তাবারক হোসেন আজাদ: মেঘনা নদীর লক্ষ্মীপুরের রায়পুর অংশে ফের ভাঙন দেখা দিয়েছে। কয়েকদিনের ভাঙনে উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের প্রাায় ১২ কিলোমিটার নদী তীরবর্তী গ্রামগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কৃষিজমি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
মেঘনায় বিলীনের হুমকিতে রয়েছে টুনুর চর, চরকাছিয়া, চরইন্দ্রুরিয়া গ্রাম, আলতাফ মাস্টার ইলিশঘাট, জালিয়ারচর, চরঘাসিয়া এলাকাসহ ১২ কিলোমিটার এলাকা। দুশ্চিন্তায় দিন পার করছে নদী তীরবর্তী মানুষেরা।জেলে বকুল মিয়া ও হযরত আলীসহ স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছরই বর্ষার মৌসুমে তীরবর্তী এলাকাগুলোতে ভাঙন দেখা দেয়। কিন্তু এবার বর্ষার শুরুর আগেই ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে বিলীন হয় ঘরবাড়ি ও কৃষি জমি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে বাঁধ নির্মাণের জন্য আবেদন করা হলেও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হয়নি। নদীর স্রোত ও অপরিকল্পিত ড্রেজিংয়ে ভাঙন আগের তুলনায় আরও বেড়েছে। এমতাবস্থা চলতে থাকলে উত্তর চরবংশী, দক্ষিণ চরবংশী ও চরআবাবিল ইউনিয়ন নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, নদীর পানি বাড়ায় উত্তর চরবংশী, দক্ষিণ চরবংশী ও উত্তর চরআবাবিল ইউনিয়নের বেড়িবাঁধের পশ্চিম পাড়ের বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। কিছু এলাকা এরই মধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। তিন ইউনিয়নের চরকাছিয়া, চরইনদ্রুরিয়া, চরঘাসিয়া এবং জালিয়ারচর গ্রামের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে। এসব গ্রামের কয়েকটি পরিবার ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।
দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সালেহ মিন্টু ফরায়েজি বলেন, ‘উপজেলা মধ্যে টুনুর চর, মিয়ারহাট, চরকাছিয়া, চরইনদ্রুরিয়া ও জালিয়ারচরে মানুষ বেশি অবহেলিত। উত্তর চরবংশী, দক্ষিণ চরবংশী ও উত্তর চরআবাবিল ইউনিয়নের বেড়িবাঁধের পশ্চিমপাড়ের বিশাল এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নেই।’
উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের প্রশাসক (সহকারি কমিশনার (ভুমি) নিগার সুলতানা বলেন, ‘এ অঞ্চলের মানুষের দুঃখ ও দুর্দশা কাছ থেকে দেখেছি। বাঁধটি নির্মাণ হলে মানুষ নিজ ভূমিতে শান্তিতে বসবাস করতে পারবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বাঁধ নির্মাণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে (পাউবো) জানিয়েছি।’
পাউবোর লক্ষ্মীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ-জামান খান বলেন, ‘রামগতি উপজেলার আলেকজেন্ডার মেঘনার নদী ভাঙ্গনের কাজ চলছে। রায়পুরের নদীর পাড়ের আলতাফ মাষ্টারঘাট এলাকায় কিছু জিও ব্যাগ ফেলে বাঁধ দেয়া হয়েছে। আরও বাজেট চাওয়া হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মেঘনার তীর 



















