ঢাকা ০৭:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তরুণ সমাজকে মোবাইল ও মাদকের ভয়াবহ আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী সেবার মান বাড়াতে ৫০ শয্যায় হাসপাতালকে ১০১ করতে খুব শিগগির দরপত্র আহ্বান করা হবে:স্বাস্থ্যমন্ত্রী লক্ষ্মীপুর ক্লাব লিমিটেডের তিন যুগ পুর্তি উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও গুণীজন সন্মাননা নেতৃত্বের কারণে আমরা অনেক পিছিয়ে গিয়েছি: পানিসম্পদ মন্ত্রী জিয়াউর রহমানের মতো সৎ ব্যক্তি বাংলাদেশের ইতিহাসে আর সৃষ্টি হয়নি: জেলা যুবদল সভাপতি ২০২৭ সালে ৩১ কোটি নতুন বই বিতরণ ও ইতিহাস বিকৃতি রোধের ঘোষণা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী মেয়েটি নিজেই এমপি গাজী নজরুলকে সেবা করতে চেয়েছিল: দাবি জামায়াতের এমপির কার্ডের খেলা না খেলে মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করুণ: নাহিদ ইসলাম রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলেন স্পিকার রায়পুরে খাল খনন শেষে অব্যয়িত ৬৫ লাখ টাকা ফেরত

৩১ কিলোমিটার তীর রক্ষা বাঁধ দৃশ্যমান হওয়ায় লক্ষ্মীপুরে দুই উপজেলার লাখো মানুষের মাঝে স্বস্তি

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ১১:১২:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
  • 447

স্টাফ রিপোর্টার: ৩হাজার ১শ কোটি টাকা ব্যায়ে ৩১কিলোমিটার নদীর তীর রক্ষা বাঁধের কাজ দৃশ্যমান হওয়ায় লক্ষ্মীপুরে দুই উপজেলার লাখো মানুষের মাঝে ফিরেছে স্বস্তি। ইতিমধ্যে প্রকল্পের জায়গায় ভাঙ্গন প্রতিরোধ হওয়ায় বসতবাড়ি ও ব্যবসা-বানিজ্য নিয়ে আশার আলো জোগাচ্ছে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের। এতে করে খুশি তারা। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এই অঞ্চলের মানুষের জীবন যাত্রার মান পাল্টে যাবে। সৃষ্টি হবে অর্থনীতির গতি। ইতিমধ্যে ৭০ ভাগ বাধেঁর কাজ শেষ হয়েছে। পুরোপুরি শেষ হতে বছরখানেক সময় লাগবে। পুরোদমে কাজ এগিয়ে চলছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানায়: গত ৫০ বছর ধরে নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে লক্ষ্মীপুরে রামগতি,কমলনগর ও সদর উপজেলার মজুচৌধুরীর হাট এলাকার ৩৭ কিলোমিটার বেড়ী বাঁধ, হাজার হাজার বসতবাড়ী, ফসলী জমি, অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট ও স্বাস্থ্য কমপ্লে¬ক্্র সহ বিভিন্ন হাট বাজার নদী গর্ভে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। বসতভিটা ও সহায় সম্পদ রক্ষায় দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পর ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি কমলনগর উপজেলার সাহেবের হাট ইউনিয়নের মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় জিও ব্যাগ ডাম্পিং এর মাধ্যমে কাজ শুরু হয়। এর আগে ২০২১ সালের ১জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে ৩৩ দশমিক ২৬ কিলোমিটার নদী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প পাস হয়। এর ব্যয় ধরা হয় ৩ হাজার ৯০ কোটি টাকা। এটি বাস্তবায়নে একই বছরের আগস্টে ৯৯টি প্যাকেজ করে টেন্ডার আহ্বান করে ৪৩টি ভাগে সাড়ে বাধেঁর কাজ শুরু হয়। শুরুর চার মাস পর নানা অজুহাতে একাধিকবার কাজ বন্ধ করে দেয় ঠিকাদারগন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন সময় বাড়িয়ে পুরোপুরি দমে কাজ চলছে। ইতিমধ্যে ৭০ ভাগ কাজ শেষ হওয়ায় বাধ দৃশ্যমান হচ্ছে। এতে করে দুই উপজেলার প্রায় ৭ লাখ মানুষের মাঝে ফিরেছে স্বস্তি। বসতবাড়ি ও ব্যবসা-বানিজ্য নিয়ে আশার আলো জোগাচ্ছে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের। এতে করে খুশি তারা। দীর্ঘ ৪ যুগের বেশি সময় ধরে মেঘনার ভয়াবহ ভাঙ্গনের শিকার নি:স্ব পরিবারগুলো এখন স্বপ্ন দেখছেন, এই প্রকল্পের কাজ শেষে হলে আর পিছিয়ে পড়বেনা এই অঞ্চলের মানুষ এমনটাই প্রত্যাশা। তাই দ্রুত বাকী কাজ শেষ করার দাবী তাদের।

কমলনগর উপজেলার নবীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা নুরনবী ও মাহমুদ হোসেন জানান, গত চার যুগ ধরে ভাঙ্গনের শিকার হচ্ছি। তিনবার বসতভিটা হারিয়ে নি:স্ব হয়েছি। এখন বাঁধ হওয়ায় অনেক স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছি। দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পর বাধেঁর কাজ দৃশ্যমান হচ্ছে। ভাঙ্গনের কারনে সব সময় আতংকে দিন কাটাতে হয়েছে। তবে এখন বাধেঁর কাজ হওয়ায় বসতভিটা,ব্যবসা-বানিজ্য ও স্কুলে পড়–য়া সন্তানদের নিয়ে আরো হতাশায় থাকতে হবেনা। এখন নদী পাড়ের সবার মাঝে আশার আলো জোগাচ্ছে। স্বপ্ন দেখছে নদীপাড়ের বাসিন্দারা। এইভাবে পুরোদমে কাজ চলছে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আশা করেন বাসিন্দারা।

মতিরহাট এলাকার বাসিন্দা লিটন ও খালেক হোসেন বলেন, তীররক্ষা বাধঁ নিয়ে মানুষের অনেক স্বপ্ন ও ভরসা রয়েছে। প্রকল্পের কাজ ভালো হওয়ায় খুশি সাধারন মানুষ। বসত ভিটা ও শেষ সম্বলটুকু ভাঙ্গনের হাত রক্ষা পাওয়ায় দুই উপজেলার লাখো মানুষের মাঝে ফিরে এসেছে স্বস্তি। প্রকল্পের কাজ শেষে হলে আর পিছিয়ে পড়বেনা এই অঞ্চলের মানুষ। এসব বাধেঁ নানা উৎসবে হাজার হাজার মানুষের মিলন মেলা বসে। মানুষ এই নদী তীররক্ষা বাধঁকে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনাও দেখছেন বলে দাবী করেন। আবার অনেকেই এটাকে দ্বিতীয় কক্্রবাজার সমুদ্র সৈকত হিসেবেও মূল্যায়ন করছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাহিদ-উজ-জামান বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এই অঞ্চলের মানুষের জীবন যাত্রার মান পাল্টে যাবে। সৃষ্টি হবে অর্থনীতির গতি। তৈরি হবে নতুন সম্ভাবনা। ইতিমধ্যে ৭০ ভাগ বাধেঁর কাজ শেষ হয়েছে। পুরোপুরি শেষ হতে বছরখানেক সময় লাগবে। পুরোদমে কাজ এগিয়ে চলছে। এ প্রকল্পের কাজ শেষ হলে পাল্টে যাবে পুরো চিত্র।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

তরুণ সমাজকে মোবাইল ও মাদকের ভয়াবহ আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী

৩১ কিলোমিটার তীর রক্ষা বাঁধ দৃশ্যমান হওয়ায় লক্ষ্মীপুরে দুই উপজেলার লাখো মানুষের মাঝে স্বস্তি

আডেট সময় ১১:১২:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: ৩হাজার ১শ কোটি টাকা ব্যায়ে ৩১কিলোমিটার নদীর তীর রক্ষা বাঁধের কাজ দৃশ্যমান হওয়ায় লক্ষ্মীপুরে দুই উপজেলার লাখো মানুষের মাঝে ফিরেছে স্বস্তি। ইতিমধ্যে প্রকল্পের জায়গায় ভাঙ্গন প্রতিরোধ হওয়ায় বসতবাড়ি ও ব্যবসা-বানিজ্য নিয়ে আশার আলো জোগাচ্ছে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের। এতে করে খুশি তারা। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এই অঞ্চলের মানুষের জীবন যাত্রার মান পাল্টে যাবে। সৃষ্টি হবে অর্থনীতির গতি। ইতিমধ্যে ৭০ ভাগ বাধেঁর কাজ শেষ হয়েছে। পুরোপুরি শেষ হতে বছরখানেক সময় লাগবে। পুরোদমে কাজ এগিয়ে চলছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানায়: গত ৫০ বছর ধরে নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে লক্ষ্মীপুরে রামগতি,কমলনগর ও সদর উপজেলার মজুচৌধুরীর হাট এলাকার ৩৭ কিলোমিটার বেড়ী বাঁধ, হাজার হাজার বসতবাড়ী, ফসলী জমি, অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট ও স্বাস্থ্য কমপ্লে¬ক্্র সহ বিভিন্ন হাট বাজার নদী গর্ভে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। বসতভিটা ও সহায় সম্পদ রক্ষায় দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পর ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি কমলনগর উপজেলার সাহেবের হাট ইউনিয়নের মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় জিও ব্যাগ ডাম্পিং এর মাধ্যমে কাজ শুরু হয়। এর আগে ২০২১ সালের ১জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে ৩৩ দশমিক ২৬ কিলোমিটার নদী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প পাস হয়। এর ব্যয় ধরা হয় ৩ হাজার ৯০ কোটি টাকা। এটি বাস্তবায়নে একই বছরের আগস্টে ৯৯টি প্যাকেজ করে টেন্ডার আহ্বান করে ৪৩টি ভাগে সাড়ে বাধেঁর কাজ শুরু হয়। শুরুর চার মাস পর নানা অজুহাতে একাধিকবার কাজ বন্ধ করে দেয় ঠিকাদারগন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন সময় বাড়িয়ে পুরোপুরি দমে কাজ চলছে। ইতিমধ্যে ৭০ ভাগ কাজ শেষ হওয়ায় বাধ দৃশ্যমান হচ্ছে। এতে করে দুই উপজেলার প্রায় ৭ লাখ মানুষের মাঝে ফিরেছে স্বস্তি। বসতবাড়ি ও ব্যবসা-বানিজ্য নিয়ে আশার আলো জোগাচ্ছে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের। এতে করে খুশি তারা। দীর্ঘ ৪ যুগের বেশি সময় ধরে মেঘনার ভয়াবহ ভাঙ্গনের শিকার নি:স্ব পরিবারগুলো এখন স্বপ্ন দেখছেন, এই প্রকল্পের কাজ শেষে হলে আর পিছিয়ে পড়বেনা এই অঞ্চলের মানুষ এমনটাই প্রত্যাশা। তাই দ্রুত বাকী কাজ শেষ করার দাবী তাদের।

কমলনগর উপজেলার নবীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা নুরনবী ও মাহমুদ হোসেন জানান, গত চার যুগ ধরে ভাঙ্গনের শিকার হচ্ছি। তিনবার বসতভিটা হারিয়ে নি:স্ব হয়েছি। এখন বাঁধ হওয়ায় অনেক স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছি। দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পর বাধেঁর কাজ দৃশ্যমান হচ্ছে। ভাঙ্গনের কারনে সব সময় আতংকে দিন কাটাতে হয়েছে। তবে এখন বাধেঁর কাজ হওয়ায় বসতভিটা,ব্যবসা-বানিজ্য ও স্কুলে পড়–য়া সন্তানদের নিয়ে আরো হতাশায় থাকতে হবেনা। এখন নদী পাড়ের সবার মাঝে আশার আলো জোগাচ্ছে। স্বপ্ন দেখছে নদীপাড়ের বাসিন্দারা। এইভাবে পুরোদমে কাজ চলছে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আশা করেন বাসিন্দারা।

মতিরহাট এলাকার বাসিন্দা লিটন ও খালেক হোসেন বলেন, তীররক্ষা বাধঁ নিয়ে মানুষের অনেক স্বপ্ন ও ভরসা রয়েছে। প্রকল্পের কাজ ভালো হওয়ায় খুশি সাধারন মানুষ। বসত ভিটা ও শেষ সম্বলটুকু ভাঙ্গনের হাত রক্ষা পাওয়ায় দুই উপজেলার লাখো মানুষের মাঝে ফিরে এসেছে স্বস্তি। প্রকল্পের কাজ শেষে হলে আর পিছিয়ে পড়বেনা এই অঞ্চলের মানুষ। এসব বাধেঁ নানা উৎসবে হাজার হাজার মানুষের মিলন মেলা বসে। মানুষ এই নদী তীররক্ষা বাধঁকে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনাও দেখছেন বলে দাবী করেন। আবার অনেকেই এটাকে দ্বিতীয় কক্্রবাজার সমুদ্র সৈকত হিসেবেও মূল্যায়ন করছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাহিদ-উজ-জামান বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এই অঞ্চলের মানুষের জীবন যাত্রার মান পাল্টে যাবে। সৃষ্টি হবে অর্থনীতির গতি। তৈরি হবে নতুন সম্ভাবনা। ইতিমধ্যে ৭০ ভাগ বাধেঁর কাজ শেষ হয়েছে। পুরোপুরি শেষ হতে বছরখানেক সময় লাগবে। পুরোদমে কাজ এগিয়ে চলছে। এ প্রকল্পের কাজ শেষ হলে পাল্টে যাবে পুরো চিত্র।