স্টাফ রিপোর্টার:লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও তিন মেয়েকে হত্যার ঘটনায় গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত ঘাতক অন্তর মজুমদারের (২৮) মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে স্বজনরা তার মরদেহ নিতে রাজি হয়নি। একপর্যায়ে বাধ্য করে দূর সম্পর্কের চাচাতো ভাই টিটু মজুমদারের কাছে তার মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।শনিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়াকুব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, অন্তর নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বর থানাধীন চরভাটা এলাকার চরবজলুল করিম গ্রামের কার্তিক মজুমদারের ছেলে। তার মরদেহ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু স্বজনরা কোনোভাবেই নিতে রাজি ছিল না। পরে ওই থানা-পুলিশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের মাধ্যমে নিহতের দূর সম্পর্কের এক চাচাতো ভাইকে আনা হয়। ময়নাতদন্তের পর বিকেলে তার কাছে অন্তরের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
গণপিটুনিতে অন্তর মজুমদারের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় আরো একটি মামলা হয়েছে। রায়পুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেন। এর আগে মা- তিন মেয়ে হত্যার ঘটনায় নিহতের ছেলে শিফাত বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামী করে আরো একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অরুপ পাল বলেন, সুরুতহালের পর নিহত অন্তরের মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। পরে মরদেহ আমরা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছি।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, গণপিটুনিতে অন্তর মজুমদারের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় আরো একটি মামলা হয়েছে। রায়পুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেন।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা নদীর পাড় এলাকার আমির হোসেন মাস্টারের পাঁচতলা ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাটে ঢুকে শাহিনুর বেগম ও তার তিন মেয়েকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন অন্তর মজুমদার। এতে ঘটনাস্থলেই শাহিনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেঝো মেয়ে নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭) ও ফাতেমা আক্তার শিফা (৯) মারা যায়। ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা অন্তরকে ধরে গণপিটুনি দেয়। এতে তারও মৃত্যু হয়। এদিকে শুক্রবার বিকেলে রায়পুর ও কুমিল্লার হোমনা নিজ গ্রামে জানাজা শেষে চারজনকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
মেঘনার তীর 



















