ঢাকা ০৭:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তরুণ সমাজকে মোবাইল ও মাদকের ভয়াবহ আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী সেবার মান বাড়াতে ৫০ শয্যায় হাসপাতালকে ১০১ করতে খুব শিগগির দরপত্র আহ্বান করা হবে:স্বাস্থ্যমন্ত্রী লক্ষ্মীপুর ক্লাব লিমিটেডের তিন যুগ পুর্তি উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও গুণীজন সন্মাননা নেতৃত্বের কারণে আমরা অনেক পিছিয়ে গিয়েছি: পানিসম্পদ মন্ত্রী জিয়াউর রহমানের মতো সৎ ব্যক্তি বাংলাদেশের ইতিহাসে আর সৃষ্টি হয়নি: জেলা যুবদল সভাপতি ২০২৭ সালে ৩১ কোটি নতুন বই বিতরণ ও ইতিহাস বিকৃতি রোধের ঘোষণা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী মেয়েটি নিজেই এমপি গাজী নজরুলকে সেবা করতে চেয়েছিল: দাবি জামায়াতের এমপির কার্ডের খেলা না খেলে মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করুণ: নাহিদ ইসলাম রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলেন স্পিকার রায়পুরে খাল খনন শেষে অব্যয়িত ৬৫ লাখ টাকা ফেরত

রায়পুরে চার কোটি টাকার অপরিকল্পিত খাল খননে রাস্তায় ধস, দুর্ভোগে মানুষ

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ১১:২৮:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
  • 79

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি: গত ২৫ এপ্রিল লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার চরবংশী প চরমোহনা ইউনিয়নের (পি-২, বিপি-৮, বিপি-১৭) খালের ভুইয়াগো রাস্তার মাথা (ঢালী মসজিদ) থেকে পর্যন্ত প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যায়ে মোট ১৬ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ করছে পিআইও অফিস। অপরিকল্পিতভাবে খাল খনন করায় চরমোহনা ইউপির ঠাউদ্ধার পুল ও বাঁশতলা এলাকায় খালের দুই পাড়সহ পাকা রাস্তা ভেঙে পড়েছে। এতে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে মানুষ। স্থানীয় কয়েক ব্যাক্তি রাস্তা ভাঙ্গার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় (পিআইও) সূত্রে জানাযায়, ৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ে চলতি বছরের মে মাসে খালটির ১৬ দশমিক ৪৩৯ মিটার পুনঃখননের কাজ শুরু করা হয়। কাজটি করছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়। ভরাট হয়ে যাওয়া খালে পানিপ্রবাহের সৃষ্টি ও খেতে সেচ দেওয়ার জন্য এই উদ্যোগ নেয় প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়।

রোববার সরেজমিনে দেখা গেছে, চরমোহনা ইউনিয়নে কৃষিকাজে সেচসুবিধার জন্য পৃথক খাল পুনঃখনন করে ডাকাতিয়া নদীর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী খালের উপরিভাগে ৪০ থেকে ৫০ ফুট এবং তলদেশ ১০ ফুট চওড়া করে খনন করা কথা।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, দরপত্রের নির্দেশ না মেনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে খালের উপরিভাগ ১৫ থেকে ১৬ ফুট এবং তলদেশ ১৪ থেকে ১৬ ফুট চওড়া করে কেটেছে। ডাকাতিয়া নদী সংলগ্ন কাছাকাছি এলাকায় খালের মতো করে না কেটে সরু আকারে কাটা হয়েছে। এতে নদীর পানি খালে ঢুকতে পারছে না। অনেক স্থানে ঢালু না করে খাড়াভাবে খাল খনন করা হয়েছে। এতে এসব স্থানে দুই পাড়ের মাটি ধসে পড়ে বসতভিটা হুমকির মুখে পড়েছে, ভেঙে গেছে ইউনিয়নের পাকা রাস্তা।

চরমোহনা গ্রামের আবদুল গফুর ও সিরাজ মাষ্টারসহ অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, খালের পাড় খাড়াখাড়িভাবে কাটায় পাশের বিভিন্ন স্থাপনাসহ ইউপির রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অটো চালক মোঃ সোলায়মান ও গফুর আলী জানান, এক পাশ ভেঙে যাওয়ায় রাতে ওই রাস্তা দিয়ে অটোরিকশা চালানো যায় না। অনেক সময় অন্য অটোরিকশা পাশ দিতে গেলে খাদে পড়ে যেতে হয়। এক সপ্তাহ আগে খাদে পড়ে গিয়ে গ্রামের রুবেল হোসেন নামের এক শিশুর পা ভেঙে গেছে, বৃদ্ধ আঘাত পায়।

দক্ষিন রায়পুর গ্রামের মালেক ফিরোজ ও মোঃ সুজন বলেন, অপরিকল্পিতভাবে খাল কাটার জন্য গ্রামের অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমার প্রায় ৫ শতাংশ জমি এবং ৫০ হাজার টাকা দামের গাছ খালে কাটা পড়েছে। আমাদের মতো গ্রামের ৩০ থেকে ৩৫ জন বাসিন্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

খাল খননে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় এক ঠিকাদার বলেন, ‘দীর্ঘ ৪০ থেকে ৪৫ বছর সংস্কার না করায় খালের বেশির ভাগ অংশ ভরাটসহ বেদখল হয়ে বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে উঠেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ইউএনও অফিসের কর্মকর্তাদের মেপে দেওয়া জায়গায় খাল খননের কাজ করছে।’

প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিতে থাকা (তিনটি পিআইসির দায়িত্বে থাকা) চরমোহনা ইউপির মেম্বার মোঃ ইউসুফ, হাসিনা বেগম ও সুমন হোসেন দাবি করেন, ‘খাল কাটতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।’ তারপরেও যেন কাজ ভাল হয়, সেটাই চেষ্টা করছি।।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী আবদুল হাই খান বলেন, প্রায় চার যুগ ভরাট খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়ায় এলাকাবাসীর বাধার সম্মুখীন হতে হয়। কাজ করতে সমস্যা হয়। এখন কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট সহ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টি কিছুটা কমলে রাস্তাগুলো মেরামত করে দেওয়া হবে।

চরমোহনা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক
(পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা) মোহাম্মদ আবদুস সাত্তার জানান, খাল খননের পর টানা বৃষ্টিতে কিছু এলাকার পাকা সড়ক ভেঙে পড়েছে। ভেঙে যাওয়া কয়েকটি রাস্তা মেরামতের জন্য ইউএনও ও পিআইওকে জানানো হয়েছে।

রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, তিনি এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবেন।

উল্লেখ্য-গত ৯ জুন রায়পুর-খাসেরহাট সড়কের চরবংশী স্টীল ব্রিজ সংলগ্ন দুই কিলোমিটার ডাকাতিয়া নদীর সংযোগ খালে গড়ে ওঠা ৩টি ব্রীজসহ ৬১টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, গ্রাম পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান কাউছার।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

তরুণ সমাজকে মোবাইল ও মাদকের ভয়াবহ আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী

রায়পুরে চার কোটি টাকার অপরিকল্পিত খাল খননে রাস্তায় ধস, দুর্ভোগে মানুষ

আডেট সময় ১১:২৮:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি: গত ২৫ এপ্রিল লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার চরবংশী প চরমোহনা ইউনিয়নের (পি-২, বিপি-৮, বিপি-১৭) খালের ভুইয়াগো রাস্তার মাথা (ঢালী মসজিদ) থেকে পর্যন্ত প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যায়ে মোট ১৬ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ করছে পিআইও অফিস। অপরিকল্পিতভাবে খাল খনন করায় চরমোহনা ইউপির ঠাউদ্ধার পুল ও বাঁশতলা এলাকায় খালের দুই পাড়সহ পাকা রাস্তা ভেঙে পড়েছে। এতে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে মানুষ। স্থানীয় কয়েক ব্যাক্তি রাস্তা ভাঙ্গার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় (পিআইও) সূত্রে জানাযায়, ৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ে চলতি বছরের মে মাসে খালটির ১৬ দশমিক ৪৩৯ মিটার পুনঃখননের কাজ শুরু করা হয়। কাজটি করছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়। ভরাট হয়ে যাওয়া খালে পানিপ্রবাহের সৃষ্টি ও খেতে সেচ দেওয়ার জন্য এই উদ্যোগ নেয় প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়।

রোববার সরেজমিনে দেখা গেছে, চরমোহনা ইউনিয়নে কৃষিকাজে সেচসুবিধার জন্য পৃথক খাল পুনঃখনন করে ডাকাতিয়া নদীর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী খালের উপরিভাগে ৪০ থেকে ৫০ ফুট এবং তলদেশ ১০ ফুট চওড়া করে খনন করা কথা।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, দরপত্রের নির্দেশ না মেনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে খালের উপরিভাগ ১৫ থেকে ১৬ ফুট এবং তলদেশ ১৪ থেকে ১৬ ফুট চওড়া করে কেটেছে। ডাকাতিয়া নদী সংলগ্ন কাছাকাছি এলাকায় খালের মতো করে না কেটে সরু আকারে কাটা হয়েছে। এতে নদীর পানি খালে ঢুকতে পারছে না। অনেক স্থানে ঢালু না করে খাড়াভাবে খাল খনন করা হয়েছে। এতে এসব স্থানে দুই পাড়ের মাটি ধসে পড়ে বসতভিটা হুমকির মুখে পড়েছে, ভেঙে গেছে ইউনিয়নের পাকা রাস্তা।

চরমোহনা গ্রামের আবদুল গফুর ও সিরাজ মাষ্টারসহ অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, খালের পাড় খাড়াখাড়িভাবে কাটায় পাশের বিভিন্ন স্থাপনাসহ ইউপির রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অটো চালক মোঃ সোলায়মান ও গফুর আলী জানান, এক পাশ ভেঙে যাওয়ায় রাতে ওই রাস্তা দিয়ে অটোরিকশা চালানো যায় না। অনেক সময় অন্য অটোরিকশা পাশ দিতে গেলে খাদে পড়ে যেতে হয়। এক সপ্তাহ আগে খাদে পড়ে গিয়ে গ্রামের রুবেল হোসেন নামের এক শিশুর পা ভেঙে গেছে, বৃদ্ধ আঘাত পায়।

দক্ষিন রায়পুর গ্রামের মালেক ফিরোজ ও মোঃ সুজন বলেন, অপরিকল্পিতভাবে খাল কাটার জন্য গ্রামের অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমার প্রায় ৫ শতাংশ জমি এবং ৫০ হাজার টাকা দামের গাছ খালে কাটা পড়েছে। আমাদের মতো গ্রামের ৩০ থেকে ৩৫ জন বাসিন্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

খাল খননে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় এক ঠিকাদার বলেন, ‘দীর্ঘ ৪০ থেকে ৪৫ বছর সংস্কার না করায় খালের বেশির ভাগ অংশ ভরাটসহ বেদখল হয়ে বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে উঠেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ইউএনও অফিসের কর্মকর্তাদের মেপে দেওয়া জায়গায় খাল খননের কাজ করছে।’

প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিতে থাকা (তিনটি পিআইসির দায়িত্বে থাকা) চরমোহনা ইউপির মেম্বার মোঃ ইউসুফ, হাসিনা বেগম ও সুমন হোসেন দাবি করেন, ‘খাল কাটতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।’ তারপরেও যেন কাজ ভাল হয়, সেটাই চেষ্টা করছি।।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী আবদুল হাই খান বলেন, প্রায় চার যুগ ভরাট খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়ায় এলাকাবাসীর বাধার সম্মুখীন হতে হয়। কাজ করতে সমস্যা হয়। এখন কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট সহ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টি কিছুটা কমলে রাস্তাগুলো মেরামত করে দেওয়া হবে।

চরমোহনা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক
(পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা) মোহাম্মদ আবদুস সাত্তার জানান, খাল খননের পর টানা বৃষ্টিতে কিছু এলাকার পাকা সড়ক ভেঙে পড়েছে। ভেঙে যাওয়া কয়েকটি রাস্তা মেরামতের জন্য ইউএনও ও পিআইওকে জানানো হয়েছে।

রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, তিনি এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবেন।

উল্লেখ্য-গত ৯ জুন রায়পুর-খাসেরহাট সড়কের চরবংশী স্টীল ব্রিজ সংলগ্ন দুই কিলোমিটার ডাকাতিয়া নদীর সংযোগ খালে গড়ে ওঠা ৩টি ব্রীজসহ ৬১টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, গ্রাম পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান কাউছার।