ঢাকা ০৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টার্গেট কিলিংয় আতঙ্ক: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কোথায়, বিচারহীনতার দায় কার ? কমলনগরে স্ত্রীর ভিডিও প্রকাশ নিয়ে বিরোধ, কিল-ঘুষি দিয়ে বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগ রুমিনের অভিযোগ নিয়ে যা বলেন ওসি মনজুর কাদের, আগের স্টেশনের কান্ডকীর্তি ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি,যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন আন্দোলনের হুংকার দিবেন না, হুংকার দিয়ে লাভ নেই,রাজপথ থেকে উঠা আসা দল বিএনপি: পানি সম্পদমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি লক্ষ্মীপুরে সারের ৫৭ ডিলারের ৪৫ জনই বিএনপি নেতা-কর্মী, বাদ পড়লেন পুরোনো ব্যবসায়ীরা লং মার্চ-রোড মার্চ করে সমাজে অশান্তির চেষ্টা করবেন, সেটা হতে দেয়া হবেনা: পানি সম্পদমন্ত্রী কাঁচাবাজারে আগুন: ‘জীবন এখন এক তরকারিতেই সীমাবদ্ধ, একাধিক কেনার সামর্থ্য নাই’ বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে এক পা হারায়: রায়পুরে দৃষ্টি প্রতিবন্ধি -বধির আবদুল মান্নানের মাতবেতর জীবন-যাপন

রায়পুর ভূমি অফিস: আত্মসাতকৃত ১২ লাখ টাকা কোষাগারে জমা, ব্যবস্থাগ্রহণ প্রক্রিয়াধিন

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ০৯:৩৫:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • 93

স্টাফ রিপোর্টার: লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা ভূমি অফিসের আত্মসাতকৃত ১২ লাখ ৭ হাজার ৯শ’ ১০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত প্রধান সহকারী কাম-হিসাবরক্ষক জাহাঙ্গীর আলম ও সার্টিফিকেট পেশকার (নাজির) মোঃ নকিব হোসেন শান্ত এ টাকা জমা করেন। সম্প্রতি লক্ষ্মীপুরের হিসাব তত্ত্বাবধায়কের অডিটে তাদের আত্মসাতের ঘটনাটি বেরিয়ে আসে। দুজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাগ্রহণ প্রক্রিয়াধিন রয়েছে। দপ্তরগুলোতে আদান-প্রদানকৃত চিঠির কপি থেকে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এর আগে ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের চান্দিনা ভিটির একসনা লীজমানি বাবদ ১ লক্ষ ৯ হাজার একশ’ ৩০ টাকা ও ভি.পি লীজমানির নথি বাবদ ১০ লাখ ৯৮ হাজার ৭শ’ ৮০ টাকা আদায় করে কোষাগারে জমা না দিয়ে নিজেরা আত্মসাত করেছিলেন। এরপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসককে টাকা উদ্ধার ও সংশ্লিষ্ট দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। লক্ষ্মীপুরের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টবর মো. হাবিবুর রহমান গত ৪ অক্টোবর এক পত্রে রায়পুরের সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) ওই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করত: অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেন।

রায়পুরের সদ্য বিদায়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুতলানা গত ৯ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত প্রধান সহকারী কাম-হিসাবরক্ষক জাহাঙ্গীর আলম (বর্তমানে রামগতি উপজেলা ভূমি অফিসে কর্মরত) ও সার্টিফিকেট পেশকার (নাজির) মোঃ নকিব হোসেন শান্তকে টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। একই চিঠিতে সরকারি টাকা যথাসময়ে কোষাগারে জমা না করার কারণে কেনো তাঁদের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা-২০১৮ এর ৩ ধারা এর উপধারা (ঘ) (ই) মতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না সেজন্য জবাব দিতে বলেন।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্মীপুরের হিসাব তত্ত্বাবধায়ক মো. মনজুরুল আলম গত ৯ সেপ্টেম্বর লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক বরাবর প্রেরিত পত্রে উল্লেখ করেন, দুটি ডিসিআর বইয়ের মাধ্যমে জাহাঙ্গীর আলম ওই টাকা আদায় করেন। এ টাকা আত্মসাতের সাথে সার্টিফিকেট পেশকার (নাজির) মো. নকিব হোসেন শান্ত’র যোগসাজস রয়েছে। নকিব হোসেন আদায়ের ও জমার বিষয়ে উধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জুলাই-২০২৫ হতে জুন-২০২৬ পর্যন্ত সময়ে মিথ্যা বিবরণী দাখিল করে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে আত্মসাতে সহযোগিতা করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার গিয়েও জাহাঙ্গীর আলমকে তাঁর কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। বার বার মুঠোফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি ধরেননি। সার্টিফিকেট পেশকার (নাজির) মোঃ নকিব হোসেন শান্ত বলেন, জাহাঙ্গীর আলমকে বিশ্বাস করে আমি প্রতিমাসের টাকা প্রতিমাসে জমা হয়েছে মর্মে উপজেলা ও জেলা কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেই। আমি কোনো টাকা আত্মসাত করিনি। আমি আমার নোটিশের জবাব দিয়েছি। কর্তৃপক্ষ পরবর্তী বিষয়টি দেখবেন।

রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, টাকা ইতিমধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে। বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জানার জন্য লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহবুব হাসানকে ফোন ও মেসেজ দেওয়া হলেও তাঁরা কোনো উত্তর দেননি।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

টার্গেট কিলিংয় আতঙ্ক: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কোথায়, বিচারহীনতার দায় কার ?

রায়পুর ভূমি অফিস: আত্মসাতকৃত ১২ লাখ টাকা কোষাগারে জমা, ব্যবস্থাগ্রহণ প্রক্রিয়াধিন

আডেট সময় ০৯:৩৫:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা ভূমি অফিসের আত্মসাতকৃত ১২ লাখ ৭ হাজার ৯শ’ ১০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত প্রধান সহকারী কাম-হিসাবরক্ষক জাহাঙ্গীর আলম ও সার্টিফিকেট পেশকার (নাজির) মোঃ নকিব হোসেন শান্ত এ টাকা জমা করেন। সম্প্রতি লক্ষ্মীপুরের হিসাব তত্ত্বাবধায়কের অডিটে তাদের আত্মসাতের ঘটনাটি বেরিয়ে আসে। দুজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাগ্রহণ প্রক্রিয়াধিন রয়েছে। দপ্তরগুলোতে আদান-প্রদানকৃত চিঠির কপি থেকে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এর আগে ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের চান্দিনা ভিটির একসনা লীজমানি বাবদ ১ লক্ষ ৯ হাজার একশ’ ৩০ টাকা ও ভি.পি লীজমানির নথি বাবদ ১০ লাখ ৯৮ হাজার ৭শ’ ৮০ টাকা আদায় করে কোষাগারে জমা না দিয়ে নিজেরা আত্মসাত করেছিলেন। এরপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসককে টাকা উদ্ধার ও সংশ্লিষ্ট দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। লক্ষ্মীপুরের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টবর মো. হাবিবুর রহমান গত ৪ অক্টোবর এক পত্রে রায়পুরের সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) ওই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করত: অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেন।

রায়পুরের সদ্য বিদায়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুতলানা গত ৯ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত প্রধান সহকারী কাম-হিসাবরক্ষক জাহাঙ্গীর আলম (বর্তমানে রামগতি উপজেলা ভূমি অফিসে কর্মরত) ও সার্টিফিকেট পেশকার (নাজির) মোঃ নকিব হোসেন শান্তকে টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। একই চিঠিতে সরকারি টাকা যথাসময়ে কোষাগারে জমা না করার কারণে কেনো তাঁদের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা-২০১৮ এর ৩ ধারা এর উপধারা (ঘ) (ই) মতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না সেজন্য জবাব দিতে বলেন।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্মীপুরের হিসাব তত্ত্বাবধায়ক মো. মনজুরুল আলম গত ৯ সেপ্টেম্বর লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক বরাবর প্রেরিত পত্রে উল্লেখ করেন, দুটি ডিসিআর বইয়ের মাধ্যমে জাহাঙ্গীর আলম ওই টাকা আদায় করেন। এ টাকা আত্মসাতের সাথে সার্টিফিকেট পেশকার (নাজির) মো. নকিব হোসেন শান্ত’র যোগসাজস রয়েছে। নকিব হোসেন আদায়ের ও জমার বিষয়ে উধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জুলাই-২০২৫ হতে জুন-২০২৬ পর্যন্ত সময়ে মিথ্যা বিবরণী দাখিল করে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে আত্মসাতে সহযোগিতা করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার গিয়েও জাহাঙ্গীর আলমকে তাঁর কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। বার বার মুঠোফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি ধরেননি। সার্টিফিকেট পেশকার (নাজির) মোঃ নকিব হোসেন শান্ত বলেন, জাহাঙ্গীর আলমকে বিশ্বাস করে আমি প্রতিমাসের টাকা প্রতিমাসে জমা হয়েছে মর্মে উপজেলা ও জেলা কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেই। আমি কোনো টাকা আত্মসাত করিনি। আমি আমার নোটিশের জবাব দিয়েছি। কর্তৃপক্ষ পরবর্তী বিষয়টি দেখবেন।

রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, টাকা ইতিমধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে। বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জানার জন্য লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহবুব হাসানকে ফোন ও মেসেজ দেওয়া হলেও তাঁরা কোনো উত্তর দেননি।