ঢাকা ০৬:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রাইভেট হসপিটাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক এসোসিয়েশন লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার পূর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষনা চন্দ্রগঞ্জে মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার টার্গেট কিলিংয় আতঙ্ক: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কোথায়, বিচারহীনতার দায় কার ? কমলনগরে স্ত্রীর ভিডিও প্রকাশ নিয়ে বিরোধ, কিল-ঘুষি দিয়ে বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগ রুমিনের অভিযোগ নিয়ে যা বলেন ওসি মনজুর কাদের, আগের স্টেশনের কান্ডকীর্তি ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি,যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন আন্দোলনের হুংকার দিবেন না, হুংকার দিয়ে লাভ নেই,রাজপথ থেকে উঠা আসা দল বিএনপি: পানি সম্পদমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি লক্ষ্মীপুরে সারের ৫৭ ডিলারের ৪৫ জনই বিএনপি নেতা-কর্মী, বাদ পড়লেন পুরোনো ব্যবসায়ীরা লং মার্চ-রোড মার্চ করে সমাজে অশান্তির চেষ্টা করবেন, সেটা হতে দেয়া হবেনা: পানি সম্পদমন্ত্রী

বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে ধরা পড়ল ‘সিংহ ফিস ‘

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ১১:০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
  • 98

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি।পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন গভীর বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ সিংহ ফিশ (Lionfish) । লাল, সাদা ও মেরুন রঙের আড়াআড়ি ডোরা
শরীর জুড়ে লম্বা লম্বা পাখনা ও বিষাক্ত কাঁটা। দেখতে খুব সুন্দর কিন্তু বিপদজনক। এই মাছটি স্থানীয়ভাবে ‘এরোপ্লেন মাছ’ নামেও পরিচিত।

রোববার (১২ জুলাই) বিকালে মাছটি আলিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ‘মায়ের দোয়া ফিস’ আড়তে নিয়ে আসা হয়। এর আগে, শনিবার গভীর রাতে সমুদ্রের ৭০ কিলোমিটার দুরে ‘এফবি জাবের’ নামের একটি ফিশিং ট্রলারের জেলের জালে ৭’শ ৫০ গ্রামের ওজনের এই সুন্দর মাছ দুটি ধরা পড়ে। মাছটি দেখতে  উৎসুক জনতা ভিড় করে। তারা বলেন এত সুন্দর মাছ কখনো দেখিনি। খবর পেয়ে মাছটি দেখতে এসেছি ভালোই লেগেছে।

ট্রলারের মাঝি মো. আসাদ বলেন, ‘গভীর রাতে জাল টানতে ছিলাম হঠাৎ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের সঙ্গে এটি জালে আটকা পড়ে। আগে কখনো এমন মাছ দেখিনি। রঙিন মাছ দুটি এরোপ্লেনের মতো দেখতে। মনে হয় পানির উপরে উড়ে চলে।

মায়ের দোয়া ফিসের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ সোহাগ বলেন, ‘এ ধরনের মাছ সাধারণত এই উপকূলীয় এলাকায় পাওয়া যায় না। মাছ দুটি ক্রেতা ছগির আকনের এর কাছে পাঁচ হাজার টাকা কেজি দরে ৩ হাজার ৭’শ ৫০ টাকায় বিক্রি করেছি। ক্রেতা ছগির আকন বলেন, মাছটি দুটি দেখতে খুব সুন্দর আকর্ষণীয়। এজন্য আমি কিনে নিয়েছি মাছটি সংরক্ষণ করে রাখবো।

‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের (ডব্লিউসিএস ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে পরিচালিত) গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, ‘এই মাছের ইন্দো-প্যাসিফিক মহাসাগর, লোহিত সাগর এবং আমাদের বঙ্গোপসাগরসহ বাংলাদেশের উপকূলে মাঝে মধ্যে জেলেদের জালে ধরা পড়ে। কোরাল রিফের আশেপাশে থাকে। এই মাছের পিঠের ১৮ কাঁটায় প্রচন্ড বিষ থাকে। খোঁচা লাগলে প্রচন্ড ব্যথা, ফুলে যাওয়াবমি, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘আমাদের উপকূলে এই মাছ সচরাচর দেখা যায় না। কাঁটা আর ভেতরের বিষাক্ত অংশ ফেলে দিলে মাংস খাওয়া যায়। আমেরিকা, ক্যারিবিয়ানে এটাকে “invasive species” হিসেবে ধরে খায়। মাংস সাদা ও সুস্বাদু। অ্যাকুরিয়ামের জন্য খুব দামি মাছ। কিন্তু সমুদ্রে এরা অন্য ছোট মাছ খেয়ে ফেলে, তাই পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রাইভেট হসপিটাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক এসোসিয়েশন লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার পূর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষনা

বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে ধরা পড়ল ‘সিংহ ফিস ‘

আডেট সময় ১১:০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি।পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন গভীর বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ সিংহ ফিশ (Lionfish) । লাল, সাদা ও মেরুন রঙের আড়াআড়ি ডোরা
শরীর জুড়ে লম্বা লম্বা পাখনা ও বিষাক্ত কাঁটা। দেখতে খুব সুন্দর কিন্তু বিপদজনক। এই মাছটি স্থানীয়ভাবে ‘এরোপ্লেন মাছ’ নামেও পরিচিত।

রোববার (১২ জুলাই) বিকালে মাছটি আলিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ‘মায়ের দোয়া ফিস’ আড়তে নিয়ে আসা হয়। এর আগে, শনিবার গভীর রাতে সমুদ্রের ৭০ কিলোমিটার দুরে ‘এফবি জাবের’ নামের একটি ফিশিং ট্রলারের জেলের জালে ৭’শ ৫০ গ্রামের ওজনের এই সুন্দর মাছ দুটি ধরা পড়ে। মাছটি দেখতে  উৎসুক জনতা ভিড় করে। তারা বলেন এত সুন্দর মাছ কখনো দেখিনি। খবর পেয়ে মাছটি দেখতে এসেছি ভালোই লেগেছে।

ট্রলারের মাঝি মো. আসাদ বলেন, ‘গভীর রাতে জাল টানতে ছিলাম হঠাৎ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের সঙ্গে এটি জালে আটকা পড়ে। আগে কখনো এমন মাছ দেখিনি। রঙিন মাছ দুটি এরোপ্লেনের মতো দেখতে। মনে হয় পানির উপরে উড়ে চলে।

মায়ের দোয়া ফিসের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ সোহাগ বলেন, ‘এ ধরনের মাছ সাধারণত এই উপকূলীয় এলাকায় পাওয়া যায় না। মাছ দুটি ক্রেতা ছগির আকনের এর কাছে পাঁচ হাজার টাকা কেজি দরে ৩ হাজার ৭’শ ৫০ টাকায় বিক্রি করেছি। ক্রেতা ছগির আকন বলেন, মাছটি দুটি দেখতে খুব সুন্দর আকর্ষণীয়। এজন্য আমি কিনে নিয়েছি মাছটি সংরক্ষণ করে রাখবো।

‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের (ডব্লিউসিএস ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে পরিচালিত) গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, ‘এই মাছের ইন্দো-প্যাসিফিক মহাসাগর, লোহিত সাগর এবং আমাদের বঙ্গোপসাগরসহ বাংলাদেশের উপকূলে মাঝে মধ্যে জেলেদের জালে ধরা পড়ে। কোরাল রিফের আশেপাশে থাকে। এই মাছের পিঠের ১৮ কাঁটায় প্রচন্ড বিষ থাকে। খোঁচা লাগলে প্রচন্ড ব্যথা, ফুলে যাওয়াবমি, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘আমাদের উপকূলে এই মাছ সচরাচর দেখা যায় না। কাঁটা আর ভেতরের বিষাক্ত অংশ ফেলে দিলে মাংস খাওয়া যায়। আমেরিকা, ক্যারিবিয়ানে এটাকে “invasive species” হিসেবে ধরে খায়। মাংস সাদা ও সুস্বাদু। অ্যাকুরিয়ামের জন্য খুব দামি মাছ। কিন্তু সমুদ্রে এরা অন্য ছোট মাছ খেয়ে ফেলে, তাই পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।