ঢাকা ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চাঁদার টাকার জন্য দোকানে ও ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়ার চেষ্টা, তিন ব্যবসায়ী আহত লক্ষ্মীপুরে নকল ঘির ডিলারকে লাখ টাকা জরিমানা : ৩৫০ কেজি ঘি ধ্বংস লক্ষ্মীপুরে সাংবাদিককে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় ৬জনকে আসামী করে থানায় মামলা, দুই মামলায় গ্রেফতার সন্ত্রাসী সাকিব  দীপ্ত টিভির সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলমকে গুলি, অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা, বাহিনী প্রধান সাকিবকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্মীপুরে পানিতে ডুবে একই পরিবারের তিনজন নিহত রায়পুরে মাদকাসক্ত যুবকের দেয়া আগুনে পুড়ে গেছে ১১টি বসতঘরসহ৬ দোকান,অভিযুক্তকে গনপিটুনি উৎসাহ-উদ্দীপনায় শ্রী কৃষ্ণের জন্মতিথি জন্মাষ্টমী উদযাপিত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয় দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ :স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জাতীয়তাবাদের নতুন রাজনীতি সৃষ্টি করেছেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান: পানিসম্পদমন্ত্রী

লক্ষ্মীপুর বাস টার্মিনালের বেহাল অবস্থা,কাদা-পানি আর গর্তে চরম ভোগান্তি

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ০৫:২৬:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
  • 120

স্টাফ রিপোর্টার:  লক্ষ্মীপুর জেলা বাস টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে শত শত বাস চলাচল করে। তবে সামান্য বৃষ্টিতেই টার্মিনালের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়ছেন যাত্রী, চালক, পরিবহনশ্রমিক, পথচারী ও আশপাশের ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে লক্ষ্মীপুর শহরের ভোলা-বরিশাল সড়কের শুরুতে অবস্থিত বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, পুরো এলাকায় অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে কোথাও কোথাও ছোট জলাশয়ের মতো দৃশ্যের সৃষ্টি হয়েছে। কাদা-পানিতে গর্তগুলো ঢেকে যাওয়ায় কোনটি রাস্তা আর কোনটি গর্ত, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাস চলাচলের সময় কাদা-পানি ছিটকে যাত্রীদের গায়ে পড়ছে। অনেক যাত্রীকে জুতা হাতে নিয়ে কাদা মাড়িয়ে বাসে উঠতে দেখা গেছে। নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। ভারী যানবাহনের চাপে টার্মিনালের গর্তগুলো দিন দিন আরও বড় হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই টার্মিনাল থেকে জেলার ছয়টি উপজেলা ছাড়াও ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও নোয়াখালীসহ বিভিন্ন রুটে প্রতিদিন শত শত বাস চলাচল করে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী টার্মিনালটি ব্যবহার করলেও দীর্ঘদিন ধরে বড় ধরনের কোনো সংস্কারকাজ হয়নি।

ঢাকাগামী যাত্রী মো. সাজিদ বলেন, জেলার প্রধান বাস টার্মিনালের এমন বেহাল অবস্থা হতাশাজনক। বৃষ্টি হলেই কাদা-পানি মাড়িয়ে বাসে উঠতে হয়। এতে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

বাসচালক শাওন বলেন, বড় বড় গর্তের কারণে বাস চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বৃষ্টির সময় অনেক স্থানে গাড়ির চাকা গর্তে বসে যায়। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কার পাশাপাশি বাসের বিভিন্ন যন্ত্রাংশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

টার্মিনালসংলগ্ন ব্যবসায়ী সিরাজ মিয়া বলেন, পানি জমে থাকলে যাত্রীরা দোকানে আসেন না। এতে ব্যবসায়ীদের প্রতিদিন লোকসান গুনতে হচ্ছে। বহুবার সংস্কারের দাবি জানানো হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু টার্মিনালের অভ্যন্তরীণ সড়ক নয়, এর অবকাঠামোর অবস্থাও জরাজীর্ণ। ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বাস টার্মিনালটিতে ২০০৮ সালে একটি ভবন নির্মাণ করা হলেও বর্তমানে সেটিও বেহাল অবস্থায় রয়েছে।

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জুলফিকার হোসেন বলেন, টার্মিনালের অভ্যন্তরীণ সড়ক সংস্কারের জন্য বরাদ্দ চেয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।

তবে স্থানীয়দের দাবি, উন্নয়ন প্রকল্পের আশ্বাস তারা বহুবার শুনেছেন। এবার তারা শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, দ্রুত সংস্কারকাজের বাস্তবায়ন দেখতে চান। তাদের মতে, জেলার অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত বাস টার্মিনালের বেহাল চিত্র যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ানোর পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর জেলার ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করছে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদার টাকার জন্য দোকানে ও ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়ার চেষ্টা, তিন ব্যবসায়ী আহত

লক্ষ্মীপুর বাস টার্মিনালের বেহাল অবস্থা,কাদা-পানি আর গর্তে চরম ভোগান্তি

আডেট সময় ০৫:২৬:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার:  লক্ষ্মীপুর জেলা বাস টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে শত শত বাস চলাচল করে। তবে সামান্য বৃষ্টিতেই টার্মিনালের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়ছেন যাত্রী, চালক, পরিবহনশ্রমিক, পথচারী ও আশপাশের ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে লক্ষ্মীপুর শহরের ভোলা-বরিশাল সড়কের শুরুতে অবস্থিত বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, পুরো এলাকায় অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে কোথাও কোথাও ছোট জলাশয়ের মতো দৃশ্যের সৃষ্টি হয়েছে। কাদা-পানিতে গর্তগুলো ঢেকে যাওয়ায় কোনটি রাস্তা আর কোনটি গর্ত, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাস চলাচলের সময় কাদা-পানি ছিটকে যাত্রীদের গায়ে পড়ছে। অনেক যাত্রীকে জুতা হাতে নিয়ে কাদা মাড়িয়ে বাসে উঠতে দেখা গেছে। নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। ভারী যানবাহনের চাপে টার্মিনালের গর্তগুলো দিন দিন আরও বড় হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই টার্মিনাল থেকে জেলার ছয়টি উপজেলা ছাড়াও ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও নোয়াখালীসহ বিভিন্ন রুটে প্রতিদিন শত শত বাস চলাচল করে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী টার্মিনালটি ব্যবহার করলেও দীর্ঘদিন ধরে বড় ধরনের কোনো সংস্কারকাজ হয়নি।

ঢাকাগামী যাত্রী মো. সাজিদ বলেন, জেলার প্রধান বাস টার্মিনালের এমন বেহাল অবস্থা হতাশাজনক। বৃষ্টি হলেই কাদা-পানি মাড়িয়ে বাসে উঠতে হয়। এতে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

বাসচালক শাওন বলেন, বড় বড় গর্তের কারণে বাস চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বৃষ্টির সময় অনেক স্থানে গাড়ির চাকা গর্তে বসে যায়। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কার পাশাপাশি বাসের বিভিন্ন যন্ত্রাংশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

টার্মিনালসংলগ্ন ব্যবসায়ী সিরাজ মিয়া বলেন, পানি জমে থাকলে যাত্রীরা দোকানে আসেন না। এতে ব্যবসায়ীদের প্রতিদিন লোকসান গুনতে হচ্ছে। বহুবার সংস্কারের দাবি জানানো হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু টার্মিনালের অভ্যন্তরীণ সড়ক নয়, এর অবকাঠামোর অবস্থাও জরাজীর্ণ। ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বাস টার্মিনালটিতে ২০০৮ সালে একটি ভবন নির্মাণ করা হলেও বর্তমানে সেটিও বেহাল অবস্থায় রয়েছে।

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জুলফিকার হোসেন বলেন, টার্মিনালের অভ্যন্তরীণ সড়ক সংস্কারের জন্য বরাদ্দ চেয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।

তবে স্থানীয়দের দাবি, উন্নয়ন প্রকল্পের আশ্বাস তারা বহুবার শুনেছেন। এবার তারা শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, দ্রুত সংস্কারকাজের বাস্তবায়ন দেখতে চান। তাদের মতে, জেলার অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত বাস টার্মিনালের বেহাল চিত্র যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ানোর পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর জেলার ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করছে।