ঢাকা ০২:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টার্গেট কিলিংয় আতঙ্ক: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কোথায়, বিচারহীনতার দায় কার ? কমলনগরে স্ত্রীর ভিডিও প্রকাশ নিয়ে বিরোধ, কিল-ঘুষি দিয়ে বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগ রুমিনের অভিযোগ নিয়ে যা বলেন ওসি মনজুর কাদের, আগের স্টেশনের কান্ডকীর্তি ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি,যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন আন্দোলনের হুংকার দিবেন না, হুংকার দিয়ে লাভ নেই,রাজপথ থেকে উঠা আসা দল বিএনপি: পানি সম্পদমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি লক্ষ্মীপুরে সারের ৫৭ ডিলারের ৪৫ জনই বিএনপি নেতা-কর্মী, বাদ পড়লেন পুরোনো ব্যবসায়ীরা লং মার্চ-রোড মার্চ করে সমাজে অশান্তির চেষ্টা করবেন, সেটা হতে দেয়া হবেনা: পানি সম্পদমন্ত্রী কাঁচাবাজারে আগুন: ‘জীবন এখন এক তরকারিতেই সীমাবদ্ধ, একাধিক কেনার সামর্থ্য নাই’ বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে এক পা হারায়: রায়পুরে দৃষ্টি প্রতিবন্ধি -বধির আবদুল মান্নানের মাতবেতর জীবন-যাপন

৮ বছর ধরে ময়লার ভাগাড় ‘স্বাগত’ জানিয়ে আসছে সীমান্ত এলাকায় !

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ০১:৪৪:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
  • 156

তাবারক হোসেন আজাদ:লক্ষ্মীপুরের রায়পুর ও চাঁদপুরের ফরিদগন্জ উপজেলার বর্ডার বাজার। এটি দুই জেলার সীমান্ত এলাকা। রায়পুর-ফরিদগঞ্জ সড়কের বর্ডার বাজারের উত্তর অংশে দুই জেলার সীমানায় একটি তোরণ আছে। ফরিদগঞ্জ থেকে রায়পুরে ঢুকতে তোরণে যে লেখা চোখে পড়বে তা হলো- ‘স্বাগত রায়পুর উপজেলা’।

আবার রায়পুর থেকে ফরিদগঞ্জের দিকে যাওয়ার সময় ‘ধন্যবাদ রায়পুর উপজেলা’ লেখা চোখে পড়বে। কিন্তু এ ‘ধন্যবাদ ও স্বাগত’ জানানো হচ্ছে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড় দিয়ে।স্বাগত তোরণের নিচে বর্জ্যের স্তূপ। গত ৮ বছর ধরে রায়পুর পৌরসভা ও হাটবাজারের ময়লা-আবর্জনা এখানে ফেলা হচ্ছে। ময়লার কারণে ভরাট হয়েছে সড়কের পাশে থাকা জলাশয়।

ময়লার স্তূপের কারণে ছাড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। দীর্ঘ বছর ধরে এমন পরিস্থিতি হয়ে এলেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয় না উপজেলা প্রশাসন। ওই স্থানটিকে দূষিত করার পেছনে রায়পুর পৌরসভাকে দায়ী করছে স্থানীয় লোকজন।তবে প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বলছেন- বর্জ্য রাখার জন্য নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় বাধ্য হয়ে ওই স্থানে ফেলতে হচ্ছে।

রায়পুর পৌরসভা সূত্র জানায়, প্রতিদিন রায়পুর পৌর এলাকা ও বিভিন্ন হাটবাজার থেকে ৮০ থেকে ১০০ টন বর্জ্য সংগ্রহ করে পৌরসভা। আর এসব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নির্দিষ্ট কোনো স্থান না থাকায় সেগুলো ফেলা হচ্ছে রায়পুর-ফরিদগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের বর্ডার বাজারের উত্তরপূর্ব পাশে।

স্থানীয় বাসিন্দা হামিদ আলি বলেন, এ স্থানটি দুটি জেলার সীমান্ত এলাকা। একটি জেলাকে স্বাগত ও আরেকটি জেলাকে বিদায় জানানো হয় এখান থেকে। কিন্তু এ স্থানটিকে বর্জ্য দিয়ে দূষিত করে রাখা হয়। এতে আমরা ফরিদগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দাদের বর্জ্য দিয়ে স্বাগত জানাচ্ছি। আবার বর্জ্য দিয়ে বিদায় দিচ্ছি। দায়িত্বশীল লোকজনের কাছ থেকে এমনটি আশা করে না এলাকাবাসী।

আরেক বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এখানে ময়লার স্তূপের কারণে নিচু জলাশয় ভরাট হয়ে গেছে। পাশেই একটি খাল রয়েছে। এখানকার ময়লা-আর্বজনা বিশেষ করে প্লাস্টিক বর্জ্য খাল হয়ে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে এখানকার পরিবেশ দূষিত হওয়ার পাশাপাশি দূরদূরান্তের পরিবেশও দূষিত হচ্ছে।

ফরহাদ হোসেন নামে আরেক ব্যক্তি বলেন, বর্জ্যের দুর্গন্ধে এ স্থান দিয়ে হাঁটা যায় না। শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। যানবাহনে যারা চলাফেরা করেন তারাও দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন।

শামছুন্নাহার নামে এক নারী (গৃহবধু) বলেন, প্রতিনিয়ত আমার বাচ্চাদের নিয়ে গাড়িতে করে এ স্থান দিয়ে বোয়ার্ডার বাজারে আসা-যাওয়া করি। এখান দিয়ে যেতে চরম দুর্গন্ধ অনুভব হয়। নাক চেপে ধরে রাখতে হয়।

রায়পুর পৌরসভার কঞ্জারভেন্সী পরিদর্শক রোমান পাঠান এই প্রতিবেদককে বলেন, পৌরসভার কোনো ডাম্পিং স্টেশন নেই। ডাম্পিং স্টেশনের জন্য পৌরসভার মালিকানাধীন জমি প্রয়োজন, সেটি নেই। বর্জ্য ফেলার জন্যও পৌরসভার নির্দিষ্ট স্থান নেই। তাই উপজেলার বর্ডার বাজার এলাকায় সড়কের পাশে বর্জ্য ফেলতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রায় ৮ বছর ধরে সেখানে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। সাবেক পৌর মেয়র ইসমাঈল খোকন ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ সেখানে বর্জ্য ফেলার জন্য জায়গাটি নির্ধারণ করে দিয়েছে।রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। আমরা ডাম্পিং ব্যাবস্থার চেষ্টা করছি।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

টার্গেট কিলিংয় আতঙ্ক: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কোথায়, বিচারহীনতার দায় কার ?

৮ বছর ধরে ময়লার ভাগাড় ‘স্বাগত’ জানিয়ে আসছে সীমান্ত এলাকায় !

আডেট সময় ০১:৪৪:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

তাবারক হোসেন আজাদ:লক্ষ্মীপুরের রায়পুর ও চাঁদপুরের ফরিদগন্জ উপজেলার বর্ডার বাজার। এটি দুই জেলার সীমান্ত এলাকা। রায়পুর-ফরিদগঞ্জ সড়কের বর্ডার বাজারের উত্তর অংশে দুই জেলার সীমানায় একটি তোরণ আছে। ফরিদগঞ্জ থেকে রায়পুরে ঢুকতে তোরণে যে লেখা চোখে পড়বে তা হলো- ‘স্বাগত রায়পুর উপজেলা’।

আবার রায়পুর থেকে ফরিদগঞ্জের দিকে যাওয়ার সময় ‘ধন্যবাদ রায়পুর উপজেলা’ লেখা চোখে পড়বে। কিন্তু এ ‘ধন্যবাদ ও স্বাগত’ জানানো হচ্ছে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড় দিয়ে।স্বাগত তোরণের নিচে বর্জ্যের স্তূপ। গত ৮ বছর ধরে রায়পুর পৌরসভা ও হাটবাজারের ময়লা-আবর্জনা এখানে ফেলা হচ্ছে। ময়লার কারণে ভরাট হয়েছে সড়কের পাশে থাকা জলাশয়।

ময়লার স্তূপের কারণে ছাড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। দীর্ঘ বছর ধরে এমন পরিস্থিতি হয়ে এলেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয় না উপজেলা প্রশাসন। ওই স্থানটিকে দূষিত করার পেছনে রায়পুর পৌরসভাকে দায়ী করছে স্থানীয় লোকজন।তবে প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বলছেন- বর্জ্য রাখার জন্য নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় বাধ্য হয়ে ওই স্থানে ফেলতে হচ্ছে।

রায়পুর পৌরসভা সূত্র জানায়, প্রতিদিন রায়পুর পৌর এলাকা ও বিভিন্ন হাটবাজার থেকে ৮০ থেকে ১০০ টন বর্জ্য সংগ্রহ করে পৌরসভা। আর এসব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নির্দিষ্ট কোনো স্থান না থাকায় সেগুলো ফেলা হচ্ছে রায়পুর-ফরিদগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের বর্ডার বাজারের উত্তরপূর্ব পাশে।

স্থানীয় বাসিন্দা হামিদ আলি বলেন, এ স্থানটি দুটি জেলার সীমান্ত এলাকা। একটি জেলাকে স্বাগত ও আরেকটি জেলাকে বিদায় জানানো হয় এখান থেকে। কিন্তু এ স্থানটিকে বর্জ্য দিয়ে দূষিত করে রাখা হয়। এতে আমরা ফরিদগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দাদের বর্জ্য দিয়ে স্বাগত জানাচ্ছি। আবার বর্জ্য দিয়ে বিদায় দিচ্ছি। দায়িত্বশীল লোকজনের কাছ থেকে এমনটি আশা করে না এলাকাবাসী।

আরেক বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এখানে ময়লার স্তূপের কারণে নিচু জলাশয় ভরাট হয়ে গেছে। পাশেই একটি খাল রয়েছে। এখানকার ময়লা-আর্বজনা বিশেষ করে প্লাস্টিক বর্জ্য খাল হয়ে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে এখানকার পরিবেশ দূষিত হওয়ার পাশাপাশি দূরদূরান্তের পরিবেশও দূষিত হচ্ছে।

ফরহাদ হোসেন নামে আরেক ব্যক্তি বলেন, বর্জ্যের দুর্গন্ধে এ স্থান দিয়ে হাঁটা যায় না। শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। যানবাহনে যারা চলাফেরা করেন তারাও দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন।

শামছুন্নাহার নামে এক নারী (গৃহবধু) বলেন, প্রতিনিয়ত আমার বাচ্চাদের নিয়ে গাড়িতে করে এ স্থান দিয়ে বোয়ার্ডার বাজারে আসা-যাওয়া করি। এখান দিয়ে যেতে চরম দুর্গন্ধ অনুভব হয়। নাক চেপে ধরে রাখতে হয়।

রায়পুর পৌরসভার কঞ্জারভেন্সী পরিদর্শক রোমান পাঠান এই প্রতিবেদককে বলেন, পৌরসভার কোনো ডাম্পিং স্টেশন নেই। ডাম্পিং স্টেশনের জন্য পৌরসভার মালিকানাধীন জমি প্রয়োজন, সেটি নেই। বর্জ্য ফেলার জন্যও পৌরসভার নির্দিষ্ট স্থান নেই। তাই উপজেলার বর্ডার বাজার এলাকায় সড়কের পাশে বর্জ্য ফেলতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রায় ৮ বছর ধরে সেখানে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। সাবেক পৌর মেয়র ইসমাঈল খোকন ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ সেখানে বর্জ্য ফেলার জন্য জায়গাটি নির্ধারণ করে দিয়েছে।রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। আমরা ডাম্পিং ব্যাবস্থার চেষ্টা করছি।