তাবারক হোসেন আজাদ: লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার দক্ষিন চরবংশী ইউনিয়নের ‘এলকেএইচ উপকূলীয় উচ্চ বিদ্যালয়’ মাঠের পানি নিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা নেই। এ কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই মাঠে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এতে বিদ্যালয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা, কর্মচারী ও মসজিদের মুসুল্লিদেরকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দুর্ভোগ কমাতে মাঠটি ভরাট করার দাবি অভিভাবক, শিক্ষক ও প্রায় ৮’শ শিক্ষার্থীদের।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৩ সালে এক একর ২০ শতাংশ জায়গা নিয়ে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। একটি পরিত্যক্ত ভবনসহ দুইটি বহুতল ভবন রয়েছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮’শ ও শিক্ষক রয়েছেন ১৪ জন। এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতি বছরই সমাপনী পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে থাকে। পিছিয়ে নেই খেলাধুলায়ও। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয়ের মাঠে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত খেলাধুলা করতে পারে না। সামান্য বৃষ্টি হলেই মাঠ পানিতে তলিয়ে যায়। স্কুলটির পেছনের জামে মসজিদ একই অবস্থা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টিপাত হলে বিদ্যালয়ের বিদ্যালয় মাঠে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ৫ বছর আগে সাবেক এমপি তার কোটা থেকে মাঠ ভরাটের জন্য প্রায় এক লক্ষ টাকা স্কুলকে বরাদ্ধ দিলেও তা ইউনিয়ন আ’লীগ নেতা মনির মোল্লা নিয়ে সামান্য বালু ফেলেন। পরে ৬ লক্ষ টাকায় স্কুলের রাস্তা করার জন্য বরাদ্ধ হলে মাঠের এক পাশ থেকে মাটি কেটে রাস্তা করা হয়। এখন মাঠটির একপাশে পুকুর মনে হচ্ছে। ৫ বছর ধরে খেলা থেকে বঞ্চিত।
বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্র সিয়াম আশ্রাফুল, নাঈম হোসেন, মো. রাফিন এবং দশম শ্রেণীর ছাত্র মোহাম্মদ আলী ও মোঃ শুভ বলেন, মাঠে জলাবদ্ধতার কারণে নিয়মিত খেলাধুলা করা যায় না। প্রধান শিক্ষক স্যার মাঠ ভরাটের জন্য আবেদন করেও কোন লাভ হচ্ছেনা।
স্থানীয় বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী মো. জসিম উদ্দিন বলেন, উপজেলার মেঘনা উপকূলীয় অঞ্চলের একমাত্র উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এটি। অথচ দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এই বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ নেই। প্রতিবছর বর্ষাকাল আসলেই সামান্য বৃষ্টিপাতে মাঠে পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এসব সমস্যা সমাধানে দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, পানি নিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা নেই। এ কারণে মাঠটিতে জলাবদ্ধতা লেগেই থাকে। সামান্য বৃষ্টি হলে মাঠে পানি বেড়ে যায়। মাঠের এক পাশে মাটি না কেটে রাস্তা নির্মাণ না করলে বিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষে পানি উঠতো।। জলাবদ্ধতার কারণে গত ৫ বছর শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা বন্ধ রয়েছে। মাঠ ভরাটে এমপিসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা করা হয়েছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটসহ জলাবদ্ধতা দূরীকরণের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে কাজের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।।।
রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, বিদ্যালয়ের জলাবদ্ধতাসহ মাঠ ভরাটের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে শিগগির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিদ্যালয়ে শিশুরা এসে ভোগান্তি পোহাবে এটা কোনভাবেই কাম্য নয়। আজকের শিশু- কিশোররাই আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ।
মেঘনার তীর 



















