ঢাকা ০৮:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
লক্ষ্মীপুরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ লক্ষ্মীপুরে পুকুরে ডুবে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু লক্ষ্মীপুরে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ১ কোটি ১ লাখ টাকার অনুদান তরুণ সমাজকে মোবাইল ও মাদকের ভয়াবহ আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী সেবার মান বাড়াতে ৫০ শয্যায় হাসপাতালকে ১০১ করতে খুব শিগগির দরপত্র আহ্বান করা হবে:স্বাস্থ্যমন্ত্রী লক্ষ্মীপুর ক্লাব লিমিটেডের তিন যুগ পুর্তি উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও গুণীজন সন্মাননা নেতৃত্বের কারণে আমরা অনেক পিছিয়ে গিয়েছি: পানিসম্পদ মন্ত্রী জিয়াউর রহমানের মতো সৎ ব্যক্তি বাংলাদেশের ইতিহাসে আর সৃষ্টি হয়নি: জেলা যুবদল সভাপতি ২০২৭ সালে ৩১ কোটি নতুন বই বিতরণ ও ইতিহাস বিকৃতি রোধের ঘোষণা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী মেয়েটি নিজেই এমপি গাজী নজরুলকে সেবা করতে চেয়েছিল: দাবি জামায়াতের এমপির

বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে ধরা পড়ল ‘সিংহ ফিস ‘

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ১১:০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
  • 47

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি।পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন গভীর বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ সিংহ ফিশ (Lionfish) । লাল, সাদা ও মেরুন রঙের আড়াআড়ি ডোরা
শরীর জুড়ে লম্বা লম্বা পাখনা ও বিষাক্ত কাঁটা। দেখতে খুব সুন্দর কিন্তু বিপদজনক। এই মাছটি স্থানীয়ভাবে ‘এরোপ্লেন মাছ’ নামেও পরিচিত।

রোববার (১২ জুলাই) বিকালে মাছটি আলিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ‘মায়ের দোয়া ফিস’ আড়তে নিয়ে আসা হয়। এর আগে, শনিবার গভীর রাতে সমুদ্রের ৭০ কিলোমিটার দুরে ‘এফবি জাবের’ নামের একটি ফিশিং ট্রলারের জেলের জালে ৭’শ ৫০ গ্রামের ওজনের এই সুন্দর মাছ দুটি ধরা পড়ে। মাছটি দেখতে  উৎসুক জনতা ভিড় করে। তারা বলেন এত সুন্দর মাছ কখনো দেখিনি। খবর পেয়ে মাছটি দেখতে এসেছি ভালোই লেগেছে।

ট্রলারের মাঝি মো. আসাদ বলেন, ‘গভীর রাতে জাল টানতে ছিলাম হঠাৎ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের সঙ্গে এটি জালে আটকা পড়ে। আগে কখনো এমন মাছ দেখিনি। রঙিন মাছ দুটি এরোপ্লেনের মতো দেখতে। মনে হয় পানির উপরে উড়ে চলে।

মায়ের দোয়া ফিসের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ সোহাগ বলেন, ‘এ ধরনের মাছ সাধারণত এই উপকূলীয় এলাকায় পাওয়া যায় না। মাছ দুটি ক্রেতা ছগির আকনের এর কাছে পাঁচ হাজার টাকা কেজি দরে ৩ হাজার ৭’শ ৫০ টাকায় বিক্রি করেছি। ক্রেতা ছগির আকন বলেন, মাছটি দুটি দেখতে খুব সুন্দর আকর্ষণীয়। এজন্য আমি কিনে নিয়েছি মাছটি সংরক্ষণ করে রাখবো।

‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের (ডব্লিউসিএস ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে পরিচালিত) গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, ‘এই মাছের ইন্দো-প্যাসিফিক মহাসাগর, লোহিত সাগর এবং আমাদের বঙ্গোপসাগরসহ বাংলাদেশের উপকূলে মাঝে মধ্যে জেলেদের জালে ধরা পড়ে। কোরাল রিফের আশেপাশে থাকে। এই মাছের পিঠের ১৮ কাঁটায় প্রচন্ড বিষ থাকে। খোঁচা লাগলে প্রচন্ড ব্যথা, ফুলে যাওয়াবমি, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘আমাদের উপকূলে এই মাছ সচরাচর দেখা যায় না। কাঁটা আর ভেতরের বিষাক্ত অংশ ফেলে দিলে মাংস খাওয়া যায়। আমেরিকা, ক্যারিবিয়ানে এটাকে “invasive species” হিসেবে ধরে খায়। মাংস সাদা ও সুস্বাদু। অ্যাকুরিয়ামের জন্য খুব দামি মাছ। কিন্তু সমুদ্রে এরা অন্য ছোট মাছ খেয়ে ফেলে, তাই পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

লক্ষ্মীপুরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে ধরা পড়ল ‘সিংহ ফিস ‘

আডেট সময় ১১:০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি।পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন গভীর বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ সিংহ ফিশ (Lionfish) । লাল, সাদা ও মেরুন রঙের আড়াআড়ি ডোরা
শরীর জুড়ে লম্বা লম্বা পাখনা ও বিষাক্ত কাঁটা। দেখতে খুব সুন্দর কিন্তু বিপদজনক। এই মাছটি স্থানীয়ভাবে ‘এরোপ্লেন মাছ’ নামেও পরিচিত।

রোববার (১২ জুলাই) বিকালে মাছটি আলিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ‘মায়ের দোয়া ফিস’ আড়তে নিয়ে আসা হয়। এর আগে, শনিবার গভীর রাতে সমুদ্রের ৭০ কিলোমিটার দুরে ‘এফবি জাবের’ নামের একটি ফিশিং ট্রলারের জেলের জালে ৭’শ ৫০ গ্রামের ওজনের এই সুন্দর মাছ দুটি ধরা পড়ে। মাছটি দেখতে  উৎসুক জনতা ভিড় করে। তারা বলেন এত সুন্দর মাছ কখনো দেখিনি। খবর পেয়ে মাছটি দেখতে এসেছি ভালোই লেগেছে।

ট্রলারের মাঝি মো. আসাদ বলেন, ‘গভীর রাতে জাল টানতে ছিলাম হঠাৎ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের সঙ্গে এটি জালে আটকা পড়ে। আগে কখনো এমন মাছ দেখিনি। রঙিন মাছ দুটি এরোপ্লেনের মতো দেখতে। মনে হয় পানির উপরে উড়ে চলে।

মায়ের দোয়া ফিসের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ সোহাগ বলেন, ‘এ ধরনের মাছ সাধারণত এই উপকূলীয় এলাকায় পাওয়া যায় না। মাছ দুটি ক্রেতা ছগির আকনের এর কাছে পাঁচ হাজার টাকা কেজি দরে ৩ হাজার ৭’শ ৫০ টাকায় বিক্রি করেছি। ক্রেতা ছগির আকন বলেন, মাছটি দুটি দেখতে খুব সুন্দর আকর্ষণীয়। এজন্য আমি কিনে নিয়েছি মাছটি সংরক্ষণ করে রাখবো।

‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের (ডব্লিউসিএস ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে পরিচালিত) গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, ‘এই মাছের ইন্দো-প্যাসিফিক মহাসাগর, লোহিত সাগর এবং আমাদের বঙ্গোপসাগরসহ বাংলাদেশের উপকূলে মাঝে মধ্যে জেলেদের জালে ধরা পড়ে। কোরাল রিফের আশেপাশে থাকে। এই মাছের পিঠের ১৮ কাঁটায় প্রচন্ড বিষ থাকে। খোঁচা লাগলে প্রচন্ড ব্যথা, ফুলে যাওয়াবমি, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘আমাদের উপকূলে এই মাছ সচরাচর দেখা যায় না। কাঁটা আর ভেতরের বিষাক্ত অংশ ফেলে দিলে মাংস খাওয়া যায়। আমেরিকা, ক্যারিবিয়ানে এটাকে “invasive species” হিসেবে ধরে খায়। মাংস সাদা ও সুস্বাদু। অ্যাকুরিয়ামের জন্য খুব দামি মাছ। কিন্তু সমুদ্রে এরা অন্য ছোট মাছ খেয়ে ফেলে, তাই পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।