তাবারক হোসেন আজাদ:লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে অন্তত ৫০টি ভবন চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব ভবনের বেশ কয়েকটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও ঝুঁকি এড়াতে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি এবং হচ্ছেনা। পরিত্যক্ত ঘোষিত এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের মধ্যেই ইউএনও ও ওসির ভবনসহ অনেকে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। বুধবার দুপুর ১টায় (২৩ জুলাই) ইউএনওর কার্যালয়ের সামনে ইউএনওসহ, এসিল্যান্ড, রায়পুর প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদকসহ কয়েকজন দাড়িয়ে কথা বলছিলেন। এই সময় ছাদের পলেস্তারা খসে পড়লে অল্পের জন্য প্রানে রক্ষা পান ইউএনও ও এসিল্যান্ড।
এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ একাধিক ভবনে বছরের পর বছর সরকারি অফিস, শিক্ষা ও ব্যাবসা কার্যক্রমও চলছে। প্রায় সময় পলেস্তারা ভেঙে মাথায় পড়ে আহতের ঘটনাও ঘটছে। ঝুঁকিপূর্ণ এসব ভবন যে কোনো সময় ধসে ঘটতে পারে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ১৫ বছর আগে উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা প্রস্তুত করার উদ্যোগ নিলেও পরে অজ্ঞাত কারণে সংস্কার কাজ থেমে যায়।
রায়পুর উপজেলা পরিষদে ভেতরে ইউএনওর বাসভবন, তার কার্যালয়, তার ভবনের পেছনের গলিতে খাদ্য, পিআইও, মহিলাবিষয়ক, সমবায়, পরিসংখ্যান, যুব উন্নয়ন, মৎস্য, আইসিটি, হিসাবরক্ষণ, এলজিইডির কার্যালয়, এবং পল্লী উন্নয়ন ও তার পাশের উপজেলা চেয়ারম্যানের কার্যালয় ভবন, নিচতলাতেও অফিসার্স ক্লাব পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মচারীদের আবাসিক ভবন, কোয়ার্টার ভবন, আদর্শ শিশু নিকেতন ভবন, পুরোনো আদলত ভবন, পল্লী সঞ্চয় ও আনসার ভিডিপি ব্যাংকসহ পৃথক ভবন ১৪টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলেও মত দিয়েছিল উপজেলা প্রশাসন।
এদিকে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রথম শ্রেণির পৌর ভবন, ১২ তলা গাজি কমপ্লেক্স, এলএম পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, কেরোয়া ভূমি ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণার পরও কার্যক্রম চললেও এ নিয়ে মাথাব্যথা নেই প্রশাসনের।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে সরেজমিন দেখা গেছে, রায়পুর থানার ভেতরে ওসি ও এসআইদের কোয়াটার ভবন, শহরের শহীদ মিনার সংলগ্ন পুরোনো কোর্ট ভবন, পরিষদের ভেতরে ট্রেজারি শাখা ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও সেখানে নিয়মিত অফিস করা হয়। মধ্য ও পূর্ব এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাদের কার্যালয়সহ ১২টি আবাসিক কোয়ার্টার ভবন জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত রয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, থানার উত্তর পাশে ১২তলা বিশিষ্ট গাজি কমপ্লেক্সটি যে কোনো সময় দেবে যাবে। এ ছাড়াও ভবনটি অগ্নি ঝুঁকিপূর্ণ। এ মার্কেটে ৪০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ৫০টি পরিবার রয়েছে। যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
গাজি কমপ্লেক্স ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আরিফ হোসেন বলেন, ৩০ বছর আগে অনিয়মের মধ্যে ভবনটি নির্মাণ করা হয়। ভবন হেলে পড়া ও অগ্নিসংযোগসহ যে কোনো সময় সময় বড় বিপদের আশঙ্কা রয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে।
এরপর পানি উন্নয়ন বোর্ড ৩০ বছর আগে রায়পুর পীর বাড়ি সংলগ্ন পাউবোর অফিসসহ রেস্ট হাউস, পোস্ট অফিস সংলগ্ন পাউবোর সাতটি ও টিসি সড়কের পাঁচটি আবাসিক ভবন, হাজিমারা ও হায়দরগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি ও মৎস্য অফিসের রেস্ট হাউস খাতা-কলমে পরিত্যক্ত দেখানো হলেও সেখানে রাখা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র। সেখানের একটি বিল্ডিং ও অফিস হিসেবে চলার উপযোগী মনে করেন না অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। ওই অফিসের আওতাধীন স্টাফ কোয়ার্টারগুলোও মান্ধাতার আমলের। সেগুলোও ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। সেখানকার অনেক ভবন পরিত্যক্ত করা হলেও কাজকর্ম চলছে। কোনোটি খালি পড়ে আছে।
শহরের আধুনিক বাসটার্মিনাল না থাকায় তার ভবনটি ৩০ বছর আগেই দোতলা এই ভবনের ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। এখন যথেষ্ট ঝুঁকির মুখে রয়েছে ভবনটি। এ ছাড়া ৫০ শয্যা সরকারি হাসপাতালের চারটি আবাসিক কোয়ার্টার চরম ঝুঁকির মধ্যে। শহরের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য প্রাচীন আমলের বিল্ডিং আছে। এসব বিল্ডিংও রয়েছে চরম ঝুঁকির মধ্যে।
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাসান জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করে কাজ শুরু হবে। প্রায় ৭ কোটি টাকায় ব্যায়ে রায়পুরে উপজেলা পরিষদ ভবনের জন্য মন্ত্রণালয়ে ফাইল পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলে টেন্ডার হবে। সদরসহ পাঁচ উপজেলায়ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা তৈরি করে জমা দিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বলা হবে জানান।
রায়পুর পৌরসভার প্রশাসক (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে পরিষদের ভেতরের ভবনগুলো খুবই ঝুকিপুর্ণ। এগুলো নিয়ে কাজ হচ্ছে। ইতোমধ্যে বরাদ্দ চেয়ে এমপি মহোদয়ের মাধ্যমে ডিও লেটার দেয়া হয়েছে। উপজেলা পরিষদ নতুন ভবন করা নিয়ে জমি নিয়ে এক বিএনপি নেতা মামলা দিয়ে কার্যক্রম বন্ধ করে রেখেছেন। নতুন ভবন করতে না পারলে প্রায় ৭ কোটি টাকা ফেরত যেন না যায় সেই চেষ্টা করছি।
মেঘনার তীর 



















