রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে নির্মাণাধীন হায়দরগন্জ আঞ্চলিক সড়ক পৌরসভা অংশের প্রকল্পের ১৬ কোটি টাকার কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। বিভিন্ন অজুহাত দিয়ে প্রকল্পের নির্মাণকাজ ফেলে চলে যায় প্রকল্পে কর্মরত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকেরা। এই সুযোগে খোয়া যাচ্ছে মূল্যবান নানা জিনিসপত্র। ঈদের সময় প্রায় ৫০ হাজার টাকার রড চুরি হয়েছে।
এদিকে নির্মাণকাজের কারণে খানাখন্দে ভরপুর রায়পুর-হায়দরগন্জ সড়কের পৌরসভা অংশের নর্দমা পর্যন্ত অংশে যানবাহন চলাচলে বেড়েছে ভোগান্তি। বর্তমানে তা চরম আকার ধারণ করেছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এই প্রকল্পের কাজ আবার কবে নাগাদ শুরু হবে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে আইইউজিআইপি প্রকল্পের সহকারি প্রকৌশলী মেরাজ মাহমুদ আকাশ বলেন, গত ৪ এপ্রিল ব্যস্ততম ‘উপজেলা সড়কের’ সংস্কার কাজ উদ্ধোধন করেন লক্ষ্মীপুর ২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ADB,AFD ও GOB আর্থিক সহায়তায় ১৬ কোটি ৫৭ লাখ ৮৭ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে রায়পুর পৌরসভা।।নতুনবাজার মোড় এলাকা থেকে ড্রেনের কাজ শুরু হয়। সম্প্রতি রড, সিমেন্টসহ বিভিন্ন মালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছুদিন কাজটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখায় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিক চলে যাওয়ার পর প্রকল্পের মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি হচ্ছে। চুরি ঠেকানোর জন্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নিয়েও চুরি ঠেকাতে পারছি না।
প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে প্রকৌশলী আরও বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে শ্রমিকরা চলে যাওয়ার পর থেকে আমাদের প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি বন্ধ আছে। কবে চালু হবে আমরা তা এখন বলতে পারছি না। সড়কের ড্রেনের কাজ শুরু করলেও ঈদের বন্ধে শ্রমীকরা বাড়ী যায়। পুরো কাজ যেহেতু পৌরসভার অধীনে, তাই রাস্তার বর্তমানে মেরামতের দায়িত্বও তাদের। যেহেতু তারা নেই, তাই রাস্তা মেরামত করার মতো জনবল বা যন্ত্রপাতি আমাদের হাতে নেই। আমরা রাজস্ব খাত থেকে টাকা দিয়ে মানুষের ভোগান্তি কমানোর জন্য চেষ্টা করবো। আশা দ্রুতই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে ওপর থেকে।
নতুনবাজার এলাকার ব্যাবসায়ী সুমন জানান, সড়কটির পৌরসভার ড্রেনের কাজের অংশের কাজ বন্ধ থাকায় যানবাহনের চালক, যাত্রী এবং স্থানীয়রা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। খানাখন্দ সড়কের কারণে প্রতিদিনই মহিলা কলেজ, খাজুরতলা, নতুনবাজার এলাকায় যানজট লেগে থাকে। এতে করে যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
অন্যদিকে সড়কের তীব্র ধুলার কারণে আশপাশের বাসাবাড়িসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ক্রেতা সংকটে অনেকটাই লাটে উঠেছে। তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্যে সরকার তথা পৌর প্রশাসকের (ইউএনও) প্রতিদাবি জানান।
পরিবহন চালক মাসুদ আলম বলেন, নির্মাণাধীন সড়কটি দিয়ে যানবাহন চালাতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে পড়ে থাকার পাশাপাশি যানবাহনের নাট-বল্টু, চাকা, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সড়কটি যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে। তিনি সড়কটির কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানান।
রায়পুর পৌরসভার প্রশাসক ও ইউএনও মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, ঠিকাদারের সাথে কথা বলে বিষয়টা জেনে জানাবেন।।
তবে পৌরসভার উপ-সহকারি প্রকৌশলী মাহমুদ নবী বলেন, ১৬ কোটি টাকার বাজেটে রাস্তার প্রকল্পটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ঢাকার ডক ইয়াড শিপিং ইন্জিনিয়ারিং থেকে প্রকল্পটি কিনে নিয়েছেন ডিকে কর্পোরেশান। তারা কেন সড়কের কাজটি ধীর গতিতে করছেন, তা জানাতে কয়েকবার চিঠি দিলেও তার উত্তর দেওয়া হয়নি। তাদের ম্যানেজার মোঃ দুলাল বলেছেন সহসায় তারা কাজ শুরু করবেন।।
মেঘনার তীর 



















