স্টাফ রিপোর্টার.লক্ষ্মীপু
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,শাহীনুরদের বাড়ি কুমিল্লায় জেলায়। প্রায় ১২-১৪ বছর ধরে থাকা রায়পুরে ভাড়া বাসায় থাকে। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে শাহীনুর তার সন্তানদের নিয়ে ঘটনাস্থলে আমির হোসেন মাস্টারের বাসায় ভাড়া থাকেন। ২০১৯ সালে তার স্বামী মো. কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর থেকে ৩ মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে শাহীনুর ওই বাসায় বসবাস করে আসছেন। ঘাতক অন্তর তার স্ত্রীসহ প্রায় দেড় বছর ঘটনাস্থলে বাসা ভাড়া থাকতেন। প্রায় ৭-৮ মাস আগে তিনি বাসা ছেড়ে চলে যান। হয়তো পূর্ব পরিচিত হওয়ায় সকালে অন্তর এ বাসায় আসেন। এসময় কিছু বুজে উঠার আগে এলোপাতাড়ি শাহীনুর ও তার তিন মেয়েকে কোপোতে থাকে অন্তর। এতে ঘটনাস্থলে শাহীনুর বেগম(৪০) ও বড় মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার(১৮) মারা যান। রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্রে নেয়ার পর মারা যান শিফা আক্তার(৯)। গুরুতর আহত অপর কলেজ শিক্ষার্থী ইকরা আক্তারকে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে সেও মারা যান। এছাড়া ঘাতক অন্তর মজুমদারকে আটক করে গনধোলাই দেয় স্থানীয়রা। পরে তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান অন্তর। সেই নোয়াখালী সুবর্ণচর এলাকার কার্তিক মজুমদারের ছেলে। তিনি রায়পুরের ভ্রাম্যমাণ ফল ব্যবসায়ী ছিলেন। এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতার ছোড়া ইটপাটকেলে পুলিশের ৭জন আহত হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রেম সংক্রান্ত ও টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারনা করছে পুলিশ ও স্থানীয়রা। পাশাপাশি সুষ্ঠু তদন্ত করে রহস্য উদঘাটন করার দাবী জানান স্থানীয়রা। এ ধরনের ঘটনা আর যেন না ঘটে,সেটা প্রত্যাশা সবার। অপরদিকে হত্যাকান্ডের পর ঘাতক অনন্ত মজুমদার ঘর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করে।
স্থানীয়রা জানায়, অনন্ত মজুমদার ফলের ব্যবসা করতো। আর শাহীনুর বেগম তিন মেয়ে ও ছেলেকে নিয়ে বাসা ভাড়া করে বসবাস করতো। মর্মান্তিক এই ঘটনা মেনে নেয়ার মতো নয়। শাহীনুরের একমাত্র ছেলে সিফাত হোসেন রায়পুর বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে। মুরাদ বলেন, সিফাতের মা ও তিন বোনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সকালে সে কাজে আসায় সেও কিছুই জানতো না। ঘটনাটি জানার পর থেকে সেও আতঙ্ক গ্রস্ত। সে কারো সাথে কথা বলার অবস্থাতে নেই।
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম বলেন, হাসপাতালে পাঁচজনকে আহত অবস্থায় আনা হয়। তাদের মধ্যে মা ও দুই মেয়ে মারা গেছেন। আরেক মেয়েকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হলে পথে মারা যান তিনি। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
রায়পুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, “ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। সন্দেহভাজন এক যুবককে জনতা গণপিটুনি দিয়েছে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কি কারনে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেটে সেটা নিশ্চিত হওয়ায় যায়নি।
বাড়ির মালিক ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলার পর লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক জানান, ঘাতক অন্তর তার স্ত্রীসহ প্রায় দেড় বছর ঘটনাস্থলে বাসা ভাড়া থাকতেন। প্রায় ৭-৮ মাস আগে তিনি বাসা ছেড়ে চলে যান। হয়তো পূর্ব পরিচিত হওয়ায় সকালে অন্তর এ বাসায় আসেন। এরপর সে ঘটনাটি ঘটান। রাণী নামে এক প্রতিবেশি অন্তরকে ওই বাসায় দেখে এখানে আসার কারণ জানতে চান, তখন অন্তর বলে পানির পাইপ ঠিক করতে এসেছেন বলে জানান। রাণী এটা বিশ্বাস না করে কলাপসিবল গেট আটকে দিয়ে স্থানীয়দের খবর দেন। তিনি পদক্ষেপটি না নিলে ঘটনাটি হয়তো উদ্ঘাটন করাই সম্ভব হতো না। এরপরও ঘটনাটি তদন্ত চলছে। তবে কী কারণে তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে তা বলতে পারেনি পুলিশ।
মেঘনার তীর 



















