ঢাকা ০৭:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তরুণ সমাজকে মোবাইল ও মাদকের ভয়াবহ আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী সেবার মান বাড়াতে ৫০ শয্যায় হাসপাতালকে ১০১ করতে খুব শিগগির দরপত্র আহ্বান করা হবে:স্বাস্থ্যমন্ত্রী লক্ষ্মীপুর ক্লাব লিমিটেডের তিন যুগ পুর্তি উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও গুণীজন সন্মাননা নেতৃত্বের কারণে আমরা অনেক পিছিয়ে গিয়েছি: পানিসম্পদ মন্ত্রী জিয়াউর রহমানের মতো সৎ ব্যক্তি বাংলাদেশের ইতিহাসে আর সৃষ্টি হয়নি: জেলা যুবদল সভাপতি ২০২৭ সালে ৩১ কোটি নতুন বই বিতরণ ও ইতিহাস বিকৃতি রোধের ঘোষণা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী মেয়েটি নিজেই এমপি গাজী নজরুলকে সেবা করতে চেয়েছিল: দাবি জামায়াতের এমপির কার্ডের খেলা না খেলে মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করুণ: নাহিদ ইসলাম রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলেন স্পিকার রায়পুরে খাল খনন শেষে অব্যয়িত ৬৫ লাখ টাকা ফেরত

রায়পুরে ১৫ দিনেও উদঘাটন হয়নি মা-তিন মেয়েসহ পাঁচ হত্যার রহস্য

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ১০:৪৫:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
  • 51

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একই পরিবারের মা ও তিন মেয়ে এবং গনপিটুনির শিকার হিন্দু যুবকের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন হয়নি আজও। গত ২৫ জুন রায়পুর পৌর শহরের ধানহাটা ডাকাতিয়া নদীর পাড় এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে কুপিয়ে হত্যা করা মা ও তিন মেয়ের লাশ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। এসময় অভিযুক্ত আটক অন্তর মজুমদারকে গনপিটুনি দেয় ক্ষুদ্ধ লোকজন। আহতাবস্তায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে সে মারা যাওয়ার ঘটনায় এখনও স্পষ্ট করে বলতে পারছেন না তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

নিহত গৃহবধু শাহিনুর বেগম (৩৮) এবং তার তিন মেয়ে সাইমা আক্তার (২০), নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭) ফাতেমা আক্তার সিপা (৯) বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলা লটিয়া গ্রামের মৃত দিনমজুর কামাল হোসেনের পরিবার। ২৬ জুন শুক্রবার রাত ১০টায় গ্রামটির মেঘনা নদীর পাড়ে সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয় চারজনকে। এখন নিহতদের পরিবারের কলেজ পড়ুয়াছেলে জুনায়েদ ইসলাম সিফাত।

গনপিটুনির শিকার অন্তর মজুমদার (৩০) নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার ছারামন উল্লাহ ইউনিয়নের চর ফজলুল করিম গ্রামের সুজিৎ মজুমদার ও আম্পরি মজুমদারের ছেলে। নিহতের আগে অন্তর তার এলাকায় কয়েকজন তরুণীর সঙ্গে খারাপ আচরণের কারণে গ্রাম ও পরিবার থেকে বিতাড়িত। সে ইসকনের সদস্য ও বিবাহিত ছিল বলে চাচাতো ভাই টিটু মজুমদার মোবাইলে জানান।।।

পুলিশ ও স্বজনরা জানায়, গত ২৫ বছর আগে ফেরিওয়ালা কামাল হোসেন তার স্ত্রী ও চার সন্তান নিয়ে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা নদীর পাড়ে স্কুল শিক্ষক আমির হোসেনের ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। কিন্তু কামাল হোসেন ২০১৯ সালে বিদ্যুৎস্পর্শে মারা যান। তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে সুখেদুঃখে দিন কেটে যাচ্ছিলো শাহিনুরের। ঘাতক অন্তর মজুমদার একই ভবনের চারতলায় মুসলিম পরিচয়ে এক নারীকে নিয়ে ভাড়া থাকতো। তার আচরন ভাল না থাকায় ২০২৫ সালের জানুয়ারী ও ফেব্রুয়ারী মাসে ভাড়া থেকে মার্চ মাসে বের করে দেয় ফল বিক্রেতা অন্তর মজুমদারকে। ২৫ জুন সকাল ৯ টায় ওই ভবনে শাহিনুর বেগমের বাসায় ঢুকে তাকেসহ (৩৮) তার তিন মেয়ে সাইমা আক্তার (২০), ইকরা বেগম (১৭) ও সিপা (৯)কে দা দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে অন্তর মজুমদার। এই সময় এক নারী ঘটনা বুঝতে পেরেবাইরে থেকে বাসার দরজা আটকে দেয়। ঘটনা বেগতিক দেখে ভবনের ছাদ দিয়ে পালানো সময় স্থানীয় লোকজন অন্তর মজুমদারকে আটক করে গনপিটুনি দেয়। সংবাদ পেয়ে ওসি তদন্তের নেতৃত্বে পুলিশের টহল দল ঘটনাস্থাল এসে অন্তরকে উদ্ধার করলেও তা পারেনি। এসময় ৭ পুলিশ ছোড়া ইটপাটকেলে আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় নিহতদের একমাত্র কলেজ পড়ুয়া ছেলে জুনায়েদ ইসলাম (শিফাত) বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামীদের নামে হত্যা মামলা এবং অভিযুক্তকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যায় ও এসময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে ৭ পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনায় এসআই আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে হত্যা মামলা হয় রায়পুর থানায়। এ দুটি হত্যা মামলাই তদন্ত করছেন ওসি (তদন্ত) মো. আবদুল মান্নান।।

গত ২৭ জুন লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর) আসনের এমপি আবুল খায়ের ভুঁইয়া এবং গত ২৬ জুন চট্রগ্রামের পুলিশের ডিআইজি মনিরুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। নির্মম হত্যাকাণ্ডটি পুলিশ, সিআইডি ও র‌্যাব তদন্ত করছেন। সম্প্রতি জেলা প্রশাসক নিহতদের পরিবারের ছলে সিফাতের হাতে একলাখ টাকা তুলে দেন।
এদিকে হত্যাকান্ডের তিনদিনের মধ্য ওসি শাহীন মিয়াকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযোগ করেছেন কর্তৃপক্ষ। নৃশংস ৫টি হত্যাকান্ডের ঘটনায় পৃথক দুইটি মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) আবদুল মান্নান বলেন, স্পর্শকাতর মামলা দুটি তদন্ত চলছে। এখন কিছুই বলা যাবেনা।।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

তরুণ সমাজকে মোবাইল ও মাদকের ভয়াবহ আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী

রায়পুরে ১৫ দিনেও উদঘাটন হয়নি মা-তিন মেয়েসহ পাঁচ হত্যার রহস্য

আডেট সময় ১০:৪৫:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একই পরিবারের মা ও তিন মেয়ে এবং গনপিটুনির শিকার হিন্দু যুবকের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন হয়নি আজও। গত ২৫ জুন রায়পুর পৌর শহরের ধানহাটা ডাকাতিয়া নদীর পাড় এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে কুপিয়ে হত্যা করা মা ও তিন মেয়ের লাশ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। এসময় অভিযুক্ত আটক অন্তর মজুমদারকে গনপিটুনি দেয় ক্ষুদ্ধ লোকজন। আহতাবস্তায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে সে মারা যাওয়ার ঘটনায় এখনও স্পষ্ট করে বলতে পারছেন না তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

নিহত গৃহবধু শাহিনুর বেগম (৩৮) এবং তার তিন মেয়ে সাইমা আক্তার (২০), নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭) ফাতেমা আক্তার সিপা (৯) বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলা লটিয়া গ্রামের মৃত দিনমজুর কামাল হোসেনের পরিবার। ২৬ জুন শুক্রবার রাত ১০টায় গ্রামটির মেঘনা নদীর পাড়ে সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয় চারজনকে। এখন নিহতদের পরিবারের কলেজ পড়ুয়াছেলে জুনায়েদ ইসলাম সিফাত।

গনপিটুনির শিকার অন্তর মজুমদার (৩০) নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার ছারামন উল্লাহ ইউনিয়নের চর ফজলুল করিম গ্রামের সুজিৎ মজুমদার ও আম্পরি মজুমদারের ছেলে। নিহতের আগে অন্তর তার এলাকায় কয়েকজন তরুণীর সঙ্গে খারাপ আচরণের কারণে গ্রাম ও পরিবার থেকে বিতাড়িত। সে ইসকনের সদস্য ও বিবাহিত ছিল বলে চাচাতো ভাই টিটু মজুমদার মোবাইলে জানান।।।

পুলিশ ও স্বজনরা জানায়, গত ২৫ বছর আগে ফেরিওয়ালা কামাল হোসেন তার স্ত্রী ও চার সন্তান নিয়ে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা নদীর পাড়ে স্কুল শিক্ষক আমির হোসেনের ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। কিন্তু কামাল হোসেন ২০১৯ সালে বিদ্যুৎস্পর্শে মারা যান। তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে সুখেদুঃখে দিন কেটে যাচ্ছিলো শাহিনুরের। ঘাতক অন্তর মজুমদার একই ভবনের চারতলায় মুসলিম পরিচয়ে এক নারীকে নিয়ে ভাড়া থাকতো। তার আচরন ভাল না থাকায় ২০২৫ সালের জানুয়ারী ও ফেব্রুয়ারী মাসে ভাড়া থেকে মার্চ মাসে বের করে দেয় ফল বিক্রেতা অন্তর মজুমদারকে। ২৫ জুন সকাল ৯ টায় ওই ভবনে শাহিনুর বেগমের বাসায় ঢুকে তাকেসহ (৩৮) তার তিন মেয়ে সাইমা আক্তার (২০), ইকরা বেগম (১৭) ও সিপা (৯)কে দা দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে অন্তর মজুমদার। এই সময় এক নারী ঘটনা বুঝতে পেরেবাইরে থেকে বাসার দরজা আটকে দেয়। ঘটনা বেগতিক দেখে ভবনের ছাদ দিয়ে পালানো সময় স্থানীয় লোকজন অন্তর মজুমদারকে আটক করে গনপিটুনি দেয়। সংবাদ পেয়ে ওসি তদন্তের নেতৃত্বে পুলিশের টহল দল ঘটনাস্থাল এসে অন্তরকে উদ্ধার করলেও তা পারেনি। এসময় ৭ পুলিশ ছোড়া ইটপাটকেলে আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় নিহতদের একমাত্র কলেজ পড়ুয়া ছেলে জুনায়েদ ইসলাম (শিফাত) বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামীদের নামে হত্যা মামলা এবং অভিযুক্তকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যায় ও এসময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে ৭ পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনায় এসআই আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে হত্যা মামলা হয় রায়পুর থানায়। এ দুটি হত্যা মামলাই তদন্ত করছেন ওসি (তদন্ত) মো. আবদুল মান্নান।।

গত ২৭ জুন লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর) আসনের এমপি আবুল খায়ের ভুঁইয়া এবং গত ২৬ জুন চট্রগ্রামের পুলিশের ডিআইজি মনিরুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। নির্মম হত্যাকাণ্ডটি পুলিশ, সিআইডি ও র‌্যাব তদন্ত করছেন। সম্প্রতি জেলা প্রশাসক নিহতদের পরিবারের ছলে সিফাতের হাতে একলাখ টাকা তুলে দেন।
এদিকে হত্যাকান্ডের তিনদিনের মধ্য ওসি শাহীন মিয়াকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযোগ করেছেন কর্তৃপক্ষ। নৃশংস ৫টি হত্যাকান্ডের ঘটনায় পৃথক দুইটি মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) আবদুল মান্নান বলেন, স্পর্শকাতর মামলা দুটি তদন্ত চলছে। এখন কিছুই বলা যাবেনা।।