় মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান, নিজাম উদ্দিন, আবদুস সালাম ও বেলাল হোসেন বলেন, টানা বৃষ্টি ও মেঘনার অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে রামগতি-বয়ারচর প্রধান সড়কের দুই পাশ ভেঙে গেছে। এতে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং আশপাশের কয়েকটি গ্রামের সঙ্গে উপজেলা ও জেলা সদরের যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানান।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শেখ ফরিদ বলেন, ৮দিন ধরে বয়ারচর এলাকার মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। নিরুপায় হয়ে তিনি নিজ উদ্যোগে গাছপালা দিয়ে অস্থায়ীভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছেন।

রামগতি উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী স্নেহাল রায় বলেন, মেঘনার জোয়ারের স্রোত ও টানা বৃষ্টির কারণে সড়কটি ধসে পড়েছে। খবর পাওয়ার পর স্থানীয় ইউপি সদস্যের সহায়তায় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, সড়কটি দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।