তাবারক হোসেন আজাদ: লক্ষ্মীপুরের রায়পুর ও চাঁদপুরের ফরিদগন্জের সীমন্তবর্তী আলোনিয়া প্রায় ৪ কিলোমিটার পাকা সড়কটি ২০০৩ সাল থেকে (২২ বছর) ধরে কাঁচা সড়কে পরিণত হয়ে রয়েছে। ২০১৬ সালে আ’লীগের সাবেক এমপির ভাতিজার হাতে সাবেক এক প্রকৌশলীকে লাঞ্চনার পর ওই সড়কের পাকা অংশ নষ্ট হলেও তা পুনরায় সংস্কার করেনি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এর ফলে বর্ষায় সড়কগুলো কর্দমাক্ত হয়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত ও জলাবদ্ধতা। এতে বন্ধ হয়ে গেছে ভাড়ী যান চলাচল। বিকল্প সড়ক না থাকায় গত ২২ বছর ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বেড়িবাঁধ এলাকার প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ।
জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে উপকূলীয় মানুষকে রক্ষায় চাঁদপুর- লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৪০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এ সব এলাকার বাসিন্দাদের যোগাযোগের জন্য বিকল্প সড়ক না থাকায়, অধিকাংশ বেড়িবাঁধই যোগাযোগের মাধ্যম সড়ক হিসেবেও ব্যবার করা হয়। এ ছাড়াও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে জনগণের চাহিদা অনুযায়ী অনেক বাঁধই কার্পেটিং করছে এলজিইডি। সম্প্রতি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলার মোট ৮০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ উঁচু করা হয় চায়নায় এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। এ সময় বাঁধের ওপর থাকা পাকা সড়কের কার্পেটিং তুলে বাঁধ উঁচু করা হয়। এরপর দাপ্তরিক জটিলতায় সড়কগুলো আর পাকা করা হয়নি।
বুধবার (১৯ আগষ্ট) সরেজমিনে রায়পুরের নাপিতে চর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ২০০৩ সালের শেষে চাঁদপুরের এলজিইডির উদ্যোগে রায়পুর অংশের দেড় কিলোমিটার অংশ বাদ রেখে ফরিদগন্জ উপজেলার চরদুখিয়া ইউপির আলোনিয়া গ্রামের তিন কিলোমিটার অংশে সড়কটি পাকা করা হয়। তবে তার দুই বছরের মধ্যেই সড়কের কার্পেটিং উঠে গিয়ে সড়কটি আবার কাঁচা হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টি হলেই সড়কটি কর্দমাক্ত হয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সৃষ্টি হয় বড় গর্ত, সেগুলোতে জমে আছে পানি। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীরা। পাশাপাশি উৎপাদিত ফসল পরিবহনেও সমস্যায় পড়ছেন কৃষকেরা। দ্রুত সড়কটি পুনরায় পাকা করার দাবি জানান স্থানীয়রা।
২০০৫ সাল থেকে পাকা হচ্ছে না জানিয়ে আলোনিয়া এলাকার বাসিন্দা সমাজসেবক তানভীর পাটোয়ারী বলেন, আমাদের এই সড়ক রায়পুর ও ফরিদগন্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী আওতায় থাকায় কোনো কাজই হচ্ছে না। গত ২২ বছর ধরে রাস্তাটি কাঁচা পড়ে আছে। গ্রামের মানুষ ঠিকভাবে যাতায়াত করতে পারছে না। বর্ষায় ফসল পরিবহনেও আমাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
রায়পুরের সোলাখালিব্রীজ এলাকার বাসিন্দা মো. মাইনুদ্দিন মৈশাল বলেন, ডাকাতিয়া নদীর পাশে বাড়ি হওয়ায় আমরা জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকিতে ছিলাম। পানি উন্নয়ন বোর্ড এই রাস্তাটি উঁচু করেছিলো। ১৯৯৬ ও ২০০৩ সালে রাস্তার কাজ করা হলেও আর পাকা করা হয়নি। এই রাস্তায় আমাদেরই কষ্ট করে চলাচল করতে হয় এর মধ্যে সমস্যা হয় শিশু ও বয়স্কদের। দ্রুত রাস্তাটি আবার পাকা করার দাবি জানাই।
সজল হোসেন ও মহিউদ্দিন নামের সিএনজি চালক বলেন, সড়ক কাচা হবার কারণে খুব ভোগান্তিতে আছি। বাড়ি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পথ সিএনজি অটোরিকশা ঠেলে তারপর পাকা সড়কে উঠতে হয়। অনেক সময় রাস্তায় কাদা বেশি হলে ঠেলেও নেওয়া যায় না। এতে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।
চাঁদপুর এবং লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয় থেকে জানাযায়, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুরের সীমান্ত ৮০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এই বেড়িবাঁধগুলো মানুষে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন সময়ে এলজিইডির সঙ্গে সমঝোতায় অনেক বাঁধ কার্পেটিং করা হয়েছে।
১০ নাম্বার রায়পুর ইউপি চেয়ারম্যান সুমন চৌধুরী ও ফরিদগন্জের চরদুখিয়া ইউপি চেয়ারম্যান-মাহমুদুল হাসান মিরাজ বলেন,,
রায়পুরে সোলাখালিব্রীজ থেকে ফরিদগন্জের ১১ নাম্বার চরদুখিয়া ইউপির-চৌরাস্তাবাজার-আলিগন্জ ও ইসলাম বাজার এবং ১২ নাম্বার ইউপির পুর্ব চরদুখিয়া পর্যন্ত- ৪ কিলোমিটার সড়কটি গত ২২ বছর ধরে বেহাল। এই সড়ক দিয়ে-চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আলোনিয়া ফাজিল মাদরাসা ও হাজি সেলিম হাই স্কুলের শতশত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকগন চলাচল করছে।
এছাড়াও চৌরাস্তা ও ইসলামগন্জ ও বিরামপুর বাজার রয়েছে। প্রায় দেড় লাখ মানুষ চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ১৯৯৬ সালে ওই সড়কের একটা অংশ এবং ২০০৩ বাকি অংশ কিছু কাজ করা হয়েছিলো। ২০১৬ সালে ফরিদগন্জের সাবেক এমপি মরহুম শামসুল হক ভুইয়ার ভাতিজার নিন্মমানের কাজের প্রতিবাদ করলে উপজেলার সাবেক এক প্রকৌশলীকে বেদম মারধর করে। সেই থেকে আর এই সড়কের কোন উন্নয়ন হয়নি।
এবিষয়ে চাঁদপুরের এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ নুরুজ্জামান এবং রায়পুরের প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সিদ্দিক বলেন, আমি একমাস হলো যোগদান করেছি । দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী ওই কাঁচা সড়কটির বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।
মেঘনার তীর 












